,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ভালুকায় কোকা-কোলা ফ্যাক্টরী উদ্বোধন

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: কোকা-কোলা কোম্পানির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেড বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বটলিং প্ল্যান্ট বা বোতলজাতকরণ কারখানা উদ্বোধন করেছে। এ দেশে কোম্পানির ৭৪ মিলিয়ন বা ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, কোম্পানির গুরূত্বপূর্ণ পার্টনার, গ্রাহক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোকা-কোলা কোম্পানি নতুন এই কারখানা স্থাপনে ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আর বাকি ১৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং পণ্য বিপণন ও বিপণন সংক্রান্ত কার্যক্রমে। ভালুকায় এই কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসায়ের অগ্রগতি ও স্থানীয় সমাজ বা জনগণের টেকসই উন্নয়নে কোকা-কোলার অব্যাহত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটল।
এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় সদ্য বিদায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। প্রাথমিকভাবে এই কারখানায় দুই ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। পণ্যগুলো হচ্ছে কোকা-কোলা, ফানটা ও স্প্রাইট এবং কিনলে পানি। এতে সরাসরি দেড় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে পরিবহন, ম্যানুফেকচারিং বা উৎপাদন ও প্যাকেজিং সাপ্লাইসহ গোটা ভ্যালু চেইন প্রক্রিয়ায় পরোক্ষভাবে আরো ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কোকা-কোলা একটি জনপ্রিয় ব্রান্ড। আজকের এই মহোৎসবে আমি সরকারের পক্ষ থেকে কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষকে তাদের এই নতুন ফ্যাক্টরি উদ্বোধন উপলক্ষে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি বরাবরই কোকা-কোলার ভক্ত এবং তা শুরু হয় ১৯৬৩/৬৪ সাল থেকে যখন আমি বিদেশে ছিলাম। কোকা-কোলার এই নতুন ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে সারা দেশে আরও বিস্তরভাবে কোকা-কোলা মানুষের আরও চাহিদা মেটাতে পারবে। এই মহৎ উদ্যোগকে আমি স্বাগত ও সাধুবাদ জানাই।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, আমি ধন্যবাদ জনাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে যার নিজস্ব হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ সরকারের সকল নিয়মনীতি মেনে দ্রুতার সাথে কোকা-কোলার নিজস্ব প্রথম ফ্যাক্টরি শুরু করার অনুমোদন দিতে পেরেছি। যেহেতু কোকা-কোলা মানসম্পন্ন পণ্য তৈরীতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাই আমার বিশ্বাস তাদের এই মহান উদ্যোগ তাদের আরও দ্রুততার সহিত সাফল্য বয়ে আনবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাননীয়া রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট বলেন, ‘‘আজকের এই কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্ব বোধ করছি। কোকা-কোলার এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের জনগণের সামনে ভালোভাবে জীবনযাপন ও জীবনযাপনের মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলো। এই কারখানায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন লোকেদের পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া ব্যক্তিরাও কাজের সুযোগ পাবেন। কোকা-কোলা এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রমাণ করল যে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যত বিনির্মাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে তারাও অংশীদার ও সারথী হতে চায়।’’

কোকা-কোলা কোম্পানির প্যাসিফিক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জন মারফি বলেন, ‘‘কোকা-কোলা কোম্পানি বাংলাদেশে এই বিনিয়োগকে হাল্কাভাবে নেয়নি। আমরা নানা কারণেই বাংলাদেশে এই কারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ কারণ হলো ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের ইতিবাচক মনোভাব এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের সহজলভ্যতা। বাংলাদেশের বর্তমান ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় একটি অপরিহার্য অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’’


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ