AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় প্রতিমা রং করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎ শিল্পীরা

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # শরতের কাশ ফুলের শ্বেতশুভ্রতা মনে করিয়ে দেয় বিপদনাশিনী দেবী দুর্গার আগমণী বার্তা। আর সেই শারদীয় উৎসবের অন্যতম দুর্গাপূজার প্রতিমা রং করতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রতিমা শিল্পীরা। পূজামন্ডপগুলোয় শেষ প্রস্তুতির কাজও চলছে পুরোদমে। শুরু হয়েছে চোখ ধাঁধানো মন্ডপ তৈরী, মঞ্চ প্রস্তুত ও দর্শণার্থীদের আকর্ষণের জন্য নানা পরিকল্পনার কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসব চলাকালীন সময়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পূজা অনুষ্ঠিত হয় আগৈলঝাড়ায়।

তাই প্রতিমা বানাতে ও রং করতে এখানকার মৃৎশিল্পীদের চোখে এখন ঘুম নেই। তাদের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হচ্ছে এই শরৎকাল। অধিকাংশ মন্ডপে প্রতিমার গায়ে মাটির শেষ প্রলেপ দেয়া শেষ হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই শেষ হবে রং-তুলির শেষ আঁচড়। পঞ্জিকামতে ৭ অক্টোবর দেবীর ঘোটকে আগমণ থেকে পূজা শুরু হয়ে ১২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে ঘোটকে গমণের মধ্য দিয়ে ৫ দিনের পূজার সমাপ্তি হবে। উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের পালপাড়ার প্রতিমা শিল্পীরা আগৈলঝাড়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও প্রতিমা নির্মাণে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১শ’ ৪২টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্তের গৈলা গ্রামের দাসের বাড়িতে দুর্গা প্রতিমায় রং করার সময় কথা হয় প্রতিমা শিল্পী শিহিপাশা গ্রামের জয়দেব পাল ও তার ছেলে সঞ্জয় পালের সাথে। তারা জানান, আগৈলঝাড়ার শিল্পীদের নির্মিত বিভিন্ন ধরণের প্রতিমা সুদৃশ্য হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় তাদের প্রতিমার চাহিদা রয়েছে। এবার তারা ২৫টি প্রতিমা তৈরীর অর্ডার পেয়েছেন। সঞ্জয়ের কাকা একই বাড়ির শিবু পাল পেয়েছেন ১৮টি ও মহাদেব পাল পেয়েছেন ১৪টি প্রতিমা তৈরীর অর্ডার। প্রতিমা নির্মাণে বিভিন্ন সাইজের জন্য তারা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নিচ্ছেন। কয়েক ধরণের প্রতিমা তৈরি করেন বলে জানান তারা।

প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ফ্রেম বানিয়ে খড়-কুটা আর বাঁশ দিয়ে একটি কাঠামো দাঁড় করানো হয়। তার উপরে মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু হয়। এরপর দেয়া বিশেষ ধরণের মাটির প্রলেপ। ওই প্রলেপ শুকানোর পর শুরু হয় রং এর কাজ। মুলত ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে মন্ডপগুলোতে শুরু হয় দেবীর আরাধনা ও পূজা। এর আগেই রং ও অলঙ্কারের কাজ শেষ করে প্রতিমাগুলো পূজার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর মন্ডপে চলে আলোকসজ্জার কাজ। তারা আরও জানান, সারাবছরই চলে বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কাজ। শুধু দুর্গা প্রতিমাই নয় এখানে কালী, লক্ষèী, বিশ্বকর্মা, সরস্বতী, বাসন্তীসহ সব পুজার প্রতিমাই তৈরি করা হয়। এসব প্রতিমা অর্ডার নিয়ে ও বাড়িতে তৈরী করে বিক্রি করা হয়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ