,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

৮ ডিসেম্বর ভালুকা মুক্ত দিবস

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ৮ ডিসেম্বর ভালুকা মুক্ত দিবস । ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার মুক্ত হয় ভালুকা। ১৯৭১ সনের ৭ মার্চের ভাষনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৭১ এর ১৭ এপ্রিল বৃটিশ ভারত সেনাবাহিনীর (অবঃ) সুবেদার তৎকালীন ভালুকা থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আফছার উদ্দীন আহমেদ মাত্র ১ টি  রাইফেল ও ৮ জন সদস্য নিয়ে মল্লিকবাড়ী বাজারে খেলু ফকিরের বাড়ীতে গোপনে মুক্তি বাহিনীর দল গঠন করেন।

অসীম সাহসীকতায় কয়েকদিনের মধ্যেই তার বাহিনী ভালুকা থানা দখল করে ১৫/১৬ টি রাইফেল ও একটি এল, এম, জি ও প্রচুর গোলা-বারুদ সংগ্রহ করে শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়। এর কয়েক দিনের মাথায় কাওরাইদ থেকে ক্ষীরু নদী দিয়ে ভালুকা থানায় আসার পথে পনাশাইল নামক স্থানে পাক বাহিনীর অস্ত্র ও গোলা- বারুদসহ একটি নৌকা মুক্তিযোদ্ধারা আটক করে প্রচুর অস্ত্রসস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরে ভারতের মেঘালয় হতে প্রশিক্ষন ও প্রচুর অস্ত্র-গোলা বারুদ নিয়ে আসার পর এটি একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয় এই বাহীনি। আফছার উদ্দীনের ৮ সদস্যের মুক্তিবাহিনীর দলটি সাড়ে ৪ হাজারে উন্নীত হয়ে এফ জে ১১ নং সেক্টরের ময়মনসিংহ সদর দক্ষিন ও ঢাকা সদর উত্তর সাব সেক্টর অধিনায়ক মেজর আফছার ব্যাটালিয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। যুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার রমজান আলীর তত্বাবধানে ৫ জন ডাক্তার ১০ জন সহকারী চিকিৎসক ও ৪ জন নার্সের সমন্বয়ে আফছার ব্যাটেলিয়ান হাসপাতাল নামে একটি ভ্রাম্যমান হাসপাতাল পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থার সহায়তায় এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভালুকার মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। ৭১ এর ২৫ জুন শুক্রবার সকাল হতে পরদিন শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভালুকা গফরগাঁও সড়কের ভাওয়লিয়াবাজু নামক স্থানে শিমুলিয়া নদীর পাড়ে পাক বাহিনীর সাথে দীর্ঘ ৩৬ ঘন্টা আফছার বাহিনীর একটানা যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ৮ম শ্রেনীর ছাত্র মল্লিকবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নান শহীদ হন এবং আহত হয় ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধারা নদীর পশ্চিম দিক থেকে একটানা দু’দিন সম্মুখ যুদ্ধ করায় শতাধিক পাক সেনা নিহত হয়।

এ যুদ্ধের খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, অল-ইন্ডিয়া রেডিও ও বিবিসি হতে ফলাও করে সম্প্রচার করা হয়। এই যুদ্ধের পর ভালুকায় পাক বাহিনীর ক্যা¤পটি শক্তিশালী করা হয়। স্থানীয় মুসলিমলীগ নেতারা এখানে গড়ে তোলে বিশাল রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর একটি শক্তিশালী ক্যা¤প। এসব রাজাকার আলবদররা ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে দিনের পর দিন হত্যা, নারী ধর্ষন, বাড়ী-ঘরে আগুন ও লুটপাট চালিয়ে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

আফছার বাহিনী বিভিন্ন সময়ে ভালুকা ক্যা¤েপ পর্যায়ক্রমে একাধীকবার আক্রমন চালিয়েছিলেন। এ ছাড়া আমলীতলাযুদ্ধ, বল্লা যুদ্ধ, ত্রিশাল, গফরগাঁও,ফুলবাড়ীয়া, শ্রীপুর, মল্লিকবাড়ী, মেদুয়ারীসহ বিভিন্ন স্থানে পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে আফসার বাহিনীর যুদ্ধ হয়। দীর্ঘ ৯ মাসের বিভিন্ন যুদ্ধে আফছার উদ্দীনের পুত্র নাজিম উদ্দীন সহ ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎ বরন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান দলিল এর ৯ম খন্ডে তাঁর বীরত্বগাথা রচিত হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মেজর আফছার বাহিনীর কাছে ভালুকা ক্যা¤েপর কয়েক হাজার রাজাকার আলবদর ও পাক সেনার আত্মসর্মপনের মধ্য দিয়ে ৮ ডিসেম্বর ভালুকা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভালুকা উপজেলা কমান্ড বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং মুক্তিযোদ্ধা জনতার বিজয় র‌্যালী, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আফসার বাহিনীর প্রধান মেজর আফসার উদ্দিন আহমদের কবর জিয়ারত, ভাষা সৈনিক মোস্তফা এম এ মতিনের কবর জিয়ারত, ভালুকা মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ