,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা : বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

লাইক এবং শেয়ার করুন

আদিত্ব্য কামাল স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেশি লাভের আশায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ট্যাবলেট বা ইনজেকশন ব্যবহারের মাধ্যমে রোগাক্রান্ত কিংবা কম ওজনের গরু, ছাগল, মহিষ অতি অল্প সময়ে স্বাস্থ্যবান করে তোলার পথ বেছে নিয়েছেন তারা। এতে আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে জেলার অনেক সচেতন নাগরিক। পশু হাসপাতালের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রায় কয়েক বৎসর ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বেড়ে চলেছে। আমাদের হিসেব মতে রয়েছে জেলায় চৌদ্দ হাজার ছোট রড় খামার রয়েছে।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মৌমুমী খামারিরা মোটা তাজা করণ খামারের সংখ্যা বেড়েছে আরো প্রায় (তিন হাজার) মত । খামারিরা নিজ উদ্যোগে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। বিজেশ্বর গ্রামের খামারি উজ্জল মিয়া জানান, সাধারণত কোরবানির ২০/২৫ দিন আগে তারা গরু মোটাতাজা করার জন্য ওষুধ খাওয়ান। গত কয়েক বছরে শুধু কোরবানির গরু মোটা তাজা করে অনেকে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন।তাছাড়া আমাদের দেশে যারা সামর্থ্যবান লোক আছেন তারা গরু কোরবানির বাজারে ষোল আনা মোটা তাজা না হলে কিনতে চাননা।

স্বাভাবিক খাবার খেয়ে অতি অল্প সময়ে একটা গরু-মহিষ এত মোটাতাজা করা কখনও সম্ভব না। তাই ক্রেতার মন জয় করতেই প্রায় খামারি এসব অসাধু পথ অবলম্ভন করছেন। এরজন্য ক্রেতাদের সচেতন হওয়া পরামর্শ দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পশু চিকিৎসক জানান, অধিকাংশ খামারি ক্ষতিকর এসব ওষুধ খাইয়ে গরু-ছাগল-মহিষ মোটাতাজা করছেন । সাধারণত ভারত থেকে ‘পাম’ বড়ি এবং স্টেরয়েড চোরাই পথে আসে। এগুলো প্রতিদিন অতিরিক্ত গরু কে খাওয়ানোর ফলে গরুর শরীরে পানি এসে ফুলে -ফেপে অতিরক্ত মোটা মনে হয়। আর দেশীয় কোম্পানীতে প্রস্তুত হয়, ডেক্সামেথাসন, প্যারাডেক্সা ও রোডেক্সান জাতীয় ট্যাবলেট। এই জাতীয় ঔষুধ রোগাক্রান্ত গরু কে চিকিৎসা করা জন্য দেওয়া হয়। কিন্তুু বেশীদিন খাওয়ানো হলে পার্শ্ব প্রক্রিয়াই গরু গুলির কিডনি, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শরীরে পানি আসে আর মোটা হয়ে যায়। বেশি মাত্রায় ওষুধ খাওয়ানোর পর গরু যখন অসুস্থ হয়ে পড়ছে তখন উপায় নাদেখে আমাদর কাছে আসে ।

এর আগে এক শ্রেণীর হাতুড়ে চিকিৎসক খামারি দের বাড়ি -বাড়ি গিয়ে অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা করার লাভের প্রলোভন দেখিয়ে এসব ক্ষতিকর ওষুধ কেনার প্রেসক্রিপশন দিয়ে থাকেন বলেও তিনি জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কাউতলী স্টেডিয়াম মার্কেট, বি-বাড়িয়া স্কুল মার্কেট এবং ছাতি পট্টিতে মুরগীর ফিড বিক্রয়ের নামদারি কিছু অসাধু দোকান হাতুরে ডাক্তারের প্রেসক্রিপ সনে এসব ক্ষতিকর ঔষুধ বিক্রি করছে। আর এসব ঔষুধ বিক্রি করিয়ে তারা দোকানদার থেকে নিচ্ছে মোটা অংকের কমিশন। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো:বজলুর রহমান জানান, মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার কোনো পশুর সন্ধান পেলেতাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছুদিন আগে ভ্রাম্যমান আদালতের মার্ধ্যমে এসব ক্ষতিকর ঔষুধ বিক্রি করার এক দোকান দারকে পাচঁ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হাতুরে ডাক্তারের পরামর্শ প্রায়ই খামারে নিষিদ্ধ ঔষধ খামারিরা অতিলাভের আশায় গরুদের খাওয়াচ্ছে তাতে প্রায় সময় গরু মারা যাচ্ছে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুকির কথা চিন্তা করে খামারি মালিকদের সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ