,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

টাঙ্গাইলের গোপালরপুরে ২৩ ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ নাজমুল হাসান, টাংগাইল # টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভোলারপাড়া গ্রামে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৩ ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই নতুন করে কেউ না কেউ এ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ওই গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দায়সাড়াভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত রোগী ও গ্রামের সাধারণ মানুষ।জানাগেছে, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভোলারপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মিনহাজ মিয়া প্রায় ছয় মাস আগে ৮০ হাজার টাকায় বাজার থেকে একটি গাভী কিনে আনেন। তিনি যত্নের সাথে গাভীটি লালন-পালন করছিলেন।

প্রতিদিনের মতো গত ১৪ জুন(মঙ্গলবার) সকালে ওই গাভীটি মাঠে নিয়ে গেলে বৃষ্টিতে ভিজে। পরে বিকালে মাঠ থেকে বাড়িতে আনা হলে গাভীটির শরীরে জ্বর অনুভব হলে তোফাজ্জাল নামে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক দিয়ে পর পর দু’দিন চিকিৎসা করানো হয়। এতেও গাভীটির কোন উন্নতি না হলে গত ১৬ জুন(বৃহস্পতিবার) রাতে গাভীটি ৪২ হাজার টাকা দাম ধরে স্থানীয় ৪২টি পরিবার গাভীটিকে জবাই করে মাংস বণ্টন করে নেন।

গত ১৮ জুন(সোমবার) মিনহাজের ভাই হেলালের হাতে দু’টি ফোসকা দেখা দেয়। বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও সারা দিনের মধ্যে আরও বেশ কয়েকজনের শরীরে একই ধরনের ফোসকা দেখা দিলে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে ওই একই ধরনের ফোসকা গাভীটি জবাই, মাংস ছাড়ানো, বিতরণ ও রান্নার সাথে জড়িত সবার শরীরে দেখা দিতে থাকে। এ রোগে ভোলারপাড়া গ্রামের হেলালের পরিবারে তিন জন, আকবর পরিবারে এক জন, তাজেম তালুকদার পরিবারে দুই জন, আহমেদ চকদার এক জন, নায়েজ তালুকদার দুই জন, মহির পরিবারে ১০ বছরের এক কন্যা শিশু, লেবু পরিবারের এক জন, লিটন পরিবারের এক ও ছয় বছরের দুই শিশু, মিল্টন পরিবারের তিন বছরের এক শিশু, রফিক পরিবারের দুই জন, রাশেদুল পরিবারে দুই জন, মজনু পরিবারে দুই জন ও আগতেরিল্যা গ্রামের দুইজন এ রোগে আক্রান্ত হন। গত ২০ জুন(সোমবার) তারা গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সবাইকে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত রোগী হিসেবে সনাক্ত করেন।

এর মধ্যে ভোলারপাড়া গ্রামের মহিরের ১০ বছরের মেয়ে সম্পাসহ আরো দু’জন সোমবার(২৭ জুন) নতুন করে আক্রান্ত হন।হেমনগর গ্রামের মৃদুল মিয়া প্রশ্ন করে বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স রোগের জন্য এখন যে টিকা দেয়া হলো তা আগে দেয়া হয়নি কেন? আর এই রোগের বিষয়ে প্রাণি সম্পদ বিভাগ সচেতনতামূলক কোন কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। এতে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেও মানুষ তা বুঝতে পারেনি। যার ফলে এটি অধিক মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হেলাল, মহির, মিল্টন, রশিদসহ অন্যরা জানান, সংক্রমণ রোধে মেডিকেল টিম সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় নতুন করে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে। এতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. মতিউর রহমান বলেন, গরু জবাই, মাংস বণ্টন এবং মাংস ধোঁয়ামোছার সাথে জড়িতদের সবাই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে হাতে ঘা দেখা দেয়, পরে তা শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ওই গ্রামে একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।গোপালপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের ভিএস ডা. হারুন অর রশিদ এ রোগে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও সংখ্যা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। ভয় থেকে অনেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিনয় কুমার নাগ বলেন, গত ২৭ জুন(সোমবার) পর্যন্ত আমাদের টিম ওখানে কাজ করেছে। এখন সকলেই সুস্থ আছেন। তাছাড়া ওই ইউনিয়নে সকল গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। আগে কেন সকল পশুকে টিকার আওয়তায় আনা হয়নি এবং ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর দেননি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ