,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আবাসনের দাবিতে ডাকা আন্দোলনে অচল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

লাইক এবং শেয়ার করুন

রাজধানীর পরিত্যক্ত কারাগারে নতুন হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ছাত্র ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। রোববার সকালে বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্যা ম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, এ আন্দোলনের ফলে কোনো বিভাগেরই-ক্লাস পরীক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘট পালনের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ ইসলাম বাদল রোববারের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

গত বৃহস্পতিবার হলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ডাকা ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ওইদিন সকাল থেকে ফটকে তালা লাগিয়ে ও আগুন জ্বেলে সড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গায় আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা–কর্মীরা। ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল আমিন বলেন, দাবি আদায় না হলে রোববারও সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। পরদিন সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করা হবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইমরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছ ১০ বছর কিন্তু আজ পর্যন্ত প্রশাসন একজন শিক্ষার্থীর জন্যও আবাসনব্যবস্থা করতে পারেনি ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেস বা বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। সম্প্রতি জঙ্গি দমনের জন্য পুলিশ বিভিন্ন মেসে অভিযান চালাচ্ছে— এতে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হচ্ছেন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, ৮ আগস্ট কারাগারের জমিটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার ব্যাপারে একাডেমিক কাউন্সিল সভা একমত পোষণ করেছে। জমিটি পাওয়া গেলে জাতীয় চার নেতার নামে চারটি আবাসিক হল নির্মাণ করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে। এ কারাগারের জায়গা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেয়ার দাবিতে গত ২ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৮ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কারাগারের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

২০০৫ সালে অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের ১১টি হল প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। ২০০৯ সালে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে সরকারের উচ্চ মহলের টনক নড়ে। ওই সময় একাধিক হল বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকলেও তা কার্যকর করেনি ঢাকা জেলা প্রশাসন। পরে ২০১১ ও ২০১৪ সালে জোরালো আন্দোলনে দুটি হল পুনরুদ্ধার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আরেকটি হল আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকলে তা নিয়ে নেই কোন পরিকল্পনা; নতুন দুটি হল নির্মাণের উদ্যোগেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ।

১৯৮৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জগন্নাথের ৮টি হল বন্ধ হয়ে যায়। আর গত ২ আগস্ট থেকে সেই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। জমিটি পেতে ২০১৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আবেদন করেছিল। এবারে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জায়গাটির জন্য গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য মীজানুর রহমান।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ