,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় ২১ জানুয়ারী ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গন কাঁপানো মুক্তিযোদ্ধাদের

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আজ ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরা মুক্তিযোদ্ধাদের। সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করার জন্য সরকারী প্রজ্ঞাপন ও নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আজ ২১ জানুয়ারী আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সম্মুখীন হতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের। এরমধ্যে বেশ কিছু নামধারী মুক্তিযোদ্ধারাও রয়েছেন। আগৈলঝাড়া উপজেলায় ১৪জন মুক্তিযোদ্ধা নামধারীদেরও।

এরা হলেন- চৌদ্দমেধা গ্রামের জগদীশ মন্ডল, বড় বাশাইল গ্রামের রাবেয়া বেগম, বসুন্ডা গ্রামের আ: আজিজ মোল্লা, পশ্চিম সুজনকাঠি (মোল্লাপাড়া) গ্রামের আইউব আলী মৃধা, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের নাসিমা বেগম, বাগধা গ্রামের আ: রহমান মিয়া, নগরবাড়ি গ্রামের জিএম আবু বকর সিদ্দিক, পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের আমিরুন্নেছা বেগম, তালুকদার আ: আজিজ, মমতাজ বেগম, কালুপাড়া গ্রামের আ: সরদার, মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান মৃধা, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের আ: খালেক সরদার, ফুল্লশ্রী গ্রামের দাস সঞ্জয় কুমার। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে। এদের বিরুদ্ধে সম্মাণী ভাতা বন্ধ ও নাম অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য বিগত ২৯-০৪-২০১৪ ইং তারিখ মুক্তিযোদ্ধা সম্মাণী ভাতা বিতরণ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন ৪১জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

আজ ২১ জানুয়ারী আগৈলঝাড়া জেলা পরিষদ ডাকবাংলো হলরুমে ’৭১-র বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার, সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনাক্ত করবেন। তার সাথে উক্ত যাচাই-বাছাই কমিটিতে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মাণী ভাতা বিতরণ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি মো. লিয়াকত হাওলাদার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিনিধি মো. আবু তাহের, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক হাওলাদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রতিনিধি আ. রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতিনিধি আইউব মিয়া।

কমিটির নেতৃবৃন্দ যাচাই-বাছাই করার পরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করবেন। সেখানে সুপারিশকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে এতদিন ধরে নামধারী মুক্তিযোদ্ধা যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত সম্মাণী ভাতা পেয়ে আসছেন তাদের নাম বাদ হলে প্রাপ্ত সম্মাণী ভাতা ফেরৎ দিতে বাধ্য থাকবেন। আর নামধারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যারা চাকুরী করছেন তাদের সংশ্লিষ্ট চাকুরী থেকে প্রত্যাহার করাসহ এতদিন চাকুরীতে অর্জিত সমূদয় বেতনাদি সরকারী কোষাগারে ফেরৎ দিতে বাধ্য থাকবেন।

আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুনর্মূল্যায়নের জন্য নতুন আবেদন জমা পরেছে ২৪৯টি। আর ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫০৭জন। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য লাল মুক্তিবার্তা বই ও ভারতীয় তালিকায় যাদের নম্বর আছে তাদের যাচাই-বাছাই হবেনা। তবে তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে যাচাই-বাছাই হবে বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে। তালিকায় অন্তভর্’ক্তি করানোর জন্য উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কতিপয় প্রভাবশালী নেতা নামপ্রতি এক থেকে দু’লাখ পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিশ^স্তসূত্রে জানা গেছে। এখন সময়ের অপেক্ষা- টাকার বিনিময়ে না যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হবেন এসব বীর মুক্তিযোদ্ধারা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ