,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সাধারন মানুষ জিম্মি : নন্দীগ্রামে হলুদ সাংবাদিকের দাপটে প্রশাসনে তোলপাড়

লাইক এবং শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি: সাংবাদিক পরিচয়ে ও পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারন মানুষদের জিম্মি করে চাঁদাবাজী ও চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এধরনের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকসহ উপজেলা প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দফতর ও পুলিশ কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত বিব্রত হচ্ছেন। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি চায় সাধারন মানুষ। প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে গত ১৪ই আগষ্ট নন্দীগ্রাম পৌর শহরে দেখা করতে আসে ৩৫বছর বয়সী জেলার কাহালু উপজেলার বড়াইল গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা রাহেলা খাতুন ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মস্পিপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আতিকুর রহমানের(২০)।

বিষয়টি বুঝতে পেরে কয়েকজন হলুদ সাংবাদিকের নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু বখাটে যুবক দুজনের পথরোধ করে আর্থিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনতার সন্দেহ হলে স্বামী পরিত্যক্তা রাহেলা খাতুন ও যুবক আতিকুরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর থেকেই সাংবাদিক পরিচয়ে শুরু হয় চাঁদাবাজীর তেলেসমাতি। ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা নেয়ার পরেও সাংবাদিক পরিচয়ে পুনরায় চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে গতকাল বুধবার উপজেলা প্রেসক্লাবে প্রেমিক যুবক আতিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, স্বামী পরিত্যক্তা রাহেলা খাতুনের সাথে মোবাইল ফোনে দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রেমের সম্পকের্র সুবাদে গত ১৪ই আগষ্ট রাহেলা খাতুনের কথামত আমি নন্দীগ্রাম পৌর শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে দেখা করতে এসে দেখি রাহেলা খাতুন আমার বয়সে অনেক বড়।

দেখা হওয়ার পর রাহেলা খাতুনকে বড়বোন আখ্যায়িত করে কথাবার্তা বলছিলাম। আমাদের চলাফেরায় সন্দেহ হলে চাঁদাবাজ চক্র ও স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়ি। উপস্থিত জনতা আমাদের অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেয়। আমরা কোনো প্রকারে অসামাজিক কর্মকান্ড করিনি। খবর পেয়ে আমার চাচা খায়রুল ও সবুজ ঘটনাস্থলে আসলে পুলিশ এসে আমাদের সবাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আতিকুর অভিযোগ করে আরও বলেন, থানার মধ্যে আব্দুল বারীক, নাজমুল ও নাহিদ হাসান নামের ব্যক্তি এসে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রাহেলা খাতুনকে আমার সাথে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে রাহেলা খাতুনের মিথ্যা কথাবার্তা মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে আমার কাছে এসে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও টিভিতে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদটি প্রচার করার হুমকি দিয়ে তারা বলে, এই ভিডিও আর সংবাদ প্রকাশিত হলে তোমাদের ফাঁসি হবে, ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেক চাপাচাপি করে আমার কাছ থেকে নগদ ৫হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।

যা অনেকেই দেখেছে এবং জানেন। এরপর একঘন্টার মাথায় ওইসব ব্যক্তি আবারও থানার মধ্যে এসে আমার কাছে চাঁদা দাবি করলে আমি উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে স্থানীয় লোকজনের মুখে আমি জানতে পারি যে, আব্দুল বারিক, নাজমুল ও নাহিদ হাসান নামের ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজী করে আসছে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ওই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনাকে তিলকে তাল বানিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে সুনামধন্য সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দেয়। আর সেইসব সংবাদ দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজী করছে।

তাদের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। তবুও তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছে। আমি এই চাঁদাবাজদের শাস্তির দাবি করছি। উল্লেখ্য, গত ২০১৫সালের ৩০ডিসেম্বর পৌর শহরের দামগাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ফেরদৌস মিয়ার কাছে ১লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই সিন্ডিকেট। এঘটনায় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করে ভূক্তভোগী ফেরদৌস। মামলাটি বর্তমানে বগুড়া ডিবিতে তদন্তধীন রয়েছে। ওই চক্রটি পুলিশ প্রশাসনের ভাবমুর্তি করার উদ্যেশ্যে অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক পরিচয়ে থানার এসআই জালাল উদ্দিনের কাছে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পৌর এলাকায় পুলিশের নামে বিভিন্ন মিথ্যা গুজব সৃষ্টি করে পুলিশের ভাবমুর্তি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এদের বিরুদ্ধে থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার (এসআই) আকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেন। ওই চাঁদাবাজদের অত্যাচারে উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েছেন।

সাধারন মানুষ ওই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, সাধারন মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি সকল ধরনের অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাড়াতে হবে। কোনো ব্যক্তি পুলিশ ও সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে কারও কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। এপ্রসঙ্গে থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শতাধিক মৌখিক অভিযোগ করেছে। লিখিত অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা গ্রহন করা যাচ্ছেনা। একইপ্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. শরীফুন্নেসা বলেন, বিষয়গুলো আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ