,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

মোর কপালে স্কুল নাই

লাইক এবং শেয়ার করুন

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥ যে বয়সে বই খাতা নিয়ে আব্দুর রহমানের স্কুলে থাকার কথা সহপাঠিদের সাথে খেলা ধুলার কথা সেই বয়সে সে লঞ্চের শ্রমিক। আট বছরের আব্দুর রহমানের ভাঙা কপাল। জীবনে স্কুলের বারান্দারও দেখা পায়নি সে । শিশু বয়সেই নানা বঞ্চনার মধ্যে রহমানকে বেড়ে উঠতে হয়েছে। শিক্ষার আলোহীন আব্দুর রহমানের এই কোমলমতি বয়সেই নিজের জীবন নিজেকেই কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে। অভাবের সংসারে জন্ম । তারপর মা ও বাবার বিয়ে বিচ্ছেদ শিশুটিকে চরম নিরাপত্তাহীন করে দেয়। শিশু রহমানের মা ও বাবা দুই জনেই আলাদা সংসার পেতে বেঁচে থাকলেও রহমানের কপালে ঘর মেলেনা। ঘরহীন  রহমান এখন ঢাকা – হুলারহাট রুটের রাজদূত-৭ লঞ্চের পেটেভাতের শ্রমিক ।
 
ভাগ্য বিড়ম্বিত আব্দুর রহমান জানায়, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার স্বরূপকাঠি গ্রামের দিনমজুর মো. রুস্তুম আলীর ছেলে সে। বাবা যেন থেকেও নেই। মায়ের সাথে বনিবনা ছিলনা। রহমানের ছোটবেলায় মা বাবাকে ছেড়ে যায়। আলাদা সংসার পাতেন। পরে বাবা আবার বিয়ে করে গ্রাম ছেড়ে ঢাকার সদরঘাটে কুলীর কাজ শুরু করেন। বাবা ও মা কেউ আর রহমানের খোঁজ নেয়না।  এদিকে গ্রামের বাড়িতে নানীর কাছে থেকে রহমান বড় হতে থাকে। বৃদ্ধা নানীর পক্ষে রহমানের পেটের ভাত জোগার করা সম্ভব হয়না। অভাবে পড়ে একবছর আগে  রহমান বাড়ি ছেড়ে চলে আসে। তারপর শিশু শ্রমের নানা কাজ করে দুমুঠো ভাতের সংস্থান শুর করে। রহমান বর্তমানে ঢাকা – হুলারহাট রুটের রাজদূত-৭ লঞ্চের  শ্রমিকের কাজ করে আসছে। দিনরাত লঞ্চে কাজ করে লঞ্চেই ঘুমিয়ে থাকে।

রহমান বলে. লেহা করতে মন চায়। আমাগো গেরামের বেকাক পোলাপাইন স্কুলে যায়। মায়ের কোলে ঘুমায় । মোর কপালডা পোড়া। মোর কপালে স্কুল নাই! মোরে দেহারও কেউ নাই।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ