,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় প্রেমঘটিত কারণে যুবকের আত্মহত্যা

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সম্প্রতি ‘চুরির অপবাদে নির্যাতিত যুবকের আত্মহত্যা’ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে প্রশাসনের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা ও দালালচক্র। তারা প্রেমঘটিত কারণের প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে চুরির অপবাদে নির্যাতনের মুখরোচক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে স্বার্থ হাসিল করতে তৎপরতা শুরু করেছে।  

সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানা গেছে যে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের নির্মল হালদার বেশ কয়েক বছর পূর্বে মারা যান। বাড়িতে তার তেমন কোন সম্পদ না থাকায় তার বিধবা স্ত্রী ঊষা রাণী ছেলে নিতাই ওরফে বুলুকে নিয়ে বাপের বাড়ি ঐচারমাঠ এসে বসবাস শুরু করেন। পরিবারের অস্বচ্ছলতা সত্বেও স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন করে বুলু অসৎ সঙ্গে মিশে গাঁজা-ভাং খাওয়ার পাশাপাশি টুকটাক চুরি শুরু করে। এরমধ্যে গত ১২ এপ্রিল ঐচারমাঠ বাজারে সুশান্ত বালার স্টেশনারী দোকান চুরি হয়।

১৫ এপ্রিল ঐচারমাঠ সার্বজনীন কালীমন্দিরে বাৎসরিক কালীপূজার অনুষ্ঠানে নিতাই ওরফে বুলু গাঁজা খেয়ে মন্ডপে এলে কতিপয় তরুণ তাকে নিষেধ করলে সে তাদের গালিগালাজ শুরু করলে তাকে দু’চারজনে চড়-থাপ্পড় দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। মারধরের পরে সে কোন ডাক্তারের স্মরণাপন্ন বা হাসপাতালেও ভর্তি হয়নি। এরপর এনিয়ে আর কোন বাড়াবাড়ি হয়নি। এরমধ্যে বুলু পার্শ্ববর্তী দীঘিবালি গ্রামের এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। বুলুর মামাবাড়ির অধিকাংশ লোকেরই মস্তিষ্কবিকৃতি আছে। এমনকি বুলুর মায়েরও ওই রোগ রয়েছে এবং তাদের কোন সম্পত্তি না থাকায় ওই মেয়ে আর তার সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়নি। এরই ফলশ্রুতিতে গত ২৭ আগস্ট রাতে ঘরের পাশে গাবগাছে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়ে পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করে।

প্রকৃত বিষয়টি আড়াল করে ওই দালাল চক্রের ইন্ধনে পুলিশ কয়েকবার ওই গ্রামে হানা দিয়েছে। আর প্রকৃত তথ্য গোপন করে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা কল্পকাহিনী বানিয়ে আত্মহত্যার আগে বুলুকে শারীরিক নির্যাতনের কথা বলেছে। সাড়ে চারমাস পূর্বের ঘটনা বর্তমান সময়ের সাথে জুড়ে প্রশাসনের লোকজনের সাথে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ঐচারমাঠ গ্রামের শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বাড়ৈ, স্থানীয় রনজিত বিশ্বাস, মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও ঝন্টু বালাসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। সাড়ে চারমাস আগের মারধরের কি আলামত ওই রিপোর্টে আসে সেটা দেখা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ