,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

রাজাপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষককে হত্যার মামলা দায়ের, যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য প্রধান আসামী ॥

লাইক এবং শেয়ার করুন

রাজাপুর প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরের আমতলা বাজারে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালাম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৬। নিহতের ছেলে শামসুল আলম মুরাদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে রাজাপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রাজাপুরের সাতুরিয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা শাহ আলম ওরফে আলো এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে বাচ্চু মেম্বরকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আট জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাজাপুরের আমতলা বাজারে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ও যুবলীগ নেতা শামসুল আলমসহ ৮-১০জন এলাকা প্রভাবশালী ব্যাক্তি। এরপর হামলাকারীরাই আব্দুস সালামকে ভান্ডারিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভুয়া নাম পরিচয় দিয়ে ভর্তি করে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই তার স্বজনরা খবর পেয়ে ভান্ডারিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তাকে আহতাবস্থায় বাড়িতে নিয়ে  গেলে রাত আনুমানিক ৪টায় তার মৃত্যু হয়। হামলার ঘটনা সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম কিছু না বলতে পারার কারনে পরের দিন মঙ্গলবার সকালে ভান্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্জাদায় জানাজা দেয়ার প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। এসময় গত সোমবার রাজাপুরের আমতলা বাজারে তার ওপর হামলার ঘটনা প্রকাশ পায়। পরে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ তার মরদেহ হেফাজতে নিয়ে রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর মঙ্গলবার রাতে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলার কোন আসামীকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রাজাপুর থানার ওসি মুনীর উল গীয়াস জানান, মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আট জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশে একাধিক টিম কাজ করছে। আশাকরি দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
এদিকে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন আব্দুর রহিম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই সব আঘাতের জন্যই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা তা পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার শাহ আলম নান্নু ও ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আ. মান্নান বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনতিবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম হত্যার আসামীদের   গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবী জানাই। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করতে বাধ্য হবো।
এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে ঝালকাঠি থেকে ভান্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন তার স্বজনরা। বুধবার আসরবাদ ভান্ডারিয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রথম দফা ও নিজ বাড়ী শিয়ালকাঠি গ্রামে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে ।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ