AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

টাঙ্গাইলে লক্ষ বানভাসি মানুষের দূর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই!

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ নাজমুল হাসান, টাঙ্গাইল।। এপাড় ভেঙ্গে ওপাড় আর ওপাড় ভেঙ্গে এপাড় এটা যমুনা ও ধলেশ্বরীর পাড়ের মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ। তা মেনে নিয়েই চলে তাদের জীবন সংগ্রাম। বেঁচে থাকার জন্য জীবনের প্রতিটি মুহুতে তাদের যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। শুধু উজানের ঢলের কাছেই তারা বারবার পরাস্ত। তেমনি গেল এক সপ্তাহের উজানের ঢলে যমুনার পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নদীর প্রস্থ এখন প্রায় ২০ কিলোমিটার। আর এই ২০ কি.মি নদী জুড়েই শুধুই পানি আর পানি। পানিতে বন্দি লাখ মানুষ।

পানি বন্দি মানুষের জন্য গেল এক সপ্তাহেও সরকারি কোনো সহায়তা মেলেনি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিকা প্রণয়ন করে বানভাসিদের জন্য চাওয়া হয়েছে বরাদ্দ। কিন্তু প্রশাসনের বিলম্বিত উদ্যোগে তারা সন্দিহান। বানভাসি মানুষেরা তাই মনে করছেন, একমাত্র বিধাতাই তাদের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে পারেন।

চরোৎপাদী প্রকৃতির যমুনার এই ২০ কি.মি অংশে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় চর। এই চরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে লাখ মানুষের বসতি। সরেজমিনে এইসব চরাঞ্চলের গিয়ে দেখা যায়, দু’একটি চর মাথা তুলে দাড়িয়ে থাকলেও বন্যার পানিতে বসতভিটা প্লাবিত হওয়ায় তারা এখন আশ্রয়হীন। এদের অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর খোলা আকাশের নীচে। গৃহপালিত পশু আর মানুষের জীবন একাকার হয়ে মানবতের জীবন-যাপন করছে এইসব বানভাসি মানুষ। বানের পানিতে ভেসে গেছে ফসলি জমিসহ বহু মাছের পুকুর। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন কয়েকশ মুরগি ও গরুর খামারি ।

টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার ও কালিহাতী উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত ২০টি ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ সম্পূর্ন রুপে গৃহহীন হয়ে পড়েছে এমটাই জানাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এর মধ্যে নাগরপুরের মোকনা,পাকুটিয়া,সলিমাবাদ,দুবুরিয়া,সহবাতপুর, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী দেলদুয়ারে লাউহাটি,এলাসিন ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম এবং নিকরাইল ও গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের অর্ধেক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা বাঁধের গোবিন্দসী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব বাঁধটি। এছাড়াও অব্যাহত ভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কটি।

শুক্রবার ভূঞাপুরের নিকরাইল-গোবিন্দাসী পাকা সড়ক ও কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া-সল্লা কাচা সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বন্যা মুক্ত অঞ্চল। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলেও এখন পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী ঔষধসহ কোনো প্রকার ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দুর্গত এলাকার বানবাসি মানুষ।

বন্যা কবলিত গাবসারার শাহ আলাম, অর্জুনা গ্রামের বাবু, ভালকুটিয়া গ্রামের অভিজিৎ ঘোষ, সোনামুই গ্রামের ফজলুল হকসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, গত ১০দিন ধরে বন্যার পানিতে ভাসলেও ত্রাণসামগ্রী দূরের কথা জনপ্রতিনিসহ প্রশাসনের কোনো ব্যক্তিই আমাদের কাছে আসেননি। তারা সবাই উপজেলা সদরে থাকেন। মাঝে মাঝে নৌকা দিয়ে এসে দূর থেকে দেখে নৌকা নিয়ে চলে যান। তারা আরো বলেন, হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য সরকারের বিলম্বিত উদ্যোগ কতোখানি ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে তারা সন্দিহান। বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটার আগেই বিধাতা যেন আমাদের সকলকে বাঁচান।

বানভাসিদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী না দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের সবকটি গ্রামই পানির নীচে। কিন্তু অসহায় এই মানুষগুলির জন্য একটি করে আলু’ও বরাদ্দ নেই। বানভাসি মানুষরে তালিকা প্রণয়ন করে প্রশাসনের নিকট পাঠানো হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী হাতে পাওয়া মাত্রই তা পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও তিনি বিধাতার কাছে সাহায্য প্রার্থনাসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহব্বান জানান।এদিকে নাগরপুরের মোকনা ইউনিনের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান কোকাকে বারবার ফোন করে পাওয়া যাযনি।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বন্যা পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা বাঁধ ও টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়ক বাঁধটি রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে উপজেলার তিন ইউনিয়নে প্রায় ৩৬ মেক্ট্রিক টন ত্রাণ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষের তালিকা প্রণয়ণ করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের যথেষ্ট পরিমান ত্রাণ-সামগ্রী মজুদ আছে। উপজেলা থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছে। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ