,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

পৈত্রিক ভিটায় ফিরতে পারছে না লিমনের পরিবার

লাইক এবং শেয়ার করুন

কাউখালী প্রতিনিধি ॥ র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন ও তার পরিবারকে এখনও আতঙ্ক তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। র‌্যাবের কথিত স্থানীয় সোর্স ইব্রাহিমের অত্যাচারে পুরো পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা শহরে  বাসস্ট্যান্ড গিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। এ সুযোগে ইব্রাহিম দখল করে নিয়েছে লিমনের একখন্ড জমি। দুর্ঘটনার সাড়ে ৫ বছর পার হলেও সাতুরিয়ার গ্রামের বাড়ীর পৈত্রিক ভিটায় ফিরতে পারছে না তারা। বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত সাহায্যের টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পেতে র‌্যাবের সোর্স ইব্রাহিম অতিষ্ট করে তুলেছে লিমনদের।

এদিকে র‌্যাবের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে করা লিমনের মা হেনোয়ারা বেগমের মামলার বিচারেও নেই অগ্রগতি। যদি সুবিচার পাওয়ার ব্যাপারে পুরো আশাবাদী বর্তমানে সাভার গনবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র লিমন হোসেন। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকালে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের কলেজ ছাত্র লিমন বাড়ীর কাছের মাঠ থেকে গরু আনতে যান। পথে স্থানীয় জমাদ্দার বাড়ীর সামনে র‌্যাব-৮ এর একটি দল আটক করে লিমনকে। কাঠালিয়া পিজিএস কারিগরি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী পরিচয় দেয় লিমন নিজেকে। ছাত্র পরিচয়ে আর করুণ আকুতী অগ্রাহ্য করে র‌্যাবের এক সদস্য লিমনের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে ফেলে যায়। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলে কৃত্তিম পা লাগানো হয়েছে। লিমন জানায় র‌্যাব তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মামলা করেছিল।

স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের সঠিক তথ্য প্রকাশে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় সেই মামলা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এখনও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। র‌্যাবের কথিত সোর্স ও র‌্যাবের দায়ের করা মামলার স্বাক্ষী ইব্রাহিমের হুমকি-ধুমকির কারণে নিজ গ্রামের বাড়ীর সাতুরিয়া ছেয়ে কাউখালী শহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। ইব্রাহিমের দাবী লিমনের পরিবার দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রচুর টাকা সাহায্য পেয়েছে। যা থেকে তাকে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। নচেত কাউকে বাড়ীতে আসতে দিবে না। এই সুযোগে লিমনদের একখন্ড জমিও দখল করে নিয়েছে ইব্রাহিম। টাকা চাইলে চাঁদাবাজীর মামলা হওয়ায় গ্রামের বাড়ী গেলে বিভিন্ন সময়ে ইব্রাহিম হামলা চালায় লিমনের মা ও বাবার উপর। অভিযুক্ত ইব্রাহিম সাংবাদিকদের জানায়, টাকা চাওয়া, হামলা, হুমকির অভিযোগ মিথ্যা। র‌্যাবের মামলায় স্বাক্ষী হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে এরকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসছে।

লিমন আরও জানান তার বড় ভাই সুমন সিঙ্গাপুরে থাকে। তার পাঠানো টাকায় সংসার চলে। তার পড়ালেখার খরচ হিসেবে কিছু অর্থ দেয় প্রথম আলো ট্রাষ্ট। তবে বইপত্র শিক্ষা উপকরণ ইত্যাদি কেনাকাটার খরচের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে খন্ডকালীন কাজ করেন তিনি। লিমনের আইনজীবি আক্তার সিকদার বলেন মামলাটি তদন্তের পর ২০১২ সালের ১৪ই আগষ্ট অভিযোগের সত্যতা মেলেনি মর্মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩০ আগষ্ট নারাজি আবেদন করেন বাদী। ২০১৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারীতে নারাজি খারিজ করেন আদালত।

একই বছরের মার্চে জজ কোর্টে ওই রায় পুর্নবিবেচনার আবেদন করা হয়। তখন আদালত অধিকতর শুনানির নির্দেশ দেন। ঝালকাঠি এডিশনাল জজ কোর্টে মামলাটির এখন শুনানি চলছে। শিগগিরই শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত জানাবেন আদালত। তবে সিদ্ধান্ত বাদীর পক্ষে না আসার শঙ্কাই বেশি। সবমিলে কলেজ ছাত্র পঙ্গু লিমনের নিরাপত্তার মা বাবার নিরাপত্তা, গ্রামের বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার শঙ্কা, ইব্রাহিমের দখলে নেওয়া সম্পত্তি ফেরত পাওয়া, মামরার রায় পক্ষে বিপক্ষে যাওয়া। জানমালের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন শঙ্কা আর আতঙ্ক এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে লিমনকে। লিমন হতাশাগ্রস্থ চেহারায় জানায় আমরা কি আদৌ বাড়ীতে ফিরতে পারব।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ