,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জাতীয় পার্টি

লাইক এবং শেয়ার করুন

সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তার অধীনে নির্বাচন চেয়েছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও তফসিল ঘোষণার পর সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়। সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির পক্ষে এ দাবি করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে অন্যান্য কমিশনারসহ ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে জাতীয় পর্টির পক্ষে ৮ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। সংলাপ শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে দলীয় প্রস্তাবের কথা ‍উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জাতীয় পার্টির প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। দলটি মনে করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ সাধনের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। ’ বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিএনপির থাকার কোনও সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান সংসদের এমপি এরশাদ।

‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ ইসির এখতিয়ারভুক্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটা তো সরকার করবেন এবং গতবারও তাই করেছিলেন। আশা করি, এবারও করবেন। এটা ওনাদের (ইসি) এখতিয়ারভুক্ত নয়।’ সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দিয়ে সাবেক সেনা প্রধান এরশাদ বলেন, ‘পাবলিক পারসেপশন হলো- সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, আমরাও তাই বলেছি। আমরা বলেছি, যেহেতু জনগণ চাচ্ছে, তাই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হোক।’

এরশাদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছেন। আমি ওনাদের কথায় বিশ্বাস করি, খুবই আশ্বান্বিত। অমার মনে হয়, ওনাদের (ইসি) সদিচ্ছা আছে এবং ওনাদের নাম ওনারা ইতিহাসের পাতায় লিখে যেতে চান। এটা আমি বিশ্বাস করি।’ বিএনপির মতো বৃহৎ দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচনে আসবে বলে আমি আশা করি। বৃহৎ দল কিনা বলতে পারি না। বৃহৎ দল অন্যরাও হতে পারে। আমরাও হতে পারি। এজন্য এটা বলতে পারবো না। তবে সেটা জনগণ ঠিক করবে।’

রাজনৈতিক সংলাপ আরও দরকার আছে কিনা জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘একটা ভালো নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার মনে হয় যথেষ্ট।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরশাদ বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা শিবিরে দু’বার গিয়েছিলাম। ত্রাণ দিয়েছি। কিন্তু, যত রোহিঙ্গা আসছে, আমাদের জন্য এদের ব্যবস্থাপনা করা কঠিন কাজ হবে। আমি দোয়া করি, প্রধানমন্ত্রী যেন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এদের পুনর্বাসন করতে পারেন।’

সংলাপের লিখিত প্রস্তাবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠর করতে হবে। দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনে কোনও বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে রাখা যাবে না।’

দলটি মনে করে, নির্বাচনি ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে- সব খরচ তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করতে হবে। প্রচার কাজের গাড়িবহর সীমিত রাখার বিধান রাখতে হবে। লিখিত প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে বারবার সীমানা নির্ধারণ না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা-উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে আসতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনা করার প্রস্তাব করে বলা হয়, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে সুষ্ঠু নির্বচনের ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন ব্যাপার। এই পদ্ধতিতে সন্ত্রাসী, মাস্তান, কালো টাকার মালিক, অর্থ ও বিত্তের জোরে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন কিংবা নির্বাচনে জিতে আসার সুযোগ রয়ে গেছে। এজন্য নির্বাচন শুধু দলের ভিত্তিতে হতে পারে। অর্থাৎ ভোটাররা দলকে ভোট দেবেন। সরাসরি প্রার্থীকে নয়। পরে প্রত্যেক দল প্রাপ্তভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সদস্য পাবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ