,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

লক্ষ্মীপুরে ইটভাটায় : জ্বলছে কাঠ, পুড়ছে ইট, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

লাইক এবং শেয়ার করুন

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: সরকারি নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে পরিবেশ দূষিত হলেও যেন দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকা শরণখোলা বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটা গুলো বেশির ভাগই জনবসতি ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় ২ শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। অধিকাংশ ইটভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। অনেক ভাটার মালিক কাঠের পাশাপাশি নামে মাত্র কয়লা, তেলের গাদ ও টায়ার জ্বালিয়ে থাকে।

সরজমিনে সদর উপজেলার ১৯নং তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের মুদিখানা পোলের গোড়া নামক স্থানে ৬একর সম্পত্তিতে প্রভাবশালি মিজানুর রহমান বিপু ও মোফাচ্ছের হোসেন মাসুম সত্বায়িত (বাংলা ইটভাটা) বিএম ব্রিক্স ম্যানুফ্যাবচারিং, এইচ এন্ড বি ম্যানুফ্যাকচারিং, ১৭নং ভবাণীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভূতি গ্রামের ভয়ারডগি নামকস্থানে এইচ এইচ ব্রিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং নামে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো চিত্র দেখা যায়। এ ইটভাটা গুলোর চার পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মণ কাঠ।

তাছাড়া জেলার প্রায় ইটভাটায় এক পাশে অথবা ভাটার উপরে কাঠ রেখে অহরহ ইট পোড়াচ্ছে। পাশাপাশি নামেমাত্র কয়লা, তেলের গাদ ও টায়ার জ্বালানোর জন্যে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কয়লার চেয়ে কাঠের পরিমাণ বেশি দেখা যায়। আবার কোন কোন ইটভাটায় কোন কয়লা দেখাও মেলেনি। তবে বেশিরভাগ ইটভাটার মালিক, ম্যানেজার রাজনৈতিক দলের হওয়ায় তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে চায় না।

ওই সমস্ত এলাকায় ইটভাটার ইট, কাঠ, মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর আসা-যাওয়ার সময় বেশি নজর কেড়ে নেয় যেখানে ইট থাকার কথা সেখানে রয়েছে কাঠ। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাক্টর চালক জানায়, আমরা বহন করি ভাড়া পাই। কাঠ আনলেও ভাড়া পাবো। ইট ও মাটি বহন করলেও ভাড়া পাবো। কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি ব্রিকফিল্ড মালিকদের ব্যাপার। একাধিক কৃষক জানান, ইট পোড়ানোর পর ভাটাসংলগ্ন জমিগুলোয় ধান উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে ফসলের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এভাবে পসলি জমির পাশে ব্রিক ফিল্ড হলে আমরা না খেয়ে থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন,  ইটভাটার মালিকরা কয়লার সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কাঠ পোড়াচ্ছে বলে শুনেছি। জেলা প্রশাসকের সাথে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত আমরা কাঠ পোড়ানো ইটভাটা গুলোতে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।  ইট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, বর্তমানে ইটভাটা গুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ