,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়া উন্নয়ন মেলার অধিকাংশ স্টলে ছিল না সহায়ক কোন তথ্য!

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৯ থেকে ১১ জানুয়ারি বিকেল পর্যন্ত চলা সরকারের উন্নয়ন মেলায় ৫টি ইউনিয়নে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এলাকার উন্নয়ন চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসনের ভালো আয়োজনের মধ্যে উন্নয়নের তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে হাতেগোনা কয়েকটি স্টল ছিল লক্ষণীয়। উন্নয়নের কোন তথ্য এবং কর্মকর্তারা স্টলে না থাকায় স্টলগুলো ছিল লোকজনহীন প্রায়।

এলজিইডি বিভাগের ২৫নং স্টলে একনজরে উন্নয়নের সকল তথ্য দর্শকদের জন্য উপস্থাপন করে তা তথ্য পুস্তিকা আকারে বিলি করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, শ্যামল চন্দ্র হাওলাদার এবং কার্য সহকারী এসএম আসাদুজ্জামান। উপজেলা প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেশ গঠণে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অংশ হিসেবে মাত্র ৭ বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠির সার্বিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ বছরে উপজেলায় মোট ৯০ দশমিক ৩০১ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

মেলার ১২নং স্টলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী মো. আবুল হোসেন জানান, তাদের দপ্তর থেকে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৩শ’ ২২ জন বিভিন্ন মেয়াদে ভাতা পাচ্ছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬শ’ ৮ জন অসহায় ও অসচ্ছল দু:স্থরা বয়স্ক ভাতার আওতায় রয়েছেন। বিধবা ভাতা ভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২শ’ ১৮ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হচ্ছে ৬শ’ ৯৪ জনকে। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার টানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা অসচ্ছল ৫শ’ ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মাণী ভাতা পাচ্ছেন। দলিত হরিজন সম্প্রদায়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা বৃত্তি পেয়ে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ২শ’ ৬০ জন এসিডদগ্ধ প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পেয়ে আসছেন।

এছাড়াও সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজারের বেশী লোক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এছাড়াও অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান, অভিভাবকহীন শিশুদের বেবীহোমে মাতৃস্নেহে লালন-পালন পরবর্তী পুনর্বাসন, এসিডদগ্ধ রোগীদের পুনর্বাসন ও ঋণ সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডর কথা তুলে ধরেন। মেলার ১১নং স্টলে নারী উন্নয়ন ফোরামের সভানেত্রী ও উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান মলিনা রানী রায়ের কাছে উপজেলার নারী উন্নয়নের চিত্র জানতে চাইলে তার স্টলে কোন তথ্য নেই, তবে পরে জানাবেন বলে জানান।

মেলার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার বিকেলে রাজিহার ও বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের ১৮নং স্টলে গিয়ে চেয়ারম্যান, সচিব কাউকে পাওয়া যায়নি। বকুল অধিকারী নামে একজন নারী নিজেকে বাকাল ইউনিয়নে পরিষদে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান। তার কাছে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তথ্য জানতে চাইলে তিনি কোন তথ্য দিতে পারেন নি। ওই স্টলে কোন তথ্যও ছিল না। একই অবস্থা বাগধা ও রতœপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্টলে। সেখানেও কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। স্টলের চেয়ারগুলো ছিল ফাঁকা। গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ২১নং স্টলে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে ওই স্টলের টেবিলে ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব ইমতিয়াজ লিমন প্রাপ্ত একাধিক মেডেল সাজানো ছিল। উপজেলা কৃষি অফিসের ২৩নং স্টলে গিয়ে অফিসের দায়িত্বশীল কাউকেই পাওয়া যায়নি।

কৃষি অফিসে কৃষি প্রধান আগৈলঝাড়া এলাকার বর্তমান সেচ মৌসুম বা কৃষি উপকরণের কোন তথ্য ছিলনা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের ১৭নং স্টলে ওই বিভাগের লোক থাকলেও উপজেলাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কোন তথ্য সেখানে ছিলনা। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় প্রচারপত্র বিলি করছিলেন তারা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল হক উপজেলার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন চিত্র মেলায় তুলে ধরেন। মেলার শেষ দিনে ১১ জানুয়ারি বিকেল ৪.১৫মি: মেলায় গিয়ে ৬নং স্টল ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৭নং স্টল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ২৭নং স্টল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। মেলা শেষ হওয়ার আগে বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে অনেক স্টল ভেঙ্গে নিতে দেখা গেছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ