,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়ালো যমুনা ব্যাংক

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া বরিশাল : বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ছয় বাংলাদেশীর মধ্যে বরিশালের আগৈলঝাড়ার রতনপুর ইউনিয়নের ছয়গ্রামের বাবুল ও সহিদুল হাওলাদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে যমুনা ব্যাংক লিঃ। গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর ‘সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাবুল ও সহিদুলকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে পরিবার’ শীর্ষক সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে যমুনা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে গতকাল রবিবার সকালে যমুনা ব্যাংক লি: এর বরিশাল জেলা শাখার এফএভিপি এ্যান্ড ম্যানেজার জিয়াউল হক নিহত বাবুল ও সহিদুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের বাবা আ. হাকিম হাওলাদার ও মা নূরজাহান বেগমের উপস্থিতিতে বাবুলের স্ত্রী শিরিন বেগম ও সহিদুলের স্ত্রী সালমা বেগমের হাতে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

এসময় নিহত বাবুলের ১০ম শ্রেণী পড়–য়া ছেলে মেহেদী হাসানকে ১ হাজার টাকা, ৭ম শ্রেণী পড়–য়া ছেলে ইউসুফকে ৫শ’ টাকা ও ৪র্থ শ্রেণী পড়–য়া মেয়ে হিমিকে ৫শ’ টাকা করে একত্রে তিন মাসের শিক্ষা বৃত্তির টাকা প্রদান করেন। এসময় নিহত সহিদুলের স্ত্রী সালমা বেগমকে একটি সেলাই মেশিন ও কাপড় ক্রয়ের জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেন। কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, এই শিশুরা যতদিন লেখাপড়া করবে ততদিন এই শিক্ষাবৃত্তি চালু থাকবে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষাবৃত্তির টাকা বর্ধিত হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের লিগ্যাল এ্যাডভাইজার সৈয়দ মোশারফ হোসেন টুবলু, ছয়গ্রাম স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির ইকবাল, সহকারী অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সানাউল ইসলাম, শিক্ষক আ. মান্নান, আলী হোসেন হাওলাদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহীন আকন, ফয়েজ শরীফ, সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় ব্যাংক কর্মকর্তা, নিহতর পরিবার ও স্থানীয়রা সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। এর আগে ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে নিহত বাবুল ও সহিদুলের স্ত্রীদের হাতে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকালে মাইক্রোবাস যোগে বাবুল (৪৭) ও তার ছোট ভাই সহিদুল (৩৬) সহ ১০ জন বাংলাদেশী দাম্মাম থেকে ৩শ’ কি.মি. দূরে কাজে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আল জুবাইল-ডাহারান সড়কে দূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বাবুল ও সহিদুলসহ ৬ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বাবুল স্যানিটারী মিস্ত্রী ও তার ছোটভাই সহিদুল টাইল্স মিস্ত্রীর কাজ করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে বাবুল গত ১০ বছর আগে ও সহিদুল এক যুগ আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। নিহত বাবুলের স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে এবং সহিদুলের স্ত্রী ও প্রাক-প্রাথমিকে অধ্যয়ণরত ২ মেয়ে রয়েছে। সৌদি আরবে ওই সড়ক দূর্ঘটনায় আগৈলঝাড়ার বাবুল ও সহিদুল, উজিরপুর উপজেলার জল্লা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার সাহাবুদ্দিন, পটুয়াখালীর বাচ্চু ও পাবনার রানাসহ ৬ জন নিহত হয়। ওই দূর্ঘটনায় রফিকুলের ভাই গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম সৌদি আরবের কাতিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে সাইফুল ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহর আন্তরিতায় দূর্ঘটনার ১৬ দিন পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দুই ভাইয়ের লাশবাহী দু’টি কফিন তাদের স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়। ওইদিনই নিহতদের নিজবাড়িতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ