,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ইউপি চেয়ারম্যান ও তারপুত্র থানা ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে ঝালকাঠির কীর্তিপাশা সংখ্যালগু পরিবারের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে-গুড়িয়ে

লাইক এবং শেয়ার করুন

মো:নজরুল ইসলাম,ঝালকাঠি::ঝালকাঠির কীর্তিপাশা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লা, তার ভাই যুবদল নেতা ই¯্রাফিল, পুত্র থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত মোল্লা ও র‌্যাবন মোল্লার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসী একটি সংখ্যালগু পরিবারের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে-গুরিয়ে দিয়ে ও মূল্যবান মালামাল, দলিলপত্র লুটপাট চালিয়ে ৭ লক্ষ্যাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। ভাংচুর ও লুটপাটের ২৪ ঘন্টা পরেও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করলেও ঝালকাঠির কৃতিসন্তান শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু অবগত হলে তার নির্দেশে জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. খান সাইফুল্লাহ পনির সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর তরুন কুমার কর্মকার ও শহরের কালী বাড়ী পূজা উদযাপন কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে নির্যাতিত পরিবারকে আস্বস্থ করেন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করানে।  
    পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের এ সংখ্যালঘু পরিবারটির ভিটা মাটি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি আ’লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ‘প্রানে বাঁচতে চাইতে দেশ ছেড়ে ভারত চলে যেতে’ হুকুম দেয়ায় তারা বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় ভিটেমাটি হারা এই সংখ্যালঘু পরিবারটির প্রধান সুখরঞ্জন ব্যাপারী ১৫ মে রবিবার সকালে তাদের প্রান রক্ষার জন্য ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
   জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন পরিদর্শন কালে জানাযায়, তারা ১১ টি পরিবার বাপ-দাদার শত বর্ষের ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। উক্ত সম্পত্তি জালজালিয়াতীর মাধ্যমে এলাকার মামলাবাজ খ্যাত নব্য আ’লীগ নেতা শুক্কুর মোল্লা ও তার ভাই যুবদল নেতা ই¯্রাফিল, পুত্র থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত মোল্লা ও র‌্যাবন মোল্লারা দীর্ঘ দিন ধরে দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ অবস্থায় পৈত্রিক সম্পত্তি ও দাদাদাদী, বাবা-মা সহ পূর্ব পুরুশের সমাধি রক্ষায় তারা আদালতের আশ্রয় নিলে ২০০৭ সালে ঝালকাঠি সাবজজ আদালত তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
    এ অবস্থায় ১৪ মে শনিবার সকাল ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লার নির্দেশে তার ভাই ই¯্রাফিল, পুত্র রাহাত মোল্লা ও র‌্যাবন মোল্লার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসী অগ্নেঅস্ত্র সহ কুড়াল, রামদা, ছেনা ও শাবল নিয়ে জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর বসতঘরে ডুকে ব্যাপক তান্ডব শুরু করে। সন্ত্রাসীরা এসময় ঘরের বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সকলকে টেনেহ্যোঁচরে বাইরে ছুরে ফেলে ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল সব বাইরে ফেলে দেয়।
    এমন কি শুক্কুর মোল্লার ভাই ই¯্রাফিল, পুত্র ছাত্রলীগ নেতা রাহাত মোল্ল ও র‌্যাবন ঘরের মধ্যে রক্ষিত স্বর্নালংকার, নগদ টাকা, মূল্যবান মালপত্র ও জমিজমার দলিলপত্র লুটে নেয়। তখন ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা উক্ত পরিবাররে টিনসেড দোতালা বসত ঘরটি সম্পূর্ন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এমন কি মাটির তৈরী ঘরের ভিটি কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মিশিয়ে ফেলার সময় তাদের হাতেপায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও তারা ভাংচুর অব্যহত রাখে। গত ১৫ মে রবিবার সকালে সুখরঞ্জন ব্যাপারী তাদের প্রান রক্ষার জন্য ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
      এ নির্যাতনের বিষয়টি শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপিকে জানানো হলে তিনি ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. খান সাইফুল্লাহ পনির কে বিষয়টির সত্যতা উদঘাট ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। রবিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় এড. খান সাইফুল্লাহ পনিরের নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর তরুন কুমার কর্মকার,ঝালকাঠি কালিবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রনব কুমার নাথ ভানু, সংখ্যলঘূদের নেতা বিপুল চক্রবর্তী, গোবিন্দ মোদক, যুগল পাল ও যুবলীগ নেতা রিয়াজ তালুকদার সহ সাংবাদিকবৃন্দ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। তারা নির্যাতিতদের সর্বত্মক আইনী সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন ও বিষয়টি শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপিকে অবগত করে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। এসময় খোলা আকাশের নীচে বসবাসকারী সংখ্যালগু পরিবারের সদস্যদের খাদ্য সহায়তার জন্য জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. খান সাইফুল্লাহ পনির নগদ ৫হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
   এ ব্যাপারে আ’লীগ সমর্থিত কীর্তিপাশা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আঃ শুক্কুর মোল্লার, তিনি সাবকবলা দলিল মূলে উক্ত জমি ক্রয় করার পর বিক্রেতারদের অংশিদার জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারী সাথে মামলা মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়। উক্ত মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা জজ আদলতের নাজির ও পুলিশ প্রশাসন শনিবার জমি বুঝিয়ে দিতে ঘটনাস্থলে যায় ও বেআইনী দখলদারদের উচ্ছেদ করে। তিনি নিজে ও তার পুত্ররা শনিবার ঝালকাঠিতে শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপির কর্মসূচীতে ছিলেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ