,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন

লাইক এবং শেয়ার করুন

সফিউল্লাহ আনসারী # “বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালবাসুন”। ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও এ দিন। সুন্দরবনকে ভালোবাসতে ভালোবাসা দিবসে শপথ নিতে হবে । দেশের বনাঞ্চল ও পরিবেশ প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে, আমাদের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ সুন্দর দেশ উপহার দিতে এবং সুন্দরবনকে ঘিরে পযর্টন এবং মৎস্য-বনজ সম্পদের মাধ্যমে বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়কে অব্যাহত রাখতে এবং দেশ-জীবনের প্রয়োজনেই সুন্দরবনকে রক্ষা করা আমাদের দায়ীত্ব।

সুন্দরবনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর একে সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের তত্বাবধানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশ এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদি সংগঠনের অংশ গ্রহনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে(২০১১ সালে) ১৪ ফেব্রুয়ারিকে “সুন্দরবন দিবস” ঘোষণা করে প্রতিবছর পালন করছে।বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবেসে একে রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি সকল মহল এগিয়ে আসবেন,রক্ষা পাবে প্রাণের সুন্দরবন এমন আশাবাদ এ অঞ্চল ও দেশের মানুষের। “২০০১ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে দিবসটিকে সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”(ইউকিপিডিয়া)

১৪ ফেব্রুয়ারিকে সুন্দরবন দিবস ঘোষণার দাবিতে গতকালও(১৩ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে “বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন” শ্লোগানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস ঘোষণা করার জন্য দাবি জানিয়েছে বনবিভাগ ও সুন্দরবন একাডেমিসহ ১৫টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন(সুন্দরবন একাডেমি ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসএআইডি‘র অর্থায়নে পরিচালিত ক্রেল প্রকল্প, ওয়াইল্ডটিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন, বাংলাদেশ এনভারণমেন্ট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সোসাইটি (বেডস), সিসিইসি, রূপান্তর, জেজেএস, দুবলারচর ফিশারমেন গ্রুপ ও খুলনা প্রেস ক্লাব।)পত্র-পত্রিকা মারফত জানা গেছে,এবারের সুন্দরবন দিবসে খুলনা মহানগরীর নির্বাচিত ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনে- ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলভিত্তিক অঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে “জীববৈচির্ত্যের সুন্দরবন, করবো মোরা সংরক্ষণ” রঙ-তুলিতে ফোটে উঠেছে এবং তাদের  চিন্তা-চেতনা এবং
দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এতে অনেকাংশে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি সুন্দরবনের সুষ্ঠু পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করে পযর্টন শিল্প সম্প্রসারণ ও বনজ-মৎস্য স¤পদের মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের পথ সুগম করার।যাতে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নতির সাথে সাথে  জীববৈচিত্র সংরক্ষিত হয়। “সুন্দরবন রক্ষার জন্য ১৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সুন্দরবন ও বনের জীববৈচিত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো, জাতীর প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষার জন্য অনতি বিলম্বে বাঘ-হরিনসহ সুন্দরবনের সকল প্রকার প্রাণী হত্যা বন্ধসহ যাবতীয় বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করা, সুন্দরবনের পার্শ্ববতী এলাকা সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পে যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহন, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ-নবায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা, তেল-গ্যাস আবিষ্কারের জন্য অনুসন্ধানী উদ্যোগ বন্ধ করা, আইনানুগ সম্পদ আহরনকারীদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ, বন ও বন্য প্রাণী আইনকে আরও যুগোপযোগী এবং প্রয়োজনে পৃথক বন আইন, বনের ভিতর ও পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদী সমূহের সংস্কার বিশেষ করে গোরাই নদী শাসনের ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, সুন্দরবন এলাকায় চিংড়ি পোনা ধরার কারণে মাছসহ জলজ সম্পদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সুন্দরবনে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ট্যুরিষ্ট স্পট গড়ে তোলা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান-দক্ষতা ও আগ্রহ বিবেচনা করে সুন্দরবন বিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ প্রদান করা, সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে স¤পদ ব্যবস্থাপনা-নবায়ন ও সংরক্ষণে জনগণ ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জীব বৈচিত্রের বিশেষ আধারের বিভিন্ন উপাদানের সাথে জাতিকে পরিচিত করানোর জন্য জনগণের পরিধি বিস্তৃত করা, বন ও বনের জীব বৈচিত্র রক্ষায় গণ সচেতনতা সৃষ্টি, জীব বৈচিত্র রক্ষা-প্রজনন-রোগ-বালাইসহ যে কোন কারণে গবেষণার পদক্ষেপ, সুন্দরবনের অবক্ষয় রোধ কল্পে বনবিদ-শিক্ষাবিদ-গবেষক-পরিবেশবিদ এবং জাতীয় ও স্থানীয় এনজিও, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জন প্রতিনিধি সমন্বয়ে নির্বাহী ক্ষমতা স¤পন্ন সুন্দরবন ওয়াচ গ্রুপ বা সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ দল গঠন ও সুন্দরবনের বিতর্কিত বিষয় অধিকতর মত বিনিময়ের ব্যবস্থা করাসহ ১৮ দফা দাবি সমন্বিত খুলনা ঘোষণায় বলা হয়।সুন্দরবনের ৫ হাজার প্রজাতির সম্পুরক উদ্ভিদ,১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী,১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির  স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ রয়েছে।” (সংগৃহীত)

বিশ্বের অন্যতম এ ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের গর্ব সুন্দরবন।শুধু আমাদের বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্ব‘ই চায় সুন্দরবন বেঁচে থাকুক বছরের পর বছর। সুন্দরবনকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা থেকেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে পালিত হয় “সুন্দরবন দিবস”। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তারুণ্যে উচ্ছাস,মাতামাতি থাকবেই।সার্বজনিন ভালোবাসার একটা অংশ হিসেবে বন ও পরিবেশ গুুরত্বের দাবিদার। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের বেঁচে থাকা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জীবন যাত্রায় সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপুর্ণ ও নির্ভরশীল এ বনকে ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। তাই আসুন দেশ-মা-মাটির ভালোবাসায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে সুন্দরবন দিবসকে অর্থবহ করে তুলি। সুন্দরবন রক্ষা হলে আমরা ভালো থাকবো,ভালো থাকবে দেশ এবং বাংলাদেশের পরিবেশ থাকবে সুস্থ-সুন্দর।এবারও আমাদের শ্লোগানে মুখরিত হোক সময় ঠিক এভাবে-“বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালবাসুন”।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ