,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়

লাইক এবং শেয়ার করুন

(মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) :

অকাল বন্যায় ফসলহানির পর হাওড়জুড়ে তীব্র হাহাকার বিরাজ করছে। দিনহীন মানুষ চোখে অন্ধকার দেখছেন। কৃষকের পাশাপাশি জেলে পরিবারও চরম খাদ্যসংকটে ভুগছে। ক্ষুধার জ্বালায় শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা খুবই করুণ।

অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক জায়গার অসংখ্য মানুষ কোনো রকম সহয়তা পায়নি। তাদের কাছে পৌঁছেনি ত্রাণসহ কোনো রকম সাহায্য। দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে তাদের সার্বিক সহযোগিতার দাবি উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। সহযোগিতার অভাবে অনেকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

অতি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ডুবে যায় সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনো, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লাখ লাখ একর জমির উঠতি ফসল। ফসল হারিয়ে কৃষক পরিবার দিশেহারা। তারা আগামী দিনে কীভাবে আহার জোগাবে, তা ভেবে কূল পাচ্ছে না।

পানিদূষণে মাছ মরে যাওয়ায় জেলে পরিবারও বিপাকে পড়েছে। মড়কের মতো মাছ, হাঁস, মহিষ ও গরু মরে যাওয়ায় সর্বস্তরের মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছে। তাদের চোখে-মুখে দুর্ভাবনার ছাপ স্পষ্ট। তারা খাবার সংকট ও আয়ের উৎস হারিয়ে চোখে সরষে ফুল দেখছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর মৌলভীবাজার জেলার তথ্যমতে, বন্যায় এই জেলায় ১০০ কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকার ফসল, মাছসহ অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পানিতে বিষক্রিয়ায় হাকালুকিসহ মৌলভীবাজারের হাওরের ২৫ হাজার টন মাছ মরে গেছে।

আকস্মিক এই অকাল বন্যায় উপরিউক্ত জেলাগুলোর অর্ধকোটির বেশি মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা করা দরকার। দুর্গত এই মানুষদের নিয়ে রাজনীতি কারো কাছেই কাম্য হতে পারে না। অথচ কিছু বিষয় পীড়ার কারণ হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, দেশের একটি বড় দলকে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে দেয়া হচ্ছে না। অভিযোগ সত্য হলে খুবই পরিতাপের বিষয়। হাওরাঞ্চলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এটা একা কারো পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়াই অধিক যুক্তিযুক্ত।

জানা গেছে, যেখানে প্রায় কোটি মানুষ ক্ষতির শিকার, সেখানে মাত্র ৩ লক্ষাধিক পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি চাল আর ৫০০ টাকা দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় যা একবারেই অপ্রতুল। ১০ টাকা কেজির চালও সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এটা সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে অনেকে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, তাদের এলাকাগুলোকে দুর্গত হিসেবে ঘোষণা করা হোক। বন্যাদুর্গতদের জন্য সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তাও অপ্রতুল। এই সহায়তা বৃদ্ধি এবং এর আওতা বাড়ানো দরকার।বেশি দরকার মধ্যবিত্ত পবিারগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেয়া। তারা চরম বিপাকে পড়েছে।

আবাদি ফসল, চাষের মাছ, হালের গরু-মহিষ, পালিত হাঁস হারিয়ে আজ যারা এক রকম সর্বশান্ত, সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়ানো সময়ের দাবি। হাওরাঞ্চলের আক্রান্ত-ক্ষুধার্ত-সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা যায়, ততটুকু হলেও করা মানবিক দায়িত্ব। সে দায় পূরণে আমি, আপনি এবং আমরা কেন পিছিয়ে থাকব।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ