,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কোটিপতি রেজাউলের জালিয়াতির যত তথ্য! শিবিরনেতার আয়ের উৎস্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন?

লাইক এবং শেয়ার করুন

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি ঃ নাম রেজাউল করিম। কখনো ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, আবার কখনো সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। আবার কখনো কখনো তার নামে সেটে দেয়া পোষ্টারে এই দুই পরিচয়ই উল্লেখ দেখা গেছে। পড়েছেন বরিশাল পলিটেকনিকে। সবাই তাকে শিবির রেজাউল হিসেবেই চিনতো এক সময়। গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা এই রেজাউলের। বর্তমানে খুনসহ বেশ কয়েকটি মামলার কারণে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। অবস্থান করছেন লন্ডনে। আর সেখানে বসেই তার কিছু সহযোগিকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন ঝালকাঠীর রাজাপুরের সাতুরিয়া এলাকার কিছু কর্মকান্ড। ওই এলাকাতেই তার বাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রতিটি কর্মকান্ডকে ঘিরেই রয়েছে ব্যক্তিস্বার্থ। যেখানে স্বার্থ নেই সেখানে তার কোন কাজও নেই। যার দৃশ্যত কোন উপার্জন নেই। অথচ তিনি খরচা করে আসছেন কোটি কোটি টাকা।
জানা গেছে, ৯০/৯১ সালে এই রেজাউল রাজাপুরে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরপর রাজাপুর থেকে তিনি গিয়ে ভর্তি হন বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনে। সেখানে ছাত্র সংসদে শিবিরের ব্যানারে এজিএস নির্বাচিত হন। এই পদটিকে ব্যবহার করে তখন থেকেই তিনি শুরু করে অর্থ উপার্জন। অন্তত শ’খানেক বিভিন্ন সংগঠন দাড় করান তিনি। প্রত্যেকটি সংগঠনের আলাদা সীল, প্যাড তৈরী করে তা দিয়ে অনুদান সংগ্রহের নামে শুরু করেন চাঁদাবাজি। তখন তিনি বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই দান অনুদান, এমনকি; পাঠাগার ও ক্লাবের নামে বইপুস্তক সংগ্রহ করেন। অভিযোগ রয়েছে এসব বই পুস্তক ও দান-অনুদানের অর্থ রেজাউলের নিজের পেটেই ঢুকতো। যেসব সংগঠনের নামে অর্থ ও দান-অনুদান আদায় করা হতো বাস্তবে ওই সংগঠনের কোনই অস্তিত্ব ছিলো না। সংগঠনগুলো সীল-প্যাড সার্বক্ষণিক তার সাথেই ছিলো।
এক ব্যক্তির নামে মামলা দায়েরের পর বরিশাল থেকে বিতারিত হতে হয় রেজাউলকে। ওই মামলার বাদি ছিলেন রেজাউল। ঢাকায় এসে তিনি একটি গ্রুপ অব কোম্পানীর পিআরও হিসেবে যোগ দেন। সেখানেও ওই কোম্পানীর মালিককে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ আছে। ঢাকায় তিনি একটি হত্যা মামলার আসামী হন। এর কিছুদিন পরে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। অভিযোগ রয়েছে লন্ডনে গিয়েও তিনি তার পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেননি। সেখানেও নানা সংগঠনের নামে তিনি চাঁদাবাজি শুরু করেন। এদিকে, লন্ডনে এদেশের মুসলমানদের অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা বলে জাকাত আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে রেজাউলের নামে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই অর্থ দিয়েই তিনি রাজাপুরে তার বাবার নামে, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নামে ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলেন ।
বছর দু’য়েক আগেও তিনি মাঝে মধ্যে দেশে আসতেন। কিন্তু এখন আর আসছেন না। জানা গেছে লন্ডনে রেজাউলের প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে সেখানেও তিনি ঝামেলায় আছেন। বরিশালে এক বিশাল ভবন নির্মান করছেন বলে জানা গেছে। সাতুরিয়ায় এক ব্যক্তি খুনের ঘটনায় রেজাউল আসামী রয়েছেন। দেশে না আসলেও নিজের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি প্রায়ই সাতুরিয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেন। তার সহযোগিরা ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে তিনি টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রেখে নিজের গুরুত্ব জাহিরের চেষ্টা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশ-বিদেশে রেজাউলের দৃশ্যত কোন উপার্জন নেই। কিন্তু তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। এই টাকা কোত্থেকে আসলো তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। জানা গেছে, দেশীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার জন্যও তার একটি গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপকে দিয়ে তিনি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে থাকেন। যে কারণে তার আয়-ব্যয়েরও কোন হিসেব নেয় না সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

শিবিরনেতা রেজাউল করিম

শিবিরনেতা রেজাউল করিম


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ