,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ নাজমুল হাসান, টাঙ্গাইল # চরম অব্যবস্থাপনায় চলছে দেলদুয়ার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। রোগী আছে নেই ডাক্তার। রোগী পরিবহনের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও বিকল। নেই ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও তোয়াক্কা করছেন না এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উপজেলাবাসীর।

এর ফলে হাসপাতাল থাকতেও সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার লাউহাটি থেকে আসা রোগীর অভিভাবক সেলিম মিয়া জানান, দেলদুয়ারে প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। তার বিপরীতে ডাক্তার আছে মাত্র কয়েকজন। হাসপাতাল ঠিকই আছে নেই শুধু সেবাটাই। চরম অসুস্থতার সময়ও এখানে চিকিৎসক আর সেবিকার সন্ধান পাওয়া যায় না। তিনি আরো জানান, কয়েকদিন যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত শিশু শিমুলকে নিয়ে এসে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে তাকে নিয়ে যেতে হচ্ছে টাঙ্গাইল হাসপাতালে।

এভাবে প্রতিদিনই উপজেলার সেবা বঞ্চিত রোগীদের অন্যত্র চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাজিলহাটি থেকে আসা রোগী মরিয়ম জানান, সক্কালে আইছি বুকের ব্যথার ডাক্তার দেখাইতে কিন্তু এহন শুনতাছি কোনো ডাক্তার নাই। আমরা গরীব মানুষ কোনে জামু ডাক্তার দেখাইতে। টাঙ্গাইল গিয়া ডাক্তার দেখাইতে অনেক টাহা লাগে, এত টাহা পামু কই? হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সব মিলিয়ে এ হাসপাতালে প্রায় শতাধিক লোকবল রয়েছে। এদের মধ্যে ডাক্তার রয়েছেন ১৪ জন। উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রয়েছে ৪ জন এবং প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রয়েছেন ১ জন ডাক্তার।

এছাড়া হাসপাতালটির অধীনে তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ ডাক্তারই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তারা ঢাকা ও অন্যান্য স্থান থেকে সপ্তাহে ১/২ দিন এসে ডিউটি করেন। কৌশল হিসেবে একজন ডাক্তার ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থেকে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ডিউটি হিসেবে ৩ দিনের ডিউটি দেখান। এভাবে একটানা দুইদিন উপস্থিত থাকলে তার ৬ দিনের ডিউটি হয়ে যায়। এ সময় তিনি আরো জানান, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন করে ডাক্তার কর্মরত থাকার কথা। যেখানে উপজেলা হাসপাতালের এই দশা সেখানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রোগীরা ডাক্তারের কথা কল্পনাও করতে পারেন না।

এ অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান জানান, আমি নতুন এসেছি। হাসপাতালে ১৪ জন ডাক্তারের মধ্যে কেউ ছুুটিতে, কেউ অনুপস্থিত আবার কেউ ডেপুটেশনে আছেন। সব মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ জন ডাক্তার উপস্থিত থাকেন। হাসপাতালে কনসালটেন্ট, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন, গাইনী ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নেই। ওষুধ সংকটও রয়েছে। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও বিকল। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার খবর জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত চিঠি দিয়েছি এবং আমি নিজেও ডাক্তারদের হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরো জানান, ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল চেয়ে সচিব ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরারর চিঠি পাঠাবেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলে উপজেলাবাসী আরো উপকৃত হবেন। তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হলে উপজেলায় চিকিৎসা সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি না থাকায় হাসপাতালটি উদ্বোধন করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। এ সত্ত্বেও উপজেলা বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলে এবং চিকিৎসকরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে উপজেলাবাসী চিকিৎসা সেবায় উপকৃত হবেন। পাশাপাশি তারা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর নজরদারি রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ