,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

রাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তরঙ্গ বাংলাদেশে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে : ফজলে হোসেন বাদশা

লাইক এবং শেয়ার করুন

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি # শিক্ষক হত্যার পর শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন দেখতে পাচ্ছি তা বাংলাদেশে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী ২ আসনের সাংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। শনিবার বেলা ১১ টায় বিশ্বদ্যিালয়ের সিনেট ভবনের সামনে রাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউল হত্যার আগে তিন জন শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করার জন্য তারা দিন দিন আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। রেজাউল হত্যায় আমরা শোক পেয়েছি, কষ্ট পেয়েছি, সে শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আমি মনে করি, এর বিরুদ্ধে একটা সর্বাতœক সংগ্রাম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

সকল বিভাগ ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ আন্দোলনকে বেগবান করতে আপনারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটা মঞ্চ তৈরি করবেন। সেই মঞ্চে শিক্ষকরা নেতৃত্ব দিবেন। সেই মঞ্চের কর্মসূচিকে আমরা সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করে যাবো। কারণ এই মৃত্যুই যেন শেষ মৃত্যু হয়Ñএটা আমরা কামনা করি।RU. Badsha .1ফজলে হোসেন বাদশা আরো বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরা বলেন, নিজের নিরাপত্তা বলয় নিজেরা তৈরি করুন। কেন আপনারা চলবেন বন্দুক হাতে, আর আমাদের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে বলেন?Ñএটা কোন প্রজাতন্ত্রের বক্তব্য হতে পারেনা। আপনি পুলিশ প্রধান হতে পারেন, কিন্তু আপনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এটা ভূলে যাবেন না এবং এদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আপনার বেতন, ভাতা, যাবতীয় পরিচালিত হয়ে থাকে। তাই দায়িত্বশীল হয়ে কথা বলা উচিত।’

মানববন্ধনে অধ্যাপক রেজাউল করিমের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বলেন, ‘আমার বাবাকে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে সেটা খোঁজার জন্য আমরা ব্যস্ত। তিনি আস্তিক ছিলেন না নাস্তিক ছিলেন এসব বিষয় নিয়ে সবাই মাথা ঘামাচ্ছেন। কিন্তু তাকে কে হত্যা করলো সেটা সেদিকে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।’

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ্, লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি আওয়াল হোসেন মোল্যা, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, আইন অনুষদের সাবেক ডিন বিশ্বজিৎ চন্দ, বাংলা বিভাগের সভাপতি অমৃত লাল বালা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী প্রমুখ।

এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে থেকে একটি মৌন মিছিল বের  করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ‘সাবাস বাংলা’ ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয় তারা। পরে সেখান থেকে তারা ‘মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চে’ গিয়ে সমাবেশ করে। এ সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগ, লোকপ্রাশাসন বিভাগ, আইন বিভাগ, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ মিছিল নিয়ে এসে যোগ দেয়। পরে সমাবেশ শেষে ১১টায় শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে যোগ দেয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এসময় প্যারিস রোডে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী যোগ অংশগ্রহণ করে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছে ফলিত গণিত বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ, ভাষা বিভাগ, বাংলা বিভাগ, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ। এদিকে বেলা ১২টায় প্যারিস রোডে হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদী সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে অরণী সাংষ্কৃতিক জোট। প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল শনিবার নগরীর শালবালাগান এলকায় অধ্যাপক রেজাউল করিমকে হত্যা করে দুবৃত্তরা। এরপর থেকে বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
 


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ