,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

জেলের ঘরে আলোর ঝিলিক মঞ্জিলা

লাইক এবং শেয়ার করুন

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥ প্রায়ই ওদের ঘরে খাবার থাকত না। তাইতো না খেয়ে রাতে পড়তে বসতে হতো মঞ্জিলাকে। অনেক দিন না খেয়েই স্কুলে যেতে হতো হতদরিদ্র মঞ্জিলাকে। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১নম্বর সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ধাবড়ী গ্রামের মঞ্জিলার বাবার পক্ষে কোন সময় চাল কেনার পয়সাও জোগার করা সম্ভব হতো না। জেলে বাবার পক্ষে দুবেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খেতে হয়। এরই মধ্যে তিন সন্তানের লেখা-পড়ার খরচ যোগান।

এমন অবস্থায় ওদের শ্রমিক হওয়ার কথা কিন্তু অদম্য মেধাবী মঞ্জিলার বেলায় তা ঘটেনি। শত বাধা পেরিয়ে উপজেলা সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ইজিএস শিক্ষা নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলের শিক্ষকরা জানালেন, একদিনের জন্যও স্কুল ফাকি দেয়নি মঞ্জিলা। পড়াশুনায় সে ছিলো ভিশন মনোযোগী। তারই ফল পেয়েছে সে। উপজেলার মঞ্জিলা জিপিএ-৫ পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাকে এখন আলোর ঝিলিক বলে ডাকে। মঞ্জিলা বলেন বাবা ও মা স্কুলের সব খরচ জোগার করতে পারে নাই। তবে স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে সাহায্য করেছেন। আমি লেখা-পড়া করে সংসারের অভাব দূর করতে চাই।

মঞ্জিলার বড় বোন শিরিনের বিবাহ হয়ে গেছে অনেক আগেই। মঞ্জিলার সেজ বোন তাঞ্জিলা ইজিএস শিক্ষা নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ এর নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট বোন সাদিয়া ৩নম্বর ধাবড়ী বান্নাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। বড় ভাই আলীম কাউখালী মহাবিদ্যালয়ে বিএ অধ্যয়নরত অবস্থায় আছে। পড়াশুনার ফাকে ভাড়ায় মটর সাইকেল চালায়। পাচঁ সন্তানই পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়ায় জেলে ইয়াকুব হোসেন গ্রামের খালে বিলে জাল টেনে (মইয়া জাল) মাছ ধরে। উপজেলার ধাবড়ী গ্রামের একটি ঝুপড়ী ঘরে ওদের বাস। মেয়ের ফলাফলে বাবা ইয়াকুব হোসেন খুশি। তবে একই সঙ্গে সন্তানদের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি বলেন, অভাব অনটনের মধ্যে পাচঁ সন্তানের পড়াশুনা চালাতে খুবই হিমশিম খেতে হয়। ওদের মা লাল ভানুকে বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয়। ওদের কখনো ভালো খাবার ও জামা কাপড় দিতে পারি নাই। শিক্ষার্থী মঞ্জিলা বলেন, আজ খসরু কাকা আমার পাশের খবর শুনে আমার বাড়িতে এসে আমাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন এবং আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন বলেছেন তাতেই আমি খুশি। এছাড়া মঞ্জিলা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৩নম্বর ধাবড়ী বান্নাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে  “এ” গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এপর জেএসসি পরীক্ষায় এ+ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। উপজেলার সামাজিক উদ্যোক্তা শিক্ষানুরাগী আঃ লতিফ খসরু বলেন, কোন অভাব অনটনই দমাতে পারেনাই মঞ্জিলাকে। তারই উজ্জল দৃষ্টান্ত মঞ্জিলা। সে কাউখালী উপজেলা গর্ব।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ