,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি বড়দিনের উপহার দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) #  বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় বড়দিনের সান্তাক্লজ, ট্রি ও ঘর সাজানোর নানান পণ্যসামগ্রী, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাহারী উপহারসহ কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি খেলনা সামগ্রী বিদেশে রফতানি করে বেশ সুনাম অর্জনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছেন প্রায় দু’হাজার দু:স্থ ও বিধবা নারীরা। বেসরকারি সে^চ্ছাসেবী সংস্থা মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি)’র উদ্যোগে আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রের নারীরা পরিত্যক্ত ডোবা কিংবা পুকুরের কচুরিপানা দিয়ে কাগজ এবং ওই কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন বড়দিনের সান্তাক্লজ, ট্রি ও ঘর সাজানোর পণ্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নানা উপহার সামগ্রী। ওই সংস্থার মাধ্যমে সৌখিন এসব খেলনা ও উপহার সামগ্রী ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। এখানকার তৈরি করা কচুরিপানার ওইসব সৌখিন উপহার সামগ্রী সর্বত্র ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে বিধবা, দু:স্থ ও অসহায় নারীরা খুঁজে পেয়েছে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজে গিয়ে কথা হয় ওই গ্রামের মনি বালার (৪৮) সাথে। কচুরিপানা আর বড়দিন এবার বিধবা মনি বালার জীবনে আশির্বাদ হয়ে এসেছে। মনিবালা কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি করা বড়দিনের সান্তাক্লজসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তৈরির সুনিপুণ কারিগরদের একজন। মনি বালার মত ওই এলাকার দু’হাজার অসহায় ও দু:স্থ নারীরা আগৈলঝাড়ায় এমসিসি’র ৫টি কেন্দ্রে কাজ করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। মনি বালা বলেন, অভাবের সংসারে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁেচছিলাম। গত দু’বছর পূর্বে এমসিসি’র তত্বাবধানে আমি কচুরিপানা দিয়ে কাগজ বানিয়ে বড়দিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাহারী উপহার ও খেলনা সামগ্রী তৈরি করে আজ তিনবেলা পেটপুরে খেতে পারছি।’ তিনি বড়দিনের সান্তাক্লজসহ ট্রি ও ঘর সাজানোর নানা পণ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাহারী উপহার ও খেলনা সামগ্রী তৈরির কাজ করছেন।
মনি বালার আরেক সঙ্গী বিধবা বিনা হালদার (৫০) ও বিধবা শিউলী বেগম (৪৭) বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস তৈরি করছি, সেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দেশ-বিদেশের খ্রিস্টিয় সম্প্রদায়ের লোকজনে শুভ বড়দিন পালন করে আসছেন। প্রতিদিন একেকজন নারী শ্রমিকেরা এখানে ৩ থেকে সাড়ে তিন’শ টাকা আয় করছেন।

এমসিসি’র কালুরপাড় বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্টের ম্যানেজার সজল কৃষ্ণ দত্ত জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ৫টি কেন্দ্রে প্রায় দু’হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশরাই হচ্ছেন স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা কিংবা দু:স্থ ও অসহায়। তিনি আরও বলেন, উপজেলার কালুরপাড়ের বিবর্তন, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ, বড়মগরার কেয়াপাম, নগরবাড়ির চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও বাগধা এন্টারপ্রাইজে প্রতিবছরই নতুন নতুন নকশার কাজ করা হয়। বড়দিনের সান্তাক্লজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ছোট্ট একটি পুতুল হাতে নিয়ে বলেন, আমাদের এখানে বেশ কয়েক প্রকারের সান্তা আছে! তিনি আরও বলেন, এবছর দেশব্যাপী তাদের এখানকার কচুরিপানার কাগজের তৈরি সান্তাক্লজসহ বড়দিনের অন্যান্য সৌখিন পণ্যসামগ্রী বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ