,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গোলাপগঞ্জে দূষ্কৃতিদের হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা পিনু পঙ্গু হওয়ার পথে

লাইক এবং শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জের ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ মনিরুল হক পিনু আজ জীবন যন্ত্রণায় ভোগে কঠিন সময় পার করছেন। দূষ্কৃতিকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পিনু এখন কোন রকমে বেঁচে আছেন। দূষ্কৃতিকারীরা প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে হামলা করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন,তবে তার বাঁ পা’টি কাজ করছে না। লাঠির সাহায্য নিয়ে এতদিন কোন রকমে চলাফেরা করে একটু সুস্থ হওয়ার পর আবার অসুস্থতা যেন বেড়েই গেছে। তার চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে ১লক্ষ টাকা দেয়া হলেও এ যাবৎ চিকিৎসা বাবত প্রায় ৫লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে পায়ের চিকিৎসা করতে আরও ৪/৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। সামর্থের অভাবে পিনু এখন আর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছেন না। জরুরি ভিত্তিতে পিনুকে ভারতের বেলুরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ডাক্তাররা পরমার্শ দিয়েছেন।

গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জ কায়স্থগ্রামের মৃত ফজলুল হকের বড় পুত্র মনিরুল হক পিনু। পরিবারের অন্যান্যরা যখন তাকে নিয়ে আশায় বুক বেধেছিলেন, ঠিক তখনই দূষ্কৃতিকারীরা পিনুকে পঙ্গু করে পরিবারের জন্য আর্শিবাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত করে দিল। স্থগিত জেলা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ান বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল হক পিনু ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির আতংক। সব সময়ই তিনি ছাত্রলীগকে সংঘঠিত করে রাজপথে ছিলেন জামায়াত-শিবির তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিয়ে কাজ করাই হচ্ছে তার অপরাধ।

২০১৩ সালের ৪নভেম্বর গোলাপগঞ্জ উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হেতিমগঞ্জে মনিরুল হক পিনুর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল বের হলে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এমনিতেই এর পূর্ব থেকে ঐ চক্র তাকে ঘায়েল করার জন্য নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। পরদিন ৫নভেম্বর পিনু বাড়ি থেকে হেতিমগঞ্জের উদ্দেশ্যে একটি রিক্সা যোগে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে  ৩টি মোটর সাইকেলে ৯জন সন্ত্রাসী এসে তাকে আক্রমণ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করলে গুরুতর যখম হয়। বিশেষ করে বা পায়ের হাটুর নিচের হাড় ও রগ কেটে যায়। দীর্ঘ প্রায় দু’মাস চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলেও জীবনের জন্য তার একটি পা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে পিনু আর স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারেন নি।

লাঠির সাহায্যে তাকে চলাফেরা করতে হয়। সম্প্রতি লাঠি ছাড়া চলাচল করতে গিয়ে দেখা যায় বাঁ পা’টি যেন কোন কাজ করছে না। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে পিনুকে ১ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি কারো কোন আর্থিক সহায়তা পাননি। এখন তার পা’টি ধীরে ধীরে সরু হয়ে অকেজো হওয়ার পথে। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন, দ্রুত চিকিৎসা করা সম্ভব না হলে বাঁ পা’টি এক সময় পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাবে। জরুরি ভিত্তিতে ভারতের বেলুরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার তারা পরামর্শ দিয়েছেন।

সিলেট সরকারী কলেজের বি.এ (পাস) তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র মনিরুল হক পিনু আজ জীবন যন্ত্রণায় ভোগছেন। যখন দেখেন তার সহপাঠী ও সহকর্মীরা স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে লাঠির সাহায্য নিয়ে চলাচল করতে হয়, বিষয়টি পিনুকে খুবই পীড়া দেয়। একদিকে নিজের জীবনকে রক্ষার জন্য সহায় সম্বল সব কিছু বিষর্জন দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন, অন্যদিকে দূষ্কৃতিকারীদের শাস্তির লক্ষে আদালতের বারান্দায় ঘন্টার পর ঘন্টা অসহায় হয়ে ব্যয় করতে হচ্ছে। পিনুর দায়ের করা মামলাটি বিচারের পর্যায়ে, দূষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে পিনুর মা মামলার বাদিনী ফৌজিয়া খানম কিছুটা হলেও সান্তনা পাবেন বলে প্রতিবেদককে জানালেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ