,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর বেদে পল্লীতে লেগেছে সাতবর্গ নির্বাচনের দমকা হাওয়া

লাইক এবং শেয়ার করুন

আদিত্ব্য কামাল বিজয়নগর থেকে ফিরেঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ‘সাতবর্গ’। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা সংলগ্ন ছায়া-সুনীবিড় এ গ্রামটিতে থাকা একটি স্থায়ী বেদে পল্লীতে প্রায় ৩শ জন ভোটারের বসবাস। আর তাই নির্বাচন এলেই অবহেলিত এ বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের কদর অনেকাংশে বেড়ে যায় প্রার্থীদের কাছে।
 
দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আসছে ৭ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। তবে ভোটের কোনো আমেজ নেই সাতবর্গ গ্রামের বেদে পল্লীটিতে। এখানকার বাসিন্দাদের মতে ভোট শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারলেই যেন বাঁচেন তারা। তবে নির্বাচনের দমকা হাওয়া কিছুটা হলেও বইছে এই বেদে পল্লীতে।
 
বুধন্তি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেদে পল্লীটি এখন সকাল-সন্ধ্যা মুখরিত হয়ে ওঠছে প্রার্থীদের পদচারণায়। প্রার্থীরা বেদে পল্লীতে আসছেন, ভোট চাইছেন আর দিচ্ছেন তাদের জীবনমান উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি। ভোটের ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বেদে সর্দার কামরুন্নেছা। আলাপচারিতায় তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে সাতবর্গ গ্রামের পূর্বপাড়ার ছোট্ট একটি খোলা জায়গায় ‘খুপড়ি’ ঘর করে বসবাস করছেন তারা। বর্তমানে তাদের বেদে পল্লীতে দুই শতাধিক পরিবার রয়েছে। এছাড়া স্থায়ী এ বেদে পল্লীতে রয়েছেন ২৮৫ জন ভোটার।
কামরুন্নেছা আক্ষেপ করে বলেন, জন্মসূত্রে সাপুড়িয়া হওয়ায় যুগ যুগ ধরেই সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষজন। বেদে পল্লীর শিশুদের জন্য নেই সরকারি কোনো স্কুল-কলেজ। মৃত্যুর পর কবর দেয়ার জন্য গোরস্থানের জায়গাও নেই বলে আক্ষেপ করেন কামরুন্নেছা।

তিনি বলেন, বেদে পল্লীতে ৭/৮ জন বয়স্ক মহিলা রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৭০ পেরিয়েছে। গত নির্বাচনে প্রার্থীরা বলেছিলেন বিজয়ী হলে বয়স্কদের জন্য ভাতার ব্যস্থা করে দেবেন। বিজয়ী হওয়ার পর কয়েকজন মেম্বার (সদস্য) ভাতার কার্ড পাইয়ে দেবার কথা বলে টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন যায় নির্বাচন আসে ভাতার কার্ড আর মেলে না।

কামরুন্নেছা আরও বলেন, দেশ ডিজিটাল হলেও বেদে পল্লী এখনো বিদ্যুৎহীন পড়ে রয়েছে। প্রতিবার নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা বিজয়ী হলে বেদে পল্লীর জন্য ‘এটা করবেন’ ‘ওটা করবেন’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চান। আমরা তাদের ভোটও দিই। কিন্তু প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার পর আমাদের প্রাপ্তির খাতাটা শূন্যই থেকে যায়। তবে পাঁচ বছর পর আবারও ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে। তাই এবার কিছুটা হিসেব-নিকেশ করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবো।Bede.01আমাদের পল্লীতে এখন যে প্রার্থীই ভোট চাইতে আসছে তাকে শক্তভাবে বলে দিচ্ছি যদি আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে দাও তাহলেই তোমাকে ভোট দেবো।বুধন্তি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মো. জিতু মিয়া জানান, বেদেরা আমাদের মতোই মানুষ। আমি নির্বাচিত হলে সমাজের অন্যসব মানুষরা যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন সাতবর্গ গ্রামের বেদে পল্লীর বাসিন্দারাও সেই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। বেদে পল্লীর বয়স্কদের জন্য ভাতার ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।

বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া উদ্দিন খান নয়ন বলেন, বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে ইতোমধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা করেছি। আমি বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের কথা দিয়ে এসেছি নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও আমি তাদের পাশে থাকবো সবসময়। তবে অপেক্ষা এখন শুধুই ৭ মের নির্বাচনের। নির্বাচনে যে প্রার্থীই বিজয়ী হোক সভ্য সমাজের অবহেলিত এ বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে প্রকৃত জনপ্রতিনিধির মতোই কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা এখানকার বাসিন্দাদের।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ