,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বৈশাখ:বাঙালীর প্রাণের উৎসব

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী # পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির আনুষ্ঠানিকতায় অন্যতম উৎসব হিসেবে ক্রমেই জায়গা কওে নিচ্ছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এই পয়লা বৈশাখ বাঙালী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ,বাঙালীর সার্বজনীন প্রাণের উৎসব। এই বাংলা নববর্ষের ইতিহাস এবং উদযাপনের সূচনা হয় নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখে বাংলা সনের প্রবর্তনের সময় থেকেই। যা আমাদের জাতী-গোষ্ঠির মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো উন্নত করে বৈশাখ সার্বজনীন উৎসবে রুপ নিচ্ছে।

সময়ের সাথেই জাতী,ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব আজ, এই পহেলা বৈশাখ পেয়েছে তার সার্বজনীনতা। পয়লা বৈশাখের এই আয়োজনকে বিধর্মীদের উৎসব হিসেবে একসময় বিবেচনা করা হতো। বর্তমানে সকল ধর্মের মানুষের সার্বজনীন উৎসব হিসেবে বৈশাখ উদযাপন হয়ে থাকে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় আনন্দঘন পরিবেশে।

সকল বিপত্তি মাড়িয়ে নববর্ষ বরণে বৈশাখ মাস হয়ে ওঠেছে বাঙালীর সংস্কৃতির অংশ ও আনন্দ উৎসব। নববর্ষ বরণে পয়লা বৈশাখের দিন থেকে শুরু করে সারা মাস জুড়েই দেশের আনাচে-কানাচে,ঘোড়া-দৌড়,ষাঁড়ের লড়াই,মোরগ যোদ্ধ,নৌকা বাইচ,বৈশাখী মেলা,পালা গান,জারি-সারি,কবি গান,গাজি-কালুর গান,পুতুল নাচ,বাউল-মুর্শিদি-ফকিরী,ভাটিয়ালি গান,লাইলি-মজনু,রাধা-কৃষ্ণ,ইউসুফ-জুলেখা অমর প্রেম কাহিনী সহ ভিন্ন আঙ্গিকের গানের অনুষ্ঠান আয়োজন ।

তবে শহুরে উৎসবে থাকে একটু ভিন্নতা,থাকে বাঙালীয়ানার নতুন নতুন ঢং। পয়লা বৈশাখ হয়ে উঠে বাঙালীর জীবনে এক সার্বজনীন আনন্দ উৎসব হিসেবে ক্রমেই পোক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বাঙালীর রয়েছে অন্যরকম আবেগ-অনুভূতি যা তাদের চেতনাকে শানিত করে দেশ প্রেমের ঐতিহ্যকে ধারন করে ।

বর্তমান সময়ে বৈশাখের প্রথমদিনে শহর-গ্রামের বিভিন্ন আয়োজনে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যা অনেকটা ইংরেজী নববর্ষ উদযাপনের মতোই আনন্দ-উল্লাসে পহেলা বৈশাখ পালন করা, প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিজাতীয় ফ্যাশনের মিশ্রনে এই আনুষ্ঠানিকতা, সংস্কৃতির ভাসা-ভাসা আবেগ নয়,প্রয়োজন শেকঁড়ের গভীর থেকে বাঙ্গালী চেতনাকে উজ্জীবিত করা। আমাদের প্রত্যাশা শুধু এই একটা দিনকে ঘিরে নয়,সারা বছর যেনো থাকে চেতনায়-মননে-বিশ্বাসে।

দেশীয় ঐতিহ্যকে ধারন করতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজেদের সংস্কৃতিকে অস্বিত্বের সাথে সম্মিলন ঘটিয়ে,উৎসবকে অর্থব এই বৈশাখকে নিয়ে রয়েছে কাব্য- “বিশাখা হইতে মাস হইল বৈশাখ/আরম্ভিলা গ্রীষ্মকাল প্রখর নিদাঘ /এই মাস হতে বঙ্গে বর্ষ শুরু হয়…। যেভাবেই হোক শুরু তাতে কি? মূল বিষয় হলো বাঙালী চেতনা আর উৎসবের সার্বজনীনতা। “মুছে যাক গ্লানি ঘুছে যাক জরা অগ্নি স্নানে সূচী হোক ধরা । রসের আবেশ রাশি শুষ্ক করে দাও আসি আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক। এসো হে বৈশাখ এসো এসো…” কবিগুরুর  এই লাইনগুলো যেনো বৈশাখকে করেছে মহিমান্বিত।এই গান ছাড়া যেনো বৈশাখের আয়োজন অপূর্ণ।  

সকল ভেদাভেদ ভূলে দেশ-মাতৃকার মঙ্গল কামনায় সবাইকে জানাই শুভ পহেলা বৈশাখ,শুভ নববর্ষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। শুভ হোক প্রতিটা ভোর বছর জুড়ে,স্বাচ্ছন্দ আসুক প্রাণে প্রানে…

<

p style=”text-align: center;”>পয়লা বৈশাখের দিনে
প্রাণ খুলে গাই গান
বৈশাখ এলো,এলো তাই
আনন্দে নাচে প্রাণ।

বিভেদ ভূলে মিলে-মিশে
উৎসবে হই বাঙালী
ঈান্তা-ইলিশ,জিলেপির স্বাদ
খাই একসাথে মিলি।
মেলাতে যাই ছন্দে-সুরে
নারী-পুরুষ
জোয়ান বুড়ি
সাজ-সাজ রব পড়ে যায়
শোভাযাত্রায় হুড়োহুড়ি!

শাান্তি কামনায় সকাল থেকেই
চলে প্রার্থনার সেই গীত
আমরা মানুষ;আমরা বাঙালী
আনন্দে খোঁজিনা হার-জীত!

(পয়লা বোশেখ-সফিউল্লাহ আনসারী)


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ