,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কত মানুষ আসে, আমার মেয়ে আসেনা কেনে?

লাইক এবং শেয়ার করুন

আমির হোসেন সাগর : সাথে আমার বুকের ধন চোখের মনি আদরের সন্তান খাদিজা আজ পর্যন্ত নিজের হাতে বাত তুলে খায়নি আমি নিজের হাতে খাওয়াই। আমার সেই পরাণের ধন এক মাত্র মেয়ে আজ নয় দিন হয়ে গেল বাড়ি ফিরে এলনা কেন?আমার মেয়েকে ঘরে এনে দাও কান্না জড়িত কণ্ঠে এমন আর্তনাদ করেন খাদিজার জন্মদানি মা। এদিকে সৌদিআরব প্রবাসী খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া বলেন আমি চাই না আর কারো ঘরে এই ঘটনা ঘটুক। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার মেয়ে টিকে একটি বার নিজ চোখে দেখে যান শরীরে দারালো অাচরে কত আঘাত কি করে সইবে আমার এই নিষ্পাপ মেয়েটা।

কান্না মাখা কণ্ঠে এমন কথাগুলো বললেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের পিতা প্রবাসী মাসুক মিয়া। সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের নিজ বাড়িতে সাংবাদিক আমির হোসেন সাগরের সাথে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা গুলো বলেন।

সরেজমিনে খাদিজার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নৃশংস হামলার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও আহাজারি থামছে না স্বজনদের। বাড়ির বাইরে থেকেই শোনা যাচ্ছে স্বজনদের আর্তনাদ। খাদিজার এই দুঃসংবাদ শুনে চীনে অধ্যায়নরত ভাই শাহীন এবং সৌদি আরব প্রবাসী বাবা মাসুক মিয়া ৬ অক্টোবর দেশে ফিরেছেন।

খাদিজার বড় ভাই শাহীন চীনের একটি বেসরকারি মেডিকেলে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সে জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে খাদিজার অবস্থান দ্বিতীয়। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর খাদিজা তাদের চোখের মনি। বর্তমানে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে সে পাঞ্জা লড়ছে।

খাদিজার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এখন খাদিজা ডান হাত ও ডান পা নাড়াতে ও মাঝে মাঝে চোখ খুলতে পারছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তিন/চারদিন না গেলে পুরো বিষয়টা বোঝা যাবে না। এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছি আমরা সবাই কখন আমার বোন কথা বলবে।শাহিন আরও বলেন আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা হামলাকারী নরপশু বদরুলের সর্বোচ্চ সাজা হোক দেশ বাসীর কাছে এই চাওয়া।

এদিকে খাদিজার পিতা মাসুক মিয়া মেয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন বলেন, ‘আর যে কোনো পিতার সন্তানকে এমন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দেখতে না হয়।’

৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর শাবি ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল আলম সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও রাতে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ