,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

নাসিরনগরে হামলা: দায় নিতে হচ্ছে রসরাজকে!

লাইক এবং শেয়ার করুন

গত অক্টোবরে নাসিরনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা ও মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনায় উসকানির অভিযোগে আটক রসরাজ দাসের মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মতে, যেহেতু ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রসরাজের এবং যে ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও তার, সেহেতু তাকে (রসরাজকে) অপরাধের দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রসরাজের পাশে অনেকেই দাঁড়াতে চেয়েছেন, কিন্তু তার অবহেলার কারণে দেশের কতো বড় বিপদ হতে পারতো সেটা তারা ভেবে দেখেননি। ফলে এর দায় রসরাজকেই নিতে হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার রসরাজের জামিন শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ২৯ অক্টোবর বিকালে স্থানীয়রা তাকে ধরে মারধোরের পর পুলিশে দেয়৷ তবে সেই সময়ই তার ফেসবুক থেকে পোস্টটি ডিলিট করে ক্ষমাও চওয়া হয়৷ এরপর খবর ছড়িয়ে পড়লে ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামী দলের নেতারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ কয়েক শ’ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার এবং মন্দিরে হামলা চালায়। ৪ নভেম্বর আবারও নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে রসরাজের বিরুদ্ধে করা মামলাটির অগ্রগতি বিষয়ে গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজউদ্দিন ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার যে কোনও ডিভাইসের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব আমার নিজের। সেটি কে কিভাবে ব্যবহার করলো তা দেখার বিষয় না। আমরা এই লাইনেই এগোচ্ছি। আশা করি, ইতিবাচক ফল পাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকে অনেকেই বলার চেষ্টা করেছেন সে নিরপরাধ। কিন্তু কে কোথা থেকে পোস্ট করেছে এবং কখন ডিলিট করে দিয়েছে সবই বেরিয়ে এসেছে। একটি পোস্টই শুধু না, পরেও একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এখানে রসরাজের নিজের সতর্ক হওয়ার বিষয় ছিলো। যদি ধরেও নিই সে সতর্ক হতে পারেনি, তবু সেটার একটা শাস্তি আছে। আমরা দেড় মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। শিগগিরি আমরা তদন্ত শেষ করতে পারব বলে ধারণা করছি।’
রসরাজের আগামীকালের জামিন শুনানি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা অবশ্যই তার জামিন হোক তা চাইব না। দেশকে অশান্ত করতে কেউ এ ধরনের ঘটনা তৈরি করেছে কিনা সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো তা খুব বিপদজনক হতে পারতো।’
এদিকে রসরাজের জামিন শুনানির প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অজন্তা দেব রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রসরাজ বেশ কিছু দিন হলো কারাগারে আটক আছেন। তার মোবাইল ফোন কেউ ব্যবহার করেছেন বা যে কোনওভাবেই হোক ফেসবুক ব্যবহার করেছেন। যতদিন বিষয়টি সুরাহা না হচ্ছে ততদিন নিরাপরাধ মানুষটিকে আটক থাকতে হবে। আমরা সচেতনতা তৈরির কাজ করছি।’ শুনানির সময় তাদের প্রতিনিধিরা থাকবেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সহযোগিতার জন্য কয়েকজন থাকবেন। তবে আমরা ইভেন্টটা খুলেছি শুনানির দিনটি সামনে রেখে মানুষকে আরেকবার সব কিছু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।’


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ