,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিশিষ্ট লেখক-সাংবাদিক : আজিজুল হক মানিক

লাইক এবং শেয়ার করুন

শায়খ তাজুল ইসলাম : আজিজুল হক মানিক একজন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে অর্জন করেছেন স্ককীয় খ্যাতি ৷ সিলেটের ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর রয়েছে স্মরণীয় ভূমিকা পাশাপাশি একজন সফল সমাজকর্মী হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা যায় ৷ একজন সুবক্তা হিসেবেও তাঁর রয়েছে বাড়তি পরিচয় ৷ যে কোন অনুষ্ঠানে গুরু গম্ভীর কন্ঠে তার বক্তব্য উপস্থাপন সকলের নজর কাড়ে ৷

সিলেট শহরের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান আজিজুল হক মানিক ৷ পিতা গ্রন্থাগার আন্দোলনের পথিকৃৎ, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের প্রাণ পুরুষ মুহম্মদ নূরুল হকের প্রথম পুত্র তিনি ৷ তাঁর মা বেগম নূরুন্নেসা হক এক বিদুষী মহিলা ও বিশিষ্ট লেখিকা ৷ পুরো পরিবারেই সাহিত্যের এক অনন্য আবহ ছড়িয়ে আছে ৷ দশ ভাই-বোনের প্রায় সবাই সাহিত্যের কোন না কোন শাখায় পদচারণা করছেন ৷ বড় বোন রোকেয়া খাতুন রুবী দেশের একজন বিশিষ্ট লেখিকা ও উচ্চ পদস্ত সরকারী কর্মকর্তা ৷ আরেক ভাই এনামুল হক জুবের সিলেটের বহুল প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাক’র বার্তা সম্পাদক ছিলেন পাশাপাশি একজন ছড়াকার হিসেবেও তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে ৷

আজিজুল হক মানিকের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে সাপ্তাহিক হক কথায় ৷ পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তাঁর অনেক ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ ও গল্প প্রকাশিত হয় ৷ তিনি দুটো গ্রন্থের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য মাসিক আল ইসলাহ’র সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন ৷

১৯৬০ সালের ১৬মে শহরের দরগামহল্লা ঝরণার পারে তাঁর জন্ম ৷ ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন ৷ ‘গোলাপকুঁড়ি’ নামের শিশু সংগঠনের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ৷ যা পরবর্তীতে ‘ফুলকুড়ি’-তে রুপান্তরিত হয় ৷

১৯৭৯ সালে মদন মোহন কলেজে ভর্তির পরেই তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে সামনের সারিতে চলে আসেন ৷ যুক্তিপূর্ণ জ্বালাময়ী বক্তৃতার কারণে খুব সময়ের মধ্যেই তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন ৷ ১৯৮২ সালে মদন মোহন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ৷ কলেজে থাকাবস্থায়ই আজিজুল হক মানিক সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন ৷

১৯৮১ সালে সাপ্তাহিক সিলেট কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর হাতে খড়ি ৷ পরবর্তীতে দৈনিক জালালাবাদ’র জন্মলগ্ন থেকেই পত্রিকার সাথে সস্পৃক্ত হন এবং বর্তমানে তিনি এ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৷

আজিজুল হক মানিক ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ পুনর্গঠনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন ৷ ১৯৮৭ সালে সংসদের প্রাণ পুরুষ মুহম্মদ নূরুল হক ইন্তেকাল করলে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয় ৷

পরবর্তীতে সাহিত্য সংসদের পাঠাগার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হলে এর মূল দায়িত্ব পালন করেন আজিজুল হক মানিক ৷তাঁর নেতৃত্বে একদল তরুণ এ পাঠাগারকে ডিউই ডিসিমেল পদ্ধতিতে রূপান্তর করে ৷তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সাহিত্য সংসদের পরিচালনা কমিটির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন ৷

লেখক সমাজকর্মীর পাশাপাশি একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবেও তাঁর আলাদা পরিচিতি গড়ে ওঠে ৷ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী আজিজুল হক মানিক শহরের ঐতিহ্যবাহী শাহজালাল জামেয়া স্কুল এন্ড কলেজে দীর্ঘদিন প্রভাষক ছিলেন ৷

ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জনক আজিজুল হক মানিক ৷ তাঁর স্ত্রী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্মে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী দিলওয়ারা বেগম বর্তমানে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ৷ তাঁর কন্যা নাজমুস সামাহ বিশিষ্ট শিশু শিল্পী হিসেবে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বহু পুরস্কার লাভ করেছে ৷মহান আল্লাহ তা’আলা এ কীর্তিমান লেখক-সাংবাদিকের নেক হায়াত ও কর্মময় জিন্দেগীতে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও অশেষ কল্যাণ দান করুন ৷


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ