,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় প্রভাবশালীদের খাল, নদী, দেবোত্তর ও সরকারী সম্পত্তি দখলের মহোৎসব

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারী জমি দখলের পর এবার নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া দখলের মহোৎসব চললেও প্রভাবশালী ওই দখলদারদের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করার সাহস নেই সাধারণ জনগণের। তাই দখলদারদের বাঁধা দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও বিভিন্নভাবে হয়রানির আশঙ্কায় চোখের সামনে মুখ বুজে দখলদারীত্ব সহ্য করতে হচ্ছে সর্বসাধারণের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সন্ধ্যা নদী শাখা পয়সা সদীর তীরে গড়ে ওঠা পয়সারহাট বন্দর ও সেতুর পূর্বপাড় দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। নদীর অংশ পাইলিং করে ইট-বালু দিয়ে ভরাটের মাধ্যমে অবৈধ দখল করে সেখানে ইট-বালুর ব্যবসা করছেন স্থানীয় বাদশা বক্তিয়ার। নদীর পশ্চিম পারে আশ্রায়ণ প্রকল্প সংলগ্ন ওয়াপদার জমি ও স্থানীয় হরেন্দ্র নাথ হালদারের জায়গা দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করে সেখানে বালুর ব্যবসা করে আসছে কাশেম সিকদারের ছেলে নজরুল সিকদার। হরেন্দ্র নাথের ছেলে অমৃত হালদার পৈতৃক জমি পুনরুদ্ধারের জন্য গত ১৭ আগস্ট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।Agailjhara newsদীর্ঘদিনেও সন্ধ্যা নদী খনন না করায় এবং সম্প্রতি ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ বাস্তবায়নরে খবরে নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চর ও বন্দরের সরকার ও দূর্বল হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের মহোৎসব চলছে। সমস্যা হচ্ছে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল ও সেচ মৌসুমে পানি সরবরাহেরও। তার উপর দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে নদী ভরাট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পয়সারহাট নৌ-বন্দর এলাকায় জেগে ওঠা চর ও হিন্দু সম্পত্তি দখল করে দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন আওয়ামীলীগ নেতা আবুল বাশার হাওলাদার। ওই নদীর বাগধা হাটে পূর্বপাড়ে নদী দখল করে পাকা ভবনের মার্কেট নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী কাদের মিয়া, মাওলা মিয়া ও আকবর মিয়া। এরা আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামের লোক পরিচয়ে এলাকায় দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছে। তবে ওসি তাদের চেনেন না জানিয়ে তার কথা বলে কেউ অন্যায় করতে চাইলে তাকে বেঁধে খবর দিতে বলেছেন তিনি। 

২০১৪ সালে উপজেলা সদর বাজারে পরপর দু’বার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। চোখের সামনে আগুনে দোকার পোড়ার দৃশ্য দেখলেও বাজারের গলি দখল করে নির্মাণ করা দোকানের ফলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি অগ্নিকান্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বন্দরের দোকান ও গলি নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লি¬ষ্টদের নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশকে অমান্য করে গলি দখল করে দোকান নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা বন্দরের পাইকারী মাছ বাজারের জন্য নির্মিত একমাত্র ঘাটলাটিও এখন দখলদারদের পাকা ভবনের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরেছে। উপজেলা সদর ছাড়াও ৫টি ইউনিয়নের সাহেবেরহাট, গৈলায় রথখোলার নামে দেবোত্তর রেকর্ডিয় জায়গা, ছয়গ্রাম বাজার, আস্কর কালীবাড়ি, দুশমীর হাট, বারপাইকা করিম বাজার, রামের বাজার, বাশাইল ওয়াপদাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের জায়গা প্রভাবশালী দখলবাজরা প্রশাসনের একটি মহলকে ম্যানেজ করে খাল ও সরকারী জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করে রাতারাতি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শতরূপা তালুকদার বলেন, আমি নতুন এসেছি, তাই অনেক কিছু জানিনা। আপনাদের মাধ্যমে নদী, খাল ও সরকারী জমি দখলের কথা জানলাম। আমি বিষয়টি তদন্ত করবো। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ