,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সেই স্মৃতি আজো লক্ষ্মীপুরের উপকূলবাসীকে কাঁদায়

লাইক এবং শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এই দিনে স্মরণাতীতকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ড-বন্ড হয়ে যায় লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় বিস্তীণ এলাকা। এদিন জেলার রামগতি, কমলনগর ও সদরের উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক প্রাণহানী ও হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়ে গিয়ে ছিল। আশ্রয়হীন হয়েছিল হাজার হাজার পরিবার। সে দিনের সে ভয়াল স্মৃতি আজো উপকূলীয় মানুষদের কাদাঁয়। দিনটিকে ঘিরে আজও কোন সামাজিক, রাজনৈতিক বা কোন অঙ্গ-সংগঠন দিনটি স্মরন করে না। পালন করে না কোন কর্মসুচী। 

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে ভয়ংকর এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল নোয়াখালী, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায়। আর বেশির ভাগ উপকূল এতে লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার। ৩-১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছাসের কারণে মাটি দেয়া যায়নি মৃত মানুষগুলোকে। 

সেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে নিহত হয় প্রায় ৩ লাখ মানুষ। মারা যায় হাজার হাজার গবাদিপশু। গৃহহারা হয় কয়েক হাজার পরিবার। ক্ষতি হয়েছিল কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। বিভিন্নভাবে আরো ক্ষতিগ্রস্ত  হয় প্রায় ১ লাখ মানুষ। সহায় সম্পদ ও আত্মীয়-স্বজন হারিয়ে এখনও সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে উপকূলের হাজারও মানুষ। ঘুর্ণিঝড়ে অনেকে মাকে হারিয়েছে। মা হারিয়েছে সন্তানদেরকে, স্বামী হারিয়েছে স্ত্রীকে, ভাই হারিয়েছে প্রাণের আদরের বোনকে। উপকূলবাসী আজো ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি।

প্রাকৃতিক এ দূর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রামগতি উপজেলার শেখেরকিল্লা, গুচ্ছ গ্রাম, চর আবদুল্লাহ, চর জাহাঙ্গীর, কমলনগর উপজেলার সাহেবের হাট, মাতাব্বর হাট, চর জগবন্ধু, চর সামছুদ্দিন ও চর কাঁকড়া এলাকার জনসাধারণ। এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে বিছিন্ন জনপদ চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা। এ কারণে জেলার কয়েক লাখ উপকূলবাসী আতঙ্কিত। বিশেষ করে বর্ষাকালের ঘুর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা ভুমিকম্প ও সুনামীর শঙ্কায় রয়েছে উপকূলবাসী। এসব এলাকার লোকজন এপ্রিল আসলে এখনো আঁতকে উঠেন। প্রায় ৪ যুগের কাছাকাছি সময় অতিবাহিত হলেও এ স্মৃতিকে তারা কোনভাবেই ভুলতে পারছেনা। সে কারণে স্মৃতি বিজড়িত ও বেদনা মিশ্রিত আজকের এই ভয়াল দিন।

বিশ্বের ইতিহাসে বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ অঞ্চল লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও নোয়াখালীর জন্য আজ ১২ নভেম্বর ভয়াল স্মৃতি ও কালোরাত। কেননা ঘুুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত স্বজন হারানো বেদনা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এসব এলাকার বাসিন্দারা। সে রাত এবং পরের দিনের দৃশ্য ছিল করুণ ও বিভৎস। ভয়াবহ প্রলয়ঙ্করী-ঘুর্ণিঝড় জেলার উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গেছে। সে রাতের ক্ষয়-ক্ষতিতে নিমজ্জিত উপকূলবাসী। অথচ ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী ৪ যুগের কাছাকাছি সময়ে পালন হচ্ছে না কোন দিবস বা কর্মসুচী। 

এছাড়া ১৮২২, ১৮৭৬, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৮৮, ২০০৭ ও ২০০৯ সালে সিডর, আইলাসহ বিভিন্ন ধরণের ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকার ২৬ টি জেলার চরমভাবে আঘাত হানে। সবচেয়ে ৭০ সালের ১২ নভেম্বরে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ভোলা, নেয়াখালীসহ লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অরক্ষিত উপকূলবাসীদেরকে রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা জেলায় বসবাসরত মানুষদের দাবী। চলতি অর্থ বছরে উপকুলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আলাদা বাজেট বরাদ্দেরও দাবী জানিয়েছে উপকূলীয় এলাকার অবহেলিত লোকজন।

উপকূল বাঁচলে দেশ বাঁচবে। উপকূলীয় এলাকায় জন্ম হওয়াই কি অপরাধ! এ প্রশ্ন ভুক্তভোগী অবহেলিতদের। কেননা এ এলাকার জনসাধারণরাও এ দেশের নাগরিক। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।  

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার ওলি জানান, ৭০ সালের এই দিনের গভীর রাতে প্রচন্ড ঝড় হয়। ঝড়ে ছোট-বড় অসংখ্য ঘর-বাড়ি ও গাছপালা বিধস্ত হয়। আপনজনদের খুঁজতে গিয়ে মানুষ কান্নাকাটিতে ভেঙ্গে পড়ে। অনেকে প্রিয়জনের লাশটুকুও খুঁজে পায়নি। আজও সেই দিনটার কথা মনে পড়লে মানুষ শিয়রে উঠে।

একই গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আবুল কালাম স্মৃতিচারন করতে গিয়ে জানান, তার বাড়ির আশেপাশের অনেক লোকসহ তার কয়েকজন নিকট আত্মীয় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। যাদের মধ্যে অনেকের লাশও পাওয়া যায়নি। এ স্মৃতি মনে করে কেঁদে পেলেন এই বযোবৃদ্ধ।

সেদিনের কথা মনে করে অনেকে বলেন, সে মাস ছিলো রমজান মাস। ইফতারের পর পর একটু বৃষ্টি। রাত ঠিক ১২টার দিকে শুরু হয় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। আর সে জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় কয়েক লাখ মানুষ, গবাদি পশু ও ঘর-বাড়ী। ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাজার হাজার একর ফসলী জমি। লন্ড ভন্ড হয়ে যায় তাদের জীবন চিত্র।  
    
ভয়াল ১২ নভেম্বরকে ‘জাতীয় দুর্যোগ দিবস’ ঘোষণার দাবী জানিয়েছেন উপকুলীয় এলাকাবাসী।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ