,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে লক্ষাধিক লোকের স্বাস্থ্য-সেবা

লাইক এবং শেয়ার করুন

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর # লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। মেডিকেল অফিসারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। অপরদিকে দীর্ঘদিন থেকে চরগাজী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের পদটি শূন্য থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ঔষধের দোকানদারদের পরামর্শ অনুযায়ি ঔষধ সেবন করছে এসব মানুষ। কেউ সুফল পাচ্ছে, আবার কেউ কেউ রোগ নিয়ে নোয়াখালী কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। রামগতি উপজেলার এসব ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবার চিত্রটা এমনই।  

জানাযায়, চরগাজী ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৪২,৮৯০ জন, চর রমিজ ইউনিয়নের ৪২,৭৩৯ জন ও বড়খেরী ১৫,৫৭৯ জন মিলে লক্ষাদিক মানুষ বাস। বড়খেরী ইউনিয়নের মানুষের জন্য রয়েছে একজন মেডিকেল অফিসার আর বাকি ইউনিয়নের লোকজন বাহিরের বিভিন্ন ঔষধের দোকানদারদের পরামর্শ অনুযায়ি ঔষধ সেবন করছে।  

সরেজমিনে চরগাজী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ঘিয়ে দেখা যায়, মেডিকেল অফিসার ছাড়াই অতিরিক্ত এসএসিএমও চলছে ঢিলেঢালা ভাবে চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম। অপরদিকে চররমিজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের চিত্র অন্যটি। মেডিকেল অফিসার সিডিউল মোতাবেক সাপ্তাহে একদিন আসলেও আসেন না চিকিৎসক (ডিএমএফ) রাসেল আমিন বাবু।

রোগীরা জানায়, রাসেল আমিন বাবু ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত। তাই চররমিজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে আসার সময় নেই। তবে মাঝেমধ্যে আসেন রোগীদের সেবা দিতে নয়, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে।  

এই বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, চরগাজী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের পদটি শূন্য। চর রমিজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা: নাহিদ রায়হান উপজেলা ৩১ শয্যা হাসপাতাল থেকে সাপ্তাহে একদিন করে সেখানে ডিউটি করেন।

ঔষধ বিক্রেতা ও পল্লী চিকিৎসকরা জানান, পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার না থাকায় সাধারণ মানুষরা আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খাচ্ছে।  তবে এসব গ্রামাঞ্চলে মেডিকেল অফিসাররা থাকতে চান না বলে দীর্ঘদিন ধরে আমরা রোগীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মেডিকেল অফিসারের অনুপস্থিতে রোগীরা আমাদের কাছে আসেন বলেই আমরা বাধ্য হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি।

রামগতি বাজার ঔষধ বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো: বাবুল উদ্দিন বলেন, আমাদের ইউনিয়নগুলোতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আরো মেডিকেল অফিসারের ব্যবস্থা করলে আমরা সঠিক চিকিৎসা পেতাম। গ্রামাঞ্চলেতো এখন পল্লী চিকিৎসকরা মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। অনেক সময় মেডিকেল অফিসারের অভাবে আমরা রোগীদের পরামর্শ দিতে বাধ্য হই। যদি এসব এলাকাগুলোতে ৩ থেকে ৪ জন মেডিকেল অফিসার থাকে তাহলে তাহলে প্রায় লক্ষাদিক লোক সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতো না। আর আমরা মডিকেল অফিসারদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ি ঔষধ বিক্রয় করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে অবহিতকরণ সভার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঔষধ বিক্রয়ে বিধি-নিষেধ সম্পর্কিত ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বর্তমানে ড্রাগ লাইসেন্স বন্ধ। অনেক দোকানদার ড্রাগ লাইসেন্স করার আগ্রহ থাকা সত্বেও তা করতে পারছে না সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী।

গ্রামাঞ্চলে মেডিকেল অফিসারের বিকল্প নেই, না হলে উপকূলের সাধারণ মানুষগুলো সঠিক চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করবে। উপকুলীয় মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবী অতিদ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি হস্তক্ষেপ করবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ