,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গফরগাঁওয়ে ‘ চরআলগী গণহত্যা ‘ দিবস পালিত

লাইক এবং শেয়ার করুন

আবিদ হাসান,গফরগাঁও : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চরআলগী ‘ গণহত্যা দিবস ‘ পালিত হয়েছে |

১৫ ই নভেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর বাহিনী গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৩৫টি পাড়ায় নারকীয় তান্ডব চালায় | আগুন দিয়ে সাড়ে ১৪ শতাধিক বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও নির্বিচারে গুলি ও বেয়নেট দ্বারা ৬২ জন
নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞ থেকে বাদ যায়নি মসজিদের মুসল্লিসহ অবুঝ শিশুরাও।

জানা যায়, ১৪ নভেম্বর হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় গুপ্তচরের মাধ্যমে খবর পায় চরআলগীতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি অংশ যুদ্ধ করতে পার্শ্ববর্তী নান্দাইল সদরে চলে গেছে । আর এ সুযোগে ১৪ নভেম্বর শেষ রাতে পাক হানাদার বাহিনী রাজাকার মফিজ ও তার ছেলে বাবুলের সহযোগিতায় চরকামারিয়া এলাকা দিয়ে চরআলগী ইউনিয়নে ঢুকে । মুক্তিযোদ্ধারা খবর পেয়ে তাদের
প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কিন্তু লোকবল ও অস্ত্রের অভাবে হানাদার বাহিনীকেঠেকানো যায়নি | বাধ্য হয়ে তারা পিছু হটে পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ বাজারে আশ্রয় নেয়। আর পাক হায়েনার দল ঝাপিঁয়ে পড়ে ঘুমন্ত অসহায় চরআলগী’বাসীর উপর।

একদিকে গুলি অন্যদিকে আগুন। দিনমান চলে এ
তান্ডবলীলা। চরআলগী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে দিবসটি সম্পর্কে এমনই জানা যায়। হানাদার বাহিনী একদিনে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর চরাঞ্চলের সাড়ে ১৪০০ শতাধিক বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে গোটা এলাকাকে পরিণত করে বিরাণ ভূমিতে। এ তান্ডবলীলা চালানোর সময় পাক হায়েনার দল মসজিদ থেকে ধরে এনে আলিম উদ্দিন সরকার, আমির উদ্দিন মাস্টার, ইউনুস আলীসহ ৬২ জনকে বেয়নেট দিয়ে খুচিঁয়ে খুচিঁয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। আহত হয় আরো শতাধিক মানুষ । সে আহতদের মধ্যে অনেকেই বেচেঁ আছেন শরীরে ক্ষত ও দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে।

১৫ নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক এসকান্দর রোজ রিবেল বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও চরঅালগী গণহত্যা’র কোন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়নি আজো , যা ভীষন কষ্টদায়ক | স্বাধীনতার মাত্র ১ মাস পূর্বে চরআলগীবাসীর জীবনে যে লোমহর্ষক বর্বর ঘটনা ঘটেছিল তা আজো ভুলতে পারেনি
চরআলগী তথা গফরগাঁওবাসী।

দিবসটি উপলক্ষে চরআলগী ইউনিয়ন ও উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে |


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ