,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

লক্ষ্মীপুরে নেতৃত্বের কোন্দলে বিএনপি, মাঠে নেই জামায়াত, দখলে আ’লীগ

লাইক এবং শেয়ার করুন

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি # লক্ষ্মীপুরে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দলে দুর্বল হয়ে পড়ছে এক সময়কার বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপি। মাঠে দেখা মিলছেনা জামায়াত-শিবিরকে। দলের কাউন্সিলকে ঘিরে লবিং গ্রুপিংয়ে হারিয়ে ফেলছে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। বছরের পর বছর ধরে পদের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতার প্রভাব গড়ে তুলেছেন গুটি কয়েক নেতা। এতে জেলা-উপজেলা নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। এছাড়া মামলা-হামলার ভয়ে অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা বছর ধরে দলীয় কার্যালয়ের ভাড়া ও পিয়নের বেতন পর্যন্ত দিতে পারছেন না বলে জানা যায়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় বহুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না জেলা বিএনপি। একদিকে প্রশাসন ও সরকারি দলের হামলা-মামলার ভয়ভীতিসহ নানান ধরনের হয়রানি, অপরদিকে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত এই দলটি। এসব কারণে দলীয়ভাবে মাঠ পর্যায়ে কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে না নেতাকর্মীরা। ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জেলা বিএনপির নেতৃত্ব বহাল রয়েছে। ১/১১-এর পর কিছু দিনের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ কাউন্সিলে আবুল খায়ের ভূঁইয়া সভাপতি, সাহাবুদ্দিন সাবু সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমানকে পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা বিএনপির কমিটি করা হয়। অথচ দীর্ঘ ৮ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। এর পরও জেলা কাউন্সিল নিয়ে কোন ভাবনা নেই দলটির নেতাকর্মীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারস্ন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বেশিরভাগ সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করার কারণে নিজ জেলায় দলীয় কর্মকান্ড ও আন্দোলন সংগ্রামে তেমন ভূমিকা নেই বললেই চলে। তবে বিগত দিনে মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে দলের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান ছিলেন সক্রিয়। মামলায়-হামলা জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশেও ছিলেন তারা। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এ দুই নেতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হলেও বর্তমানে তাদের কার্যক্রমে নিস্কিয় থাকায় হতাশা বিরাজ করছে কর্মীদের মাঝে। এছাড়া গেল বছর জেলা বিএনপির কাউন্সিল করার জন্য জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ পাঠানো হলেও এখনো পর্যন্ত নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বর্তমান সময়ে এসে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সাহাবুদ্দিন সাবু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান তোড়জোড় করে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেন। হঠাৎ ঝিমিয়ে যায় সে কাউন্সিল।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, গত নির্বাচনে আন্দোলন সংগ্রাম, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশে ও মাঠপর্যায়ে যাদের ভূমিকা ছিল সক্রিয়, যারা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শাসক দলের হাতে নির্যাতিত হয়েও সব সময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিল, তাদের দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব জেলা কমিটি করে বিএনপিকে পুনরায় সুসংগঠিত করা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবুর নিজ বাসায় তাকে গুলি করা হয়েছিল। ওই একই দিনে জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি নেতা মাহবুবসহ ৪ বিএনপি ও যুবদল নেতা নিহত ও গুলিবিদ্ধসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। বিশেষ করে ইকবাল মাহমুদ জুয়েলের লাশের হদিস পাওয়া যায়নি এখনো।

এদিকে ২০১০ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ায় সাহাবুদ্দিন সাবুর সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রকাশ্যে না হলেও ভিতরে ভিতরে চলছে এখনো। সে কারণে আসন্ন কাউন্সিলে কোনোভাবেই সাহাবুদ্দিন সাবু জেলা কমিটির সভাপতি হতে না পারে সেই লক্ষ্যে সাবেক দুই এমপি কাউন্সিলের বিরোধিতা করে আসছেন বলে একাধিক বিএনপি নেতা জানান। কাউন্সিল দাবি করায় ওই দুজনই সাবেক এমপিদের বিরাগভাজন হন। অথচ হাছিবুর রহমান ছিলেন এ্যানীর ঘনিষ্ঠজন। এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ বেপারীকে বাদ দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা (পূর্ব) অংশের সভাপতি, এ্যানীর ভাতিজা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজকে হাছিবের বিপরীতে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা ছাত্রদলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী হাছিবের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রচার– প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। রিয়াজ চৌধুরী প্রার্থী হওয়ার পর ছাত্রদলের অনেককে হাছিবের পক্ষ ত্যাগ করতে দেয়া হচ্ছে হুমকি। আবার জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি অনেককে জোর করে রিয়াজ চৌধুরীর পক্ষে গনমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিতেও বাধ্য করা হয়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতে ছাত্রদলে কোনো পদ পদবী দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। বর্তমানে এসব কারণে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে জেলা দলীয় কার্যালয়ও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের পিয়ন বেলাল মিয়া জানান, এক বছর যাবৎ নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। তবে অ্যাডভোকেট হাছিব পার্টি অফিসের বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে যাচ্ছেন। বাড়িওয়ালা মাইন উদ্দিন মরন জানান, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না। প্রতিমাসেই তিনি তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও বিএনপি নেতৃবৃন্দ আজ নয় কাল বলে সময়ক্ষেপণ করছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু জানান, দীর্ঘ ৯ বছরও জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়নি। বারবার কাউন্সিল করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় দুই নেতার প্রভাবের কারণে কাউন্সিল করা যাচ্ছে না। এতে আমাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাতে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত কমিটি গঠন না হলে জেলা বিএনপি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী অসুস্থ থাকায় এবং আবুল খায়ের ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিএনপি জোট সরকারের অন্যতম সংগঠক জামায়াত-শিবিরের মাঠ পর্যায়ে কোন কার্যক্রম দেখা না গেলেও ভিতরগত ভাবে চলছে দলীয় কার্যক্রম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সরকার দলীয় লোকজনের মামলা-হামলার ভয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারছেন না তারা। অন্যদিকে জামাত-বিএনপি মাঠ পর্যায়ে না থাকায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীরা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ