,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গোলাপগঞ্জের চাঞ্চল্যকর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খালেদ হত্যা মামলার রায় আজ

লাইক এবং শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জের চাঞ্চল্যকর বিশ্ব বিদ্যালয় শিক্ষার্থী খালেদ হত্যা মামলায় রায় আজ ৩০ই আগস্ট। খালেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামী কবিরসহ অন্যান্য আসামী ফাহিম, কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন ও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য গৌছ উদ্দিন এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে আসামীরা ধরা পড়ে অনেকেই জামিন পেলেও কবির ও ফাহিম আজ পর্যন্ত জামিন পায়নি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর কবির পিতা সাইব উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য গৌছ উদ্দিন জামিনে মুক্তি পেলে বিগত ধার্য্য তারিখে তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া আজ সিলেট আদালত প্রাঙ্গনে খালেদুজ্জামানের সহপাঠীদের উদ্যোগে খুনীদের ফাঁশির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচীর পালন করা হবে।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালেদ হত্যার বিচারের দাবীতে বিগত ২০১৪ সালের জুলাই মাসের শেষ ও আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে গোলাপগঞ্জ ও সিলেট মহানগরে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। তখন গোলাপগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবীতে মাঠে নেমেছিল। কোন কারণ ছাড়াই একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে খুন করে তার লাশ নদীকে ফেলার ঘটনাকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না গোলাপগঞ্জের জনগণ। উত্তেজিত জনতা এক পর্যায়ে কবির ও তার পিতার পরিচালনাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

গোলাপর্গঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের নিমাদল পশ্চিমপাড়া গ্রামের ছালেহ আহমদ ছল্লুছ মিয়ার পুত্র সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র খালেদুজ্জামান খালেদ(২০) কে ২০১৪ সালে ২১ জুলাই বিয়ানীবাজার উপজেলার রামধা উত্তর চন্দগ্রামের সাইব উদ্দিনের পুত্র হুমায়ুন কবির (কবির) আমন্ত্রণ জানিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খালেদকে আটক রেখে ইফতারের পুর্ব মুহূর্তে অহেতুক তার সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে কবির ও তার বন্ধু গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী গ্রামের আব্দুস সত্তারের পুত্র ফাহিম আহমদ(২৫)’সহ ক’জন বন্ধু মিলে মারধর করে নাক-মুখ কস্টেপ দিয়ে মুড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে তারা ইফতার শেষে তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে খালেদের লাশ কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়।

চার দিন পর ২৫জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জের কাছে খালেদের লাশ কুশিয়ারা নদীতে ভেসে উঠলে আত্মীয়-ন্বজনরা সেখানে গিয়ে তার পরিচয় সনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানায় খালেদের বাবা ছালেহ আহমদ ছল্লুছ ঐদিনই কবির, কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন, ঐ এলাকার সাবেক মেম্বার গৌছ উদ্দিন, তাদের নিকটাত্মীয় মুকিত আল-মামুন, শিপলুসহ ৫/৬ জনকে আসামী দিয়ে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামী ধরতে ব্যাপক অভিযান চালায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে এক পর্যায়ে কবির ও তার পিতা আদালতে আত্মসমর্পন করলে কবির নিজে খুন করার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে কবিরের সহযোগী ফাহিমকে পুলিশ আটক করলে ফাহিমও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৭ মাস পর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জসীট প্রদান করে।

চার্জসীটভূক্ত অভিযুক্তরা হলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার উত্তর চন্দগ্রামের সাইব উদ্দিনের পুত্র হুমায়ুন কবির(২৫), মৃত বশারত আলী পুত্র কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন(৫০), গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুস সত্তারের পুত্র ফাহিম আহমদ(২৫), জকিগঞ্জ উপজেলার বিলেরবন গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের পুত্র মুকিত আল-মাহমুদ(২২), বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত জোয়াদ আলীর পুত্র গৌছ উদ্দিন(৫০), মামলার ১নং আসামী কবিরের মা রিনা বেগম(৪৫), বোন লাকি বেগম(২০) ও অপর বোন ফারজানা ডলি(১৯)। অন্যান্যরা জামিনে মুক্ত থাকলেও কবির, ফাহিম, কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন ও তার এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য গৌছ উদ্দিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আগামী ১৭আগস্ট এ হত্যা মামলায় রায় হবে বলে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়। এ ব্যাপারে খালেদের পিতা ছালেহ আহমদ ছল্লুছ মিয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ঘাতকরা কোন অপরাধ ছাড়াই তার নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যা করেছে। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উল্লেখ্য যে, গোলাপগঞ্জের চাঞ্চল্যকর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খালেদুজ্জামান খালেদ হত্যা মামলায় রায় প্রদানের তারিখ হিসাবে ১৭ই আগস্ট ধার্য্য ছিল। এ দিন রায় প্রদান না করে পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য্য করা হয়। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমেদ পাটোয়ারীর আদালতে রায় প্রদানের জন্য ৩০ আগসট মঙ্গলবার তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে মর্মে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ