,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগৈলঝাড়ায় সার্ভেয়ার ভূয়া ম্যাজিস্ট্রেট সেজে উচ্ছেদ অভিযান

লাইক এবং শেয়ার করুন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) # সার্ভেয়ার যখন ম্যাজিস্ট্রেট তখন সেখানে আইনের কোন প্রত্যাশা অকল্পনীয়। তেমনি একটি ঘটনায় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শাহজাদা ভূয়া ম্যাজিস্ট্রেট সেজে বিনা নোটিশে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করেছে এক অসহায় পরিবারের দু’টি দোকান।

উপজেলা ভূমি অফিস ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাহাদুরপুর বাজারে বিমল হালদার ও রাজেন্দ্র হালদারের পৈতৃক সম্পত্তিতে দোকান তুলে ব্যবসা করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই দোকান ভিটির উপর কুদৃষ্টি পরে স্থানীয় অমিয় ভক্তসহ কতিপয় ভূমিদস্যুদের। বিষয়টি বিমল ও রাজেন্দ্র আঁচ করতে পেরে প্রতিপক্ষরা জোর করে জায়গা দখল করতে না পারে তার প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর গত ২৪ জুন আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান আগৈলঝাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।  উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমির দায়িত্বে থাকা তৎকালীন ইউএনও দেবী চন্দ (বর্তমানে বরিশাল জেলা পরিষদ সচিব) উভয়পক্ষকে ৮ আগস্ট তার আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। গতকাল সোমবার (৮ আগস্ট) ছিল হাজিরার নির্ধারিত দিন। শুনানীর নির্ধারিত দিনের আগেই অমিয় ভক্ত ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে আদালতের ধার্য তারিখের আগেই বিমল ও রাজেন্দ্রর দোকান উচ্ছেদ করেন।

সূত্র মতে, গত ১৩ জুলাই দুপুরে গৈলা ভূমি অফিস তহশিলদার মো. সোবহান মিয়া, সহকারী তহশীলদার মনির হোসেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার লিয়ার হোসেন ও সার্ভেয়ার শাহজাদা পুলিশের এএসআই শাহআলমকে নিয়ে ওই ভিটির ৩ শতক জমি উচ্ছেদ করেন। উচ্ছেদের সময় রাজেন্দ্র তাদের কোন নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানালে সার্ভেয়ার শাহজাদাতকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে উচ্ছেদের অর্ডার আছে বলে জানান তহশিলদার সোবহান। তড়িঘড়ি করে উচ্ছেদকারীরা উচ্ছেদ শেষ করে ওই স্থান ত্যাগ করেন। ওই ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।  

এব্যাপারে তহশিলদার সোবহানের কাছে উচ্ছেদের কোন অর্ডার আছে কিনা এবং কোন ম্যাজিস্ট্রেট সাথে ছিল কিনা ফোনে জানতে চাইলে তিনি চটে গিয়ে বলেন, আপনি ব্যাখ্যা চাইছেন কেন? অর্ডার ছিল, তাকে উচ্ছেদের জন্য ইউএনও দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। যার কাগজ সার্ভেয়ার লিয়ার হোসেনের কাছে রয়েছে। লিয়ার হোসেনকে ভূমি অফিসে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অফিসের ফাইলে এরকম কোন আদেশের কপি দেখতে পাওয়া  যায়নি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ