,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কাউখালীতে দিনমজুর মানুষের মধ্যে ঈদ বস্ত্র ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ

লাইক এবং শেয়ার করুন

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধি ॥ মানুষের জন্য। কথাগুলো কেবল গানে আর মুখরোচক স্লোগানের মধ্যে বেশিরভাগ সময় সীমাবদ্ধ থাকে। কখনও কখনও সমাজের কিছু মানুষ তাদের কর্মকান্ডে এর যথার্থ প্রতিফলন ঘটাতে পারে। কেউ কেউ তাদের আর্থিক সংগতি দিয়ে অনেকে নিজ উদ্যোগে মানুষের জন্য মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার চেষ্টা করে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে কাউখালীর নিভৃত পল্লী থেকে বিভিন্ন জনপদে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দিনরাত ছুটে বেড়ান আলোকিত সাদামনের মানুষ সমাজসেবক আ. লতিফ খসরু। ঈদকে সামনে রেখে বেশিকিছুদিন ধরে অস্বচ্ছল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পথে নেমেছিলেন তিনি।

অবশেষে আ. লতিফ খসরু তার কাঙ্খিত অস্বচ্ছল মানুষদের খুঁজে বের করলেন। আজ বুধবার আ. ছোবাহান স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে ঈদকে সামনে রেখে ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি এই ব্রত নিয়ে উপজেলার ১২ জন দিনমজুর সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ঈদবস্ত্র ও ঈদ সামগ্রী হিসাবে সেমাই, চিনি, দুধ বিতরণ করেন। ঈদের সামগ্রীতে আমরাজুড়ী গ্রামের আ. জব্বার বলেন মোগো কেউ কোনসময় এইভাবে ঈদের জন্য কেউ কিছু দেয় নাই। আজ খসরু ভাই দেছে তাই আমরা খুব খুশি। এর আগে দিন ৫০ বছর ধরে নৌকা বাইছেন নেছারাবাদ উপজেলার সেহাঙ্গল গ্রামের ৮০ বছর বয়সী হানিফ মাঝি। নেছারাবাদ উপজেলার সেহাঙ্গল গ্রামে বাড়ী হলেও তার বেশিরভাগ সময় আসা যাওয়া কাউখালী বাজারে। এখন হানিফ মাঝি বয়সের ভাড়ে নুজ্জ কিন্তু নৌকার বৈঠা তিনি ছাড়েন নাই।

সেই যৌবনে তিনি যাত্রী পারাপারের জন্য বৈঠার হাল ধরেছিলেন। এখন যেন বৃদ্ধ হানিফ বলতে চান, মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না। যৌবনে এই অঞ্চলের হাটে বাজারে যাওয়া বিয়ে সহ আচার অনুষ্ঠানে হানিফ মাঝির প্রয়োজন ছিল বেশি। সকাল হলে কোন না কোন বাড়ী থেকে ডাক আসত হানিফের। কেউ শ্বশুড় বাড়ী, কেউ জামাই কেউ মেয়ে বাড়ী বেড়াতে যাবেন। আজ আর তার ডাক আসে না। ঈদকে সামনে রেখে সন্ধ্যা নদীর কচুয়াকাঠীর মোহনায় হতদরিদ্র এই হানিফ মাঝির হাতে ঈদ সামগ্রী ও ঈদ বস্ত্র তুলে দেন সামাজিক উদ্যোক্তা আ. লতিফ খসরু। হানিফ মাঝি বলেন, মুই প্রায়ই কাউখালী আই, এই ঘাটলায় চরণ দারের জন্য বইয়া থাহি। মোরে কেউ জিগায় না। কিন্তু আইজ বুধবার খসরু ভাই মোরে ঈদের জন্য লুঙ্গী, পাঞ্জাবী ও সেমাই, দুধ, চিনি দেখে হেইা পাই মুই খুব খুশি। সামাজিক উদ্যোক্তা আ. লতিফ খসরু বলেন, আমার স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য নাই তারপরও বন্ধু বান্ধবদের সহযোগিতায় তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। সমাজের অন্যকেউ এভাবে এগিয়ে আসবে এই চেতনা থেকেই মূলত আমার এই উদ্যোগ।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ