,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বড়লেখা থেকে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্র গোলাপগঞ্জে উদ্ধার

লাইক এবং শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কালো পাঞ্জাবী সাদা পায়জামা পরিহিত ১২ বছরের বালক হঠাৎ দৌড়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে দোকানের তত্ত্বাবধায়কের হাতে একটি কাগজের টুকরায় লেখা নাম্বারে কল করার কথা বলে। এসময় স্থানীয় ভাষায় সে আরো বলে “আমারে ধরিয়া লইয়া যাইতোগি আছিল আব্বার নাম্বারো কল দেওক্কা”। এইটুকু বলার পরই ছেলেটি দোকানে রাখা ফ্রিজের উপর ঢলে পড়ে। অজ্ঞান অবস্থায় কিছুটা জ্ঞান ফিরলে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে এভাবেই বড়লেখা থেকে অপহরনকৃত এক মাদ্রাসা ছাত্র অপহরনকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসলে বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় গোলাপগঞ্জ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।

উদ্ধারকৃত ছাত্র বড়লেখা সফরপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ৩য় ছেলে আব্দুর রহমান (১২) তাদের মুল বাড়ী কানাইঘাট উপজেলার জুলাই গ্রামে। তাৎক্ষনিক রহমানের পুরোপুরি জ্ঞান না থাকায় এই ঘটনায় অপহরনকারীদের ব্যবহৃত গাড়ী বা চক্রের কাউকে আটক করা যায়নি। পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার সময় আব্দুর রহমান কথা বলতে পারলেও পুরোপুরি স¦াভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। যেভাবে অপহরন ও উদ্ধারঃ কিছুটা জ্ঞান ফিরে আসার পর আব্দুর রহমানের ভাষ্য থেকে জানাযায়, বুধবার আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজবাড়ী থেকে শিক্ষা প্রতিষ্টান বড়লেখা দক্ষিণভাগ আরেঙ্গাবাদ রশীদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আরোহন করে। গাড়ীতে উঠার পর আগে থেকে যাত্রীবেশে থাকা দুই অপহরনকারী আব্দুর রহমানের মুখ চেপে ধরে চোখে স্প্রে দেওয়ার চেষ্টা করে এসময় রহমান অপহরনকারীর হাতে কামড় দেয়।

রহমান চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে অপহরনকারীরা জোরপূর্বক কিছু একটা তার মুখে ঢুকিয়ে দেয় এরপর সে আর কিছু বলতে পারেনি। এদিকে রাত সাড়ে ৭টায় গোলাপগঞ্জ চৌমূহনী বাজার সংলগ্ন একটি সিএনজি গ্যাস স্টেশনে অপহরনকারীদের গাড়ীটি গ্যাস নেওয়ার লাইনে দাড় করিয়ে গাড়ীর ভেতরে রহমানকে পুরোপুরি অজ্ঞান ভেবে অপহরন কারীরা আশেপাশে হয়ত চা-পান খেতে যায়। ভাগ্যক্রমে রহমানের কিছুটা জ্ঞান ফিরলে সে গাড়ী থেকে নেমে পার্শ্ববর্তী বিলাল স্টোরে গিয়ে তার কাছে থাকা কাগজে একটি নাম্বার দিয়ে বলে “আমারে ধরিয়া লইয়া যাইতোগি আছিল আব্বার নাম্বারো কল দেওক্কা” একথা বলার পরপরই পুণরায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দোকান মালিক বিলাল আহমদ সংশ্লিষ্ট নাম্বারে কল করলেও নাম বলতে না পারায় তিনিও ধন্ধে পড়ে যান।

খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর প্রাথমিকভাবে চেষ্টা করে আব্দুর রহমানের কিছুটা জ্ঞান ফেরাতে সক্ষম হন। ঘুম ঘুম চোখে কোনরকম তার কাছ থেকে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে রহমানের পূণরায় ঐ নাম্বারে যোগযোগ করে বিস্তারিত খুলে বলেন সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। এরপর নিশ্চত হওয়া যায় ছেলেটি আব্দুর রহমান ও নাম্বারটি তার বাবা জসিম উদ্দিনের। বড়লেখা থেকে রাত ১১টায় রহমানের বাবা ও কানাইঘাট থেকে মামা ছুটে আসলে তাদের পরিচয় নিশ্চত হয়ে গোলাপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বিলাল আহমদ ও গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুর রহমান সুহেদের উপস্থিতিতে থাকে শনাক্ত করার পর তাদের জিম্মায় দেয়া হয়। আব্দুর রহমান আল কোরআনের ১৪ পারা হাফিজ বলে সে জানায়। রহমানের উপস্থিত বুদ্ধির ফলে ভাগ্যক্রমে সে অপহরনকারীদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ পরিবারে কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ