,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

প্রকল্পতেই আটকে আছে ভূঞাপুরের ভাঙ্গন প্রতিরোধের কাজ!

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ নাজমুল হাসান, টাঙ্গাইল #  টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ৪টি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও ভাঙনরোধে কোন কাজই করছে না টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি)। আর প্রকল্পতেই আটকে আছে যমুনা নদীর ভাঙজ্ঞগন প্রতিরোধের কাজ।অতীতের মতই জোয়ার ও মৌসুমের বন্যায় প্রতি বছর বাস্তুহারা হচ্ছে শত শত মানুষ। চলতি বর্ষায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও কোন তৎপরতাই দেখাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এমন অভিযোগ ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভয়াবহ ভাঙনে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী-কষ্টাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুই বছর আগেই নদী গর্ভে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পিকনা-জোকারচর বাঁধের অংশ।নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ক্রমশঃ পূর্ব দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভেঙে যাচ্ছে নতুন নতুন ঘর বাড়ি। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে আরো কয়েকটি গ্রামের নাম। অব্যাহত ভাঙনে ছোট হয়ে যাচ্ছে ভূঞাপুর উপজেলার সীমানা।গত কয়েকদিনে অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া, চুকাইনগর ও অর্জুনা গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে।গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি, ভালকুটিয়া, কোনাবাড়ি চর চিতুলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামেও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নিকরাইল ও গাবসারা ইউনিয়নেরও চিত্র একই।

এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে গোবিন্দাসী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, কয়েকটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, পোল্ট্রি খামারসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। ইতিমধ্যে ফসলী জমিসহ কয়েক হাজার পরিবার নতুন করে গৃহহীন হওয়ার সম্ভাবনা তীব্র হয়েছে।অর্জূনা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও চুকাইনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই যমুনা নদীর ভাঙনে বাড়ি ঘর হারাতে হচ্ছে। গত বছর বাড়ির জমি ভেঙে গেছে। এবছর ঘর বাড়িসহ ভেঙে নদী গর্ভে চলে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু সে বাড়িও দু একদিনের মধ্যে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোবিন্দাসী, নিকরাইল, অজূর্না ও গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা জানান, কয়েক বছরে যমুনা নদীর ভাঙনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে হাজার হাজার পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে সহায় সম্বলহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ফসলী জমি হারিয়ে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে গেছে। নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম। বর্তমানে নদীতে পানি বাড়াতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অথচ ভাঙনরোধে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।এদিকে জনপ্রতিনিধিরাও নিরুপায় হয়ে নিরব দর্শক হিসেবে ভাঙন দেখে যাচ্ছেন বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

তবে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানান, যমুনা নদী ভাঙন রোধে একাধিক প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও সেগুলো অজ্ঞাত কারনেই অনুমোদন হচ্ছে না। তাই তারাও কিছু করতে পারবে না বলেও জানান।টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী ভাঙনরোধে উপজেলার নলীন হতে অজূর্না পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ নির্মাণে ১শ ৬৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবনা পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় আনুমানিক ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে যমুনা নদীতে বাঁধ নির্মাণ কাজের প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। সেটিও বর্তমানে স্টাডি পর্যায়েই রয়েছে বলেও তারা জানান।নদী ভাঙ্গনের ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ভূঞাপুরে যমুনা নদী ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। বড় প্রকল্প অনুমোদন না হওয়াতে প্রকল্পগুলো ছোট ছোট আকারে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।প্রকল্পগুলো অনুমোদন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদারকি না থাকায় সেগুলো ফাইলেই আটকে থাকছে বলেও তিনি জানান।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ