,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

হুমায়ূন আহমেদের মৃতুবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি চলছে

লাইক এবং শেয়ার করুন

বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ জুলাই মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে হুমায়ূন আহমেদ তার পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের উদ্যোগে চলছে মৃতুবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি।

কিন্তু শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে সম্প্রতি অপরিচিত দুই ব্যক্তির আগমন ও স্থানীয় লোকদের কাছে হুমায়ূন আহমেদের ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের কারণে ওই এলাকায় জঙ্গি আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান নিয়েও সংশয়ে রয়েছে বিদ্যাপীঠ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।

বিদ্যাপীঠ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার তিনদিন পর দুজন অপরিচিত লোক শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে এসে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। তারা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল-আমিন ও বিদ্যালয় সংলগ্ন মুদি দোকানি আলী আকবর ও আব্দুস সালামের কাছে জানতে চান- হুমায়ূন আহমেদ নামাজ পড়তেন কিনা, মসজিদে কোনো অনুদান দিয়েছিলেন কিনা এবং নামাজ পড়তে তাকে কেউ দেখেছেন কিনা? এসময় আগতদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা কৌশলে পরিচয় এড়িয়ে যান।

পরে তারা স্থানীয় বঙ্গবাজারে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চান, বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক কে এবং তিনি কোথায়? উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের প্রশ্নের উত্তর না দেয়ায় ওই দুই ব্যক্তি চলে যান। আকস্মিকভাবে তাদের দেখে উপস্থিত শিক্ষকরা অনেকটা ভয় পেয়ে যান বলে জানা গেছে।

শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক আল-আমিন জাগো নিউজকে জানান, ‘অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি যখন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তখন তাদের চেহারা দেখেই আমরা ভয় পেয়ে যাই। তাদের মুখে খোচা খোচা দাড়ি। একজনের পরনে ছিল প্যান্ট ও টি-শার্ট। অন্যজনের পরনে ছিল শার্ট ও লুঙ্গি। তাদের এলাকায় এর আগে কোনোদিন দেখিনি।’

হীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, ‘এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। অপরিচিত দুই ব্যক্তি হঠাৎ এসে হুমায়ূন স্যারের ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়ার ঘটনার পর থেকে আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

স্যারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরই বিদ্যাপীঠের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ বছর আমরা অনুষ্ঠান নিয়ে চরম সংশয়ে রয়েছি। তাই অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এ বছর আধাবেলা শুধুমাত্র শোকর‌্যালি, প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিল করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ব্যতীত অপরিচিত কেউ র‌্যালিতে অংশ নিতে পারবে না।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, ‘পুলিশ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। মৃতুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশসহ সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) উপস্থিত থাকবেন।’


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ