,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও অবহেলিত নন-এমপিও শিক্ষক ।। সফিউল্লাহ আনসারী

লাইক এবং শেয়ার করুন

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষকরা আমাদের,আমাদের সন্তানের জীবন গড়ার কারিগড়। আমাদের সকলের শিক্ষাগুরু হিসেবে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। এই মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকমন্ডীর প্রতি অবজ্ঞামুলক আচরন একটা জাতীর জন্য মোটেই সুখকর নয়। নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা আজ একটা শক্ত ভীতের উপর দাড়িয়েছে। আর এ কাজে সরকারের উদ্যোগ ও কর্মসুচিকে বাস্তবায়নে শিক্ষকের ভুমিকা অনেক। তাই শিক্ষার গুরুত্বের সাথে সাথেই শিক্ষকের ভালো-মন্দ ও তাদের অধীকারের কথা ভাবতে হবে।

উন্নয়নের ধারায় উদ্ভাসিত আমাদের দেশে আজোও অবহেলিত শিক্ষক সমাজ। বছরের পর বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকমন্ডলী এমপিওভুক্তির আশায় আজো দিন গুনছেন। আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড আর শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষার সাথে শিক্ষকদের স¤পর্ক নিবিড়। শিক্ষকের পরিশ্রম ছাড়া শিক্ষার প্রসার ও বাস্তবায়ন সম্ভব না। শিক্ষকরা জাতীকে শিক্ষিত করে দেশের শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার কারিগড় হিসেবে জ্ঞাণ বিলিয়ে যাচ্ছেন অকাতরে। অথচ এই ভাগ্যহত শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য অধীকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অজানা কারনে। বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষক বেতন-ভাতা না পোয়ে অবহেলিত-বঞ্চিত।

শিক্ষার যেমন শেষ নেই তেমনি শিক্ষকের মর্যাদার কোন সীমা নেই। একজন শিক্ষক আমাদের, মানে শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার কারিগড়। মা-বাবা সন্তানের জন্মদাতা হলেও শিক্ষক তার জীবন আশীর্বাদ হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। জাতির উন্নতি ও অগ্রগতিতে শিক্ষক সমাজের রয়েছে অপরিসীম ভূমিকা । সততা মেধা-মনন, দেশপ্রেম, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন, আÍবিশ্বাসের প্রেরনা যোগাতে একজন শিক্ষক তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করেন। আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে একজন শিক্ষকের ভুমিকাকে যেমন অস্বীকার করা যায়না তেমনি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্ভি করে তাদের চাহিদা মেটানোও অত্যান্ত জরুরি। আর এর জন্য দরকার এমপিওভুক্তির ব্যাবস্থা করা। এমপিওভুক্ত শিক্ষদের মতোই নন-এমপিও শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন। কিন্ত তাদের প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধীকার বঞ্চিতদের অবহেলিত অবস্থা দেখে লজ্জা হয়।

৫ অক্টোবর বিশ্ব ‘শিক্ষক দিবস’। দিবসটি মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করে তাদের সম্মানজনক অবস্থানকে মহিমান্বিত করতে পালিত হয়’-ইউনেস্কোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি।‘বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে এবং দিবসটি পালনে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল (ঊফঁপধঃরড়হ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ-ঊও) ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখে।”

শিশু বয়স থেকে আমাদের শিক্ষার হাতেখড়ি মা-বাবার কাছ থেকে হলেও শিক্ষদের পরিপুর্ণ পরিচর্যা ছাড়া আমাদের সন্তানদের শিক্ষা জীবন সফল হবেনা। আমাদের বাবা এবং মা আমাদের প্রথম শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মন্ডলীর নিবিড় পরিচর্যা ও তাদের জ্ঞাণের আলো আমাদের ব্যাক্তি ও সমাজ জীবনে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। জীবন গঠনের জন্য একাডেমিক স্তর পেড়িয়ে সরকার নির্ধারিত নিয়ম মাফিক আমাদেরকে বিদ্যালয় ও বিশ্ব বিদ্যালয়ে পা রাখতে হয় শিক্ষা গ্রহন করার জন্য। সেখানে যে মহান মানুষগুলো আমাদের পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে জ্ঞাণের আলোয় আমাদের জীবনকে আলোকিত করেন সেই সম্মানিত ব্যাক্তিগন আমাদের শিক্ষাগুর-শিক্ষক। আমাদের জীবনে তাঁদের গুরুত্ব অপরিসীম।আদর্শ-সৎ নাগরিক তথা মানুষ গড়ার কারিগর তাঁরাই।

বিশ্বের অগণিত শিক্ষকদের আদর্শগত মহান কর্মকাণ্ডের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের পেশাগত অবদানকে শ্রদ্ধায় পালন করার জন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।‘টঘওঈঊঋ থেকেও, ৫ অক্টোবর দিনটিই ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে’। জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে শিক্ষকতা পেশার অবদানকেও স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস।বিশ্বের অনেক দেশেই অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ ‘টিচার্স ডে’ পালিত হয়ে থাকে।

আলোকিত মানুষ গড়তে নন-এমপিও শিক্ষকদের ভুমিকাও অপরিসীম। শিক্ষক দিবস আমাদের কাছে মহান দিবস হিসেবে শিক্ষকের প্রতি সম্মানবোধকে জাগ্রত করে। তাঁদের আদর্শকে আমাদের জীবন চলার পাথেয় হিসেবে গ্রহন করে সামাজিক মুল্যবোধকে সমুন্নত করতে হবে। অথচ সেই মহান শিক্ষদের ভাগ্য বিড়ম্ভিত দুরাবস্থা থেকে সম্মানের জীবনে আনতে আমাদের কোন উদ্যোগ নেই। কেনো? এই প্রশ্নের জবাব কি নেই? এমপিওভুক্তির দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারী নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশ্ন- ‘যে দেশের শিক্ষকরা পারিশ্রমিক পান না, শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা পান না, সে দেশে দক্ষ মানব স¤পদ তৈরি হবে কিভাবে? শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কাঙ্খিত অবস্থানে পৌঁছতে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবী ও সমস্যাগুলোর সুষ্ঠ সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। শিক্ষকদেও অনাহারে রেখে,তাদেও প্রাপ্য অধীকার থেকে বঞ্চিত করে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনে সার্থকতা প্রশ্নবিদ্ধ। যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন তাঁেদর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে,তাঁদের এমপিওভুক্ত করে একজন শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিবেন বলে আজকের এই শিক্ষক দিবসে নন-এমািপও শিক্ষক-কর্মচারিসহ সকলের প্রত্যাশা। সফল হোক‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

(তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট, ইউকিপিডিয়া)


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ