,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সিলেট ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুরে রাত পোহালেই ভোট

লাইক এবং শেয়ার করুন

সিলেটের ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। রাত পোহালেই প্রবাসী আধ্যুসিত এই দুই উপজেলা শুরু হবে ভোট উৎসব। ইতিমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমকর্তার আশা করছেন শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্টিত হবে এই নির্বাচন। তবে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ভোটারদের মধ্যে রয়েছে অজানা আতংক।

এই দুই উপজেলা পরিষদে দলীয় প্রতীকে প্রথম বারের মত হলে ও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পরেনি ‍আওয়ামীলীগ। ফলে তাদের বহিষ্কারে ভোটের মাঠে দেখা দিয়েছে নানা নাটকীয়তা। ক্ষণে-ক্ষণে বদলাচ্ছে দৃশ্যপট। আর যেসব এলাকায় বিদ্রোহী নেই সেসব এলাকায় ‘চোখরাঙা’তে শুরু করেছেন নেতারা।

ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৩টি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ২০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৯টি সাধারণ ভোট কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনে সারা উপজেলা জুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। প্রতিটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১জন এসআই’র নেতৃত্বে ১২জন পুলিশ, ২জন পিসি এপিসি ও অস্ত্র সহ ১০জন আনসার থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে ১জন এসআই’র নেতৃত্বে ১০জন পুলিশ, ২জন পিসি এপিসি ও অস্ত্র সহ ১০জন আনসার। প্রতি ২টি কেন্দ্রের জন্য থাকবে একটি মোবইল টিম। প্রতি ৪টি কেন্দ্রের জন্য থাকবে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রতিটি ইউপিতে থাকবে একটি করে মোবাইল টিম।

তাজপুর, গোয়াবাজার, দয়ামীর, কুরুয়া, সাদীপুর, উমরপুর, বেগমপুর, বুরুঙ্গা সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য মোতায়েত থাকবে ৫ প্লাটুন বিজি। থাকবে ৪ প্লাটুন র‌্যাব, ৪ প্লাটুন আমর্ড পুলিশ বেটেলিয়ান, ২ প্লাটুন স্বসস্ত্র আনসার বেটেলিয়ান। প্রতিপি ইউপিতে থাকবেন একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রতি ২টি ইউপির থাবকেন একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৫০জনের একটি টিম থাকবে ওসমানীনগর থানায়।

ডিবি, ডিএসবি, এনএসআই,ডিজিএফআই ও র‌্যাবের গোয়েন্দা সহ সাদা পোষাকে বিপুল পরিমানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচনে ৫২টি কেন্দ্রে ৫২ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩১৪ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৬২৮ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োজিত থাবকেন। ৩১৪ টি বুথের ৬৫ হাজার ৫শ’ ১০জন পুরুষ ও ৬৪ হাজার ৩’শ ৪৭ জন নারী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ৪জন চেয়ারম্যান, ২জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৪জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে তাদের নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি নির্বাচিত করে ওসমানীনগর উপজেলার প্রথম নির্বাচনে ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকবেন।

জগন্নাথপুর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং আওয়ালীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ তিন জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা হলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আকমল হোসেন (নৌকা)। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান (ধানের শীষ), এবং আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা (আনারস)।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনকে অবাধ সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক নির্বাচনী এলাকায় নিয়োজিত থাকবেন।

জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ বছর পরে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিলেও অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালে সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউপির শাহারপাড়া কেন্দ্রে ফের ভোট গ্রহন হয়। ফের ভোট গ্রহনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসেন। কিন্তু তাঁর ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হলে তিনি তাঁর ৫ বছর মেয়াদের জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন রায়ের করেন। তাঁর রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে তাঁকে ৫ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ৫ বছর পূর্ণ হলে নির্বাচন কমিশন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৬ই মার্চ একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬৯২ ও নারী ভোটার ৮৩ হাজার ৮০৭ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ৮৭টি। এই ভোটারদের মধ্যে থেকে নিজেদের পক্ষে ভোট আদায় করতে দিনরাত মাঠ চষে গেছেন প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

উপজেলার মীরপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদেকুর রহমান সাদ বলেন, প্রাবাসী প্রার্থী না থাকায় টাকার ছড়াছড়ির প্রতিযোগীতা হবে না। এমনকি জয় নিশ্চিত করে আকাশ দিয়ে উড়াল দিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা কম রয়েছে। তাঁদেরকে জনগন সবসময় পাশে পাবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ