AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বইমেলা প্রাণের মেলা

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী # বইমেলা প্রাণের মেলা,বইমেলা চেতনায় বাংলা। মেলা মানেই উৎসব। আমাদের দেশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের মেলার পরিচয় থাকলেও বইমেলার রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব।বইমেলার সাথে রয়েছে শহীদের আত্মত্যাগ,জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলন,মায়ের ভাষাকে ধারন করার চেতনা। সাধারণ মেলার সাথে গ্রামীন সংস্কৃতি,লোক সংস্কৃতি,আঞ্চলিকতা,অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকে। থাকে নানা জিনিসপত্রের পসরা। দোকানিরা সাজিয়ে রাখেন হরেক মালপত্রের বাহারি সাজে। প্রয়োজনীয়-সৌখিন সহ যে কোনো জিনিসই মেলায় পাওয়া যায়। মেলা মানে দেখা আর কেনা-বেচার একটা ব্যাপার। আর ক্রেতাও থাকে ভিন্ন রুচির। কতো রকমের মেলার সাথেই না আমাদের পরিচয়। যেমন- বাঙালীর প্রাণের মেলা বৈশাখী মেলা, মধু মেলা, ঈদ মেলা, পুজোর মেলা, আমের মেলা, ফল-ফুলের মেলা, বৃক্ষমেলা, পিঠা মেলা, শিক্ষামেলা, জামাইমেলা, বিজ্ঞাণমেলা প্রভৃতি মেলা রয়েছে আমাদের সামাজিকতা-সংস্কৃতিতে। তবে একটা জাতীর নিজস্ব শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে, একজন লেখককে অগনিত পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে বইমেলার গুরুত্ব অনেক। সমাজ এবং সময়ের সাথে সভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ মেলা হচ্ছে বইমেলা। আর বইমেলা মানেই বিভিন্ন রকমের বইয়ের মেলা।

বইয়ের বিশাল ভান্ডার, বাঙালীর জীবনে বইমেলা- বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য আর সংস্কৃতির গুরুত্বকে বহন করে। সভ্যতাকে যুগ যুগ ধরে এগিয়ে নিতে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বইমেলা সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধ করে বাড়িয়ে দেয় আলোকিত মানুষ গড়ার সমাজ বির্নিমানে আরো একধাপ।
সব‘চে বড় বিষয় হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের মাসে একুশে গ্রন্হমেলা শিক্ষিত-বুদ্ধিজীবি, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক সমাজের এক মহা মিলন মেলার সাথেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমায় ভাষ্কর।রক্তের দামে কেনা বর্ণমালা,আমার মায়ের ভাষা। এ ভাষাতে কথা বলতে দ্বীধাহীন বাঙালী অকাতরে বিলিয়েছে প্রাণ। রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার আর ভাষা সৈনিকের সর্বোচ্চ ত্যাগে আমরা পেয়েছি মাতৃভাষা বাংলাকে। এই মহান ভাষার মাসে ভাষা শহীদ, ভাষা সৈনিকদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

“একটি ভাল বই হলো বর্তমান ও চিরদিনের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বন্ধু।” মননশীলতার বিকাশ আর সৃষ্টিশীলতার আনন্দকে উজ্জীবিত করতে বইমেলা অনন্য ভূমিকা রাখে। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বেই বইমেলাকে ঘিরে নবচেতনা আর উচ্চাস-আগ্রহের শেষ নেই। কারন শিল্পী-সাহিত্যিক ছাড়া সমাজ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। লেখকের লিখনীতে বিপ্লব হয়,আধাঁর পালায়, আলোকিত ক্ষণ এগিয়ে আসে, পশুত্ব দূর হয়, মনুষত্ব জাগ্রত হয়। মানুষকে মানুষ হয়ে উঠার জন্য বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। আর বইকে পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে বইমেলার ভূমিকা সবচেয়ে বেশী।

বইমেলার স্বার্থকতা তখনি,যখন পাঠক তৈরী হবে। আর পাঠককে বইমেলামুখি করতে না পারলে ব্যার্থতা থেকেই যাবে। শিক্ষার হার বেড়ে আমাদের দেশের মানুষ অন্যান্য মেলামুখি হলেও বইমেলার ব্যাপারে উদাসীন। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ সার্বজনিনভাবে আজো বইমেলায় অংশ গ্রহন করেনা। দু:খের বিষয় এটা। শুধু বইমেলার আয়োজনে থাকলেই হবে না,যদি মানুষের মাঝে বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তোলা না যায়। আর বই পাঠের উপযুক্ত পরিবেশের জন্য এই বইমেলা কেন্দ্রিক পাঠাগার নির্মাণ করাও জরুরী। নয়তো বইমেলার মাস ফেব্রুয়ারি শেষ হবার সাথেই বই প্রেমিদের হারিয়ে যাবার আশংকা থেকেই যায়।

ফেব্রুয়ারি মাস তথা বইমেলাকে ঘিরে প্রচুর বই প্রকাশ হয়,যা বছরের অন্য সময়ে ততোটা হয়না। কিন্তু বইয়ের গুণগত মানের ব্যাপারে আপোস হওয়ায় কখনো পাঠক মুখ ফিরিয়ে নেন । মানসম্মত বই যেমন বইমেলা ও পাঠককে গুরুত্বপুর্ণ করে,তেমনি মানহীন বই পাঠককে নিরোৎসাহীত করে; বইমেলাকেও করে প্রশ্নবিদ্ধ। বই প্রকাশ, বইমেলাকে অর্থবহ করতে পাঠক-ক্রেতাকে টানতে মানসম্মত বই প্রকাশ ও বিক্রয়ের বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের। সেদিকে খেয়াল দেয়া বাংলা একাডেমিসহ লেখক-প্রকাশকদের জন্য জরুরী।

বই যেমন জ্ঞাণের বড় মাধ্যম, তেমনি আনন্দ-বিনোদনের উৎস। একজন বইয়ের পাঠক কখনো বিপথগামি হতে পারেননা। আমাদের উচিত বেশী-বেশী বই পড়া,বইমেলা থেকে বই সংগ্রহ করা, নবীন লেখকদের উৎসাহীত করা সাথে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর জন্য পাড়ায়-মহল্লায় পাঠাগার স্থাপন করা। তবেই বইমেলার স্বার্থকতা পাওয়া যাবে। বলা যাবে বইমেলা-প্রাণের মেলা।

সফিউল্লাহ আনসারী
সম্পাদক-আমারবাংলা-সাহিত্যপত্র


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ