,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

‘নারী নয়, মানুষ হিসেবে বাঁচতে দিলেই চলবে’ : নুসরাত জাহান জেরি

লাইক এবং শেয়ার করুন

নারী দিবসে একজন নারীর মুখ থেকে শুনতে চাওয়া হল তার চাওয়া-পাওয়া নিয়ে। তিনি জানালেন, ‘নারী দিবসটাই চাই না’। তরুণ অভিনেত্রী নুসরাত জাহান জেরি বর্তমানে ব্যস্ত আছেন ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমার অভিনয় নিয়ে। মাহমুদ দিদারের পরিচালনায় সরকারি অনুদান প্রাপ্ত এই সিনামায় আরো আছেন জয়া আহসান, ফেরদৌস আহম্মেদ, গাজী রাকায়েত, তৌকির আহমেদ, এবিএম সুমন ও হুমায়ূন সাধু। ইত্তেফাককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার কথোপকথনের কিছু অংশ, যা ইতিপূর্ব ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত, দর্শকদের জন্য নববার্তা সাক্ষাৎকারটি পুনরায় তুলে ধরেছে-
 
সাংবাদিক : কেমন আছেন?
জেরি: জ্বি, ভাল।
সাংবাদিক : আজ নারী দিবস, এই বিশেষ দিবস নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই…
জেরি : (একটু হেসে) হ্যাঁ, নারী দিবস ছাড়া তো নারীদের কথা আপনাদের (সাংবাদিকদের) মনে পড়ে না।
সাংবাদিক : না বিষয়টা তেমন নয়। কিন্তু বিশেষ দিবস হিসেবে তো কিছু কথা থাকতেই পার।
জেরি : হ্যাঁ। কিন্তু এই দিবসটি দিয়ে কি হবে বলুন। শুধু একটি দিবস দিয়ে তো আর নারীদের কোন লাভ নেই।
 
সাংবাদিক : তাহলে আপনার মতে কি করা উচিত?
জেরি : প্রথম নারী অধিকারের কথা বাদ দিয়ে বলা উচিত মানুষের অধিকারের কথা। আমি নারী হিসেবে আলাদা কোন অধিকার চাই না। কিন্তু মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার চাই। মানুষ হিসেবে যতটুকু স্বাধীনতা দরকার, সেটুকু পেতে চাই। এক নারী দিবসের দিন নারীদের মুক্তি কথা বলে শেষ হয়ে যাবে বিষয়টা এমন নয়।
 
সাংবাদিক: নারী অধিকার তাহলে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?
জেরি : নারী অধিকার বলে কিছু নেই। আমি মানুষের অধিকারের কথা বলছি। আর যেহেতু আপনি নারীদের নিয়েই বলছেন, তাহলে আমি বলব। নারীরা না চাইলে নারীদের মুক্তি সম্ভব নয়। অনেক আগে আমার দাদীর কাছে আমার মা ছিল মেয়ে। এখন আমার মায়ের কাছে আমি মেয়ে। পরিবার থেকে একজন মেয়েকে স্বাধীনতা না দিলে স্বাধীনতা আসবে না কোন দিন।
একটা নারী দিবস এলো আপনি আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন আজকে। আমি না হয় কিছু বলতে পারছি। কিন্তু এখনো বাসায় মুখ ফুটে নিজের চাওয়াটা পর্যন্ত বলতে পারে না অধিকাংশ নারী। এই ঢাকার বুকেই মাত্র ২ ভাগ নারী হয়ত নারী স্বাধীনতার স্বাদ পায়। বাকিরা কাদের কাছে গিয়ে তাদের কথা বলবে?
 
সাংবাদিক : তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন নারী দিবসের প্রয়োজন নেই?
জেরি : আমি তেমন কিছুও বলিনি। আমি শুধু বলতে চেয়েছে, নারী হিসেবে নয় আমাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সমাজে আপনার আমার চারপাশে নারী নয়, কিছু মানুষ আছে। আর নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নারীদের নিজেদের উচিত কিছু করা। সেদিন রাস্তায় এক ছেলে আমি হেটে যাওয়ার সময় বাজে কথা বলল। আমি তার প্রতিবাদ করার সঙ্গে সঙ্গে আমার বান্ধবী বলল, ‘থাক, পুরুষ মানুষ’। প্রতিবাদ যদি না করেন তাহলে বঞ্চনা থেকে মুক্তি নেই। নারী মা, মমতাময়ী। কিন্তু তাকে প্রয়োজনে দুর্গাও হতে হবে।
 
সাংবাদিক : বর্তমান নারী আন্দোলন আপনার দৃষ্টিতে কেমন?
জেরি: আমার মনে হয় বর্তমানে নারী আন্দোলন পুরুষ বিদ্বেষী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নিজের যোগ্যতা নেই পুরুষের পা ধরে টেনে নামাও নিজের স্তরে! এটা কেন করতে হবে। আপনি নিজের যোগ্যতা দিয়ে অবস্থান তৈরি করুন। আপনাকে কেন অন্যকে ছোট করতে হবে। আমার ধারণা বর্তমানে নারী আন্দোলন করা অধিকাংশরাই এই আন্দোলনের মূল কারণটাই বোঝে না। আর সে কারণেই বিশ্বজুড়ে নারী আন্দোলনের বদলে তৈরি হচ্ছে পুরুষ বিদ্বেষী একদল নারী। এটা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্যও খারাপ।
 
সাংবাদিক : নারী আন্দোলন তাহলে কিভাবে হওয়া উচিত?
জেরি : শুরুটা হতে হবে পরিবার থেকে। পরিবার থেকে এখনো নারীদের মুক্তি দেয়া হয়নি। তাদের স্বাধীনভাবে চলতে দেয়া হয় না। স্কুলে গেলে মা অথবা ভাই সাথে যাবে, আবার নিয়ে আসবে। এর কারণ যদিও সামাজিকভাবে নিজের সন্তানকে রক্ষা করা, কিন্তু এই নারী একা কিভাবে স্বাধীন হয়ে চলবে। তাকে ছোট থেকেই নির্ভরশীল করে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়াও এখনো অধিকাংশ নারী তার বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আপনাকে নাম বলব না, কিন্তু আমার পরিচিত একজন অভিনেত্রীকে বিয়ে দেয়া হল। সে তার মাকে বলেছিল, গ্রাজুয়েশন শেষ করে বিয়ে করবে। কিন্তু তার কথা কেউ শুনল না। এই যদি হয় পরিবারে অবস্থা, তাহলে এই নারী দিবস পালন করে লাভ কি?
 
সাংবাদিক : অন্য প্রসঙ্গে আসি, অভিনয় শিল্পে নারীদের অবস্থাকে কিভাবে দেখছেন?
জেরি : আমি পজিটিভ-নেগেটিভ দুই দিক নিয়ে বলব। টিভি নাটক বা সিনেমা জগতের কথা যদি বলতে চান, অভিনেত্রী হিসেবে আমার ছোট ক্যারিয়ারে দেখেছি কিছু কিছু দিক থেকে নারীরা অনেক এগিয়ে। বিশেষত পারিশ্রমিক ও সম্মানের ক্ষেত্রেও বেশ এগিয়ে। কিন্তু এর অপর পিঠে কিছু অপমানের কথাও রয়েছে। ‘অভিনয় করতে হলে বিছানা গরম করতে হবে’ এই কথা নতুন আসা অধিকাংশ অভিনেত্রীকেই কম-বেশি শুনতে হয়। নতুন যারা এই জগতে প্রবেশ করে, তারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে আসে। তখন এমন কথা তাদের পুরো জগৎ ওলট-পালট করে দেয়। তার আত্মায় গিয়ে আঘাত লাগে। আপনিও বিষয়টা সম্পর্কে হয়ত কম-বেশি জানেন। আমাকে যারা চেনে তারা কখনো এমন অফার দিতে সাহস করে না। যারা চেনে না তারা মাঝে-মধ্যে এমন কথা বলে। তার উচিত উত্তরটাও পেয়ে যায়।

লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ