,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগুনরাঙা বসন্ত

লাইক এবং শেয়ার করুন

বাসন্তি ফুলের স্নিগ্ধতার পরশে পবিএ হয়ে উঠুক প্রতিটি প্রাণ

কেউ বলে ফাল্গুন কেউ বলে পলাশের মাস আমি বলি প্রানের আহবান ”          মো:মিনহাজুর রহমান  

রঙ লাগলে বনে বনে, ঢেউ জাগলে সমীরণে, আজ ভুবনের দুয়ার খোলা, দোল দিয়েছে বনের দোল- আজ পহেলা ফাল্গুন।  

১লা ফাল্গুন বা বসন্ত এলেই বাঙালির মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের সেই পরিচিত গান ‘আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়….।’ এ সময়েই শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর। শীতের খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী নতুন আলো আর বাতাসের স্পর্শে জেগে ওঠে এ সময়। পলাশ, শিমুলগাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তের সাজসাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গুণ গুণ করে অনেকেই আজ গেয়ে উঠবেন- ‘মনেতে ফাগুন এলো…।’ কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরাপাতার শুকনো নূপুরের নিক্বন, প্রকৃতির মিলন এ বসন্তেই। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমন বার্তা নিয়ে আসে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি ও একুশের বইমেলা। বসন্ত আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপর রঙ ছড়ায়। ’৫২ সালের ৮ই ফালগুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।
বসন্তের প্রথম দিনে অসংখ্য রমণী বাসন্তী রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলে। সুশোভিত করে তোলে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরসহ পুরো নগরী। পুরো দেশেই চলে উৎসবের আমেজ। এ পূর্ণতার বসন্তের দোলা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সব বাঙালির ঘরে ঘরে। তবে বাস্তবতার পাথরচাপা হৃদয়ে সবুজ বিবর্ণ হওয়া চোখে প্রকৃতি দেখার সুযোগ পান না নগরবাসী। কোকিলের ডাক, রঙিন কৃষ্ণচূড়া আর আমের মুকুলের কথা বইয়ের পাতায় পড়ে থাকলেও একালের তরুণ-তরুণীরা কিন্তু বসে থাকতে রাজি নন। গায়ে হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি জড়িয়ে তরুণী ও পাঞ্জাবি পরা তরুণরাও এদিন নিজেদের রঙিন সাজে সাজাতে কম যান না। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু, তাই সবারই মনে বেজে ওঠে, কবির এ বাণী- ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে।’
বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবের মাঝে এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এই উৎসব এখন প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন শুরু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। আজ ১লা ফাল্গুনকে উপলক্ষ করে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর চারুকলার বকুলতলা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, রমনা পার্ক, বনানী লেক, ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্র সরোবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ অনেক জায়গায় দিনভর চলবে বসন্তের উৎসব। দিনভর চলবে তরুণ-তরুণীদের বসন্তের উচ্ছ্বাস আর আনন্দ। মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়।
জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ প্রতিবারের মতো এবারও বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছে। চারুকলার বকুলতলায় এবারও জমবে বসন্ত বরণের উৎসব। উৎসব শুরু হবে ভোর থেকে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় থাকছে শাস্ত্রীয় সংগীতের মাধ্যমে বসন্ত বন্দনা, বসন্ত কথন পর্ব। এছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ফুলের প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, আদিবাসী পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, একক আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, দলীয় সংগীত, একক সংগীত, বসন্ত আড্ডা, বাউল সংগীতসহ নানা আয়োজন। সকালে অনুষ্ঠিত হবে বসন্ত শোভাযাত্রা।

“ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ ভালোবাসার ঋতু ঋতুরাজ বসন্ত”

একটু একটু গরম বোধ হচ্ছে আবহাওয়ায়। তবে গরম পড়েছে এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় হয়নি। শেষ রাতে শীত শীত লাগে, পাতলা কাঁথা গায়ে দিতে হয়। তবে ভোরে গায়ে হালকা গরম কাপড় না পরে বেরোনো উচিত নয়। ঠান্ডা লাগতে পারে। যাহোক রোদেলা দিন, আর একটু শীত শীত রাত এখনো উপভোগ করা সম্ভব।

আবহাওয়ায় পরিবর্তন, পরিবর্তন বাতাসে। পরিবর্তনের বাতাস নিয়ে এলো প্রস্ফুটিত পুষ্পের মনোহর রূপ, আমাদের চারপাশে। দিনের আলো আরেকটু বেশি সময় থাকবে। রোদে আরো বেশি সময় থেকে, একটু শীতল রাতের হালকা চাদরের নিচে ঢোকার আনন্দই আলাদা।

বসন্তের ফুল পাঠাল আমার জয়ের মালা। এমন জয়ের মালা পরে ঢুকব ঋতুরাজের ঘরে।

বসন্ত মানে ফাগুন, ফাগুন মানে আগুন। ভালোবাসার আগুন লাগার সময় সর্ব শরীরে। আর ভালোবাসা দিবস তো বসন্তেই। নাচ গান আনন্দে কাটবে সারা দিন। কোনো এক গ্রামে, সহজ সরল মানুষের মাঝে ভালোবাসা দিবসে যাব, আরো ভালোবাসার রঙে রাঙাব নিজেকে। স্বাস্থ্য হবে ভালো, শরীর ও মন হবে উজ্জীবিত।

প্রতিদিন চাই রোদের আলো মাত্রামতো

শীতের নীল দংশন এবার যাবে। বিষণ্ণ দিনগুলোতে ঘুমের যত ঘাটতি তা-ও যাবে। ঝিরঝিরে বাতাসে প্রমোদে ঢেলে দেব মন। শীতের বনে যে কঠিন দিন, সেগুলো পেরিয়ে এলাম তরুণ আলোতে বসে রোদ পোহাতে। প্রচুর পাব ভিটামিন ডি। স্নাত হব-রৌদ্রস্নান করব। ঘরের বাইরে থাকার অজুহাত পাব, যৌক্তিক হবে তা।

কেন অপেক্ষা করে থাকা ওয়ার্কআউটের জন্য

শীতে ছিল খুব শীত, গ্রীষ্মে খুব গরম। তাই বসন্ত হবে শরীর চর্চা উদ্যোগের শ্রেষ্ঠ সময়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের বাইরে শরীরচর্চা ঘরে বসে ঘেমে নেয়ে ওঠার চেয়ে সহস্রগুণ ভালো। রাতের খাবারের পর পায়চারি হোক, ভোরে উঠে হাঁটা বা দৌড়ানো, যাই হোক, ছুটির দিনে কোনো রিসোর্টে গিয়ে হাঁটাপথে হাঁটাই হোক-বসন্ত হলো শ্রেষ্ঠ সময়।

লাবণ্যে পূর্ণ হোক ত্বক

হাড়কাঁপানো শীতের দংশন পেরিয়ে এসে বসন্তের সুবাতাস যখন শরীরে বইছে, তখন শুষ্ক মলিন ত্বক বিদায় হলো, ত্বক পেল লাবণ্য। গ্রীষ্মের দাবদাহে ত্বক ও কেশের ওপর অত্যাচার শুরু করার দিন অনেক বাকি, এখন বসন্ত। দিন হোক আলোয় আলোয় ভরা, ত্বক হোক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

ভিটামিন এখনই আহরণ করা উচিত

এত সুস্বাস্থ্যের বসন্ত, ফল ও টাটকা শাকসবজিতে ভরা, ফুলের সমারোহ যেন চারদিকে। রান্নাতেও পড়বে এর ছাপ। কত রকম রেসিপিতে রান্না হবে শাকসবজি। হবে স্বাদ ও মানে ভালো।

মনও হবে ভালো

<

p style=”text-align: justify;background: white;margin: 0in 0in 7.5pt 0in”>দিনের আলোতে প্রবেশ করার পরপরই, ঘরের বাইরে আসার পর, পার্কে হাঁটব, তাজা বাতাসে শ্বাস নেব, বন্ধুদের সঙ্গে হবে আড্ডা। সবুজের নানা রঙের সমারোহকে ভালোবাসব। প্রবল শান্তি। শিথিলতা। খুব ভালো লাগবে মন।

< p style=”text-align: justify;background: white;margin: 0in 0in 7.5pt 0in”>এবার যাব ঘরে, তবুও মনে থাকবে বসন্ত। বসন্ত মনে, শরীরে, সারা বছর এর রেশ রয়ে যাবে। আরেক বসন্তের অপেক্ষায়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ