,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বর্ণচোরা আনোয়ারুল আজিম, রাজনৈতিক পরিপক্কতার অভাব

লাইক এবং শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা # বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণেল আনোয়ারুল আজিমের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বিএনপির আভ‍্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সহজ-সরল ভাল মানুষ হিসেবে দল থেকে তাঁর এই পদত‍্যাগে দলের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এই দূর্দিনে যে কোন অজুহাতেই দল থেকে পদত্যাগ করাকে দলের সঙ্গে প্রতারণা ও দলীয় কমিটমেন্টের অভাব বলে মনে করছেন অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ‍্য।

লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন শিল্প ব‍্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আলমগীর। তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাজুল ইসলামের কাছে অল্প ব‍্যবধানে হেরে যান। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রয়াত নেতা কর্ণেল আকবরের সহযোগিতায় দলীয় মনোনয়ন পান এই আনোয়ারুল আজিম। অভিযোগ আছে কর্ণেল আজীম, কর্ণেল আকবরের খালাতো ভাই হওয়ায় দলীয় রাজনীতির সাথে কোন রকমের যোগাযোগ না থেকেও সরাসরি দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নেন তিনি। এতে রাগ-ক্ষোভে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এটিএম আলমগীর।

আজ অবধি তিনি নিষ্ক্রিয়ই রয়েছেন। বিএনপির বিপুল জনপ্রিয়তায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক লোক হয়েও এমপি বনে যান আনোয়ারুল আজিম। কিন্তু ১/১১ সরকারের সময়ে তিনি সংস্কারপন্থী হন। এমনিতেই তৃণমূলের সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল শিথিল, উপরন্তু সংস্কারপন্থী হওয়ায় দলপ্রিয় নেতা কর্মীরা তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হন। মূল বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে তাঁর। তৎকালীন লাকসাম থানার বিএনপি সভাপতি ইন্জিনিয়ার নাসির উদ্দীন ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি অলি উল্লাহ চেয়ারম্যান সহ মূল বিএনপির অংশটাই কোনঠাসা হয়ে পরে। এরপর মালেক-কাঞ্চন-তাহেরের আরেকটি থানা বিএনপির কমিটি হয়। সেই কমিটির সাথেও বনিবনা হয়নি আজীমের।

এর মধ্যে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ান আজীম। পরে সাইফুল ইসলাম হিরু ও ডাঃ নুরুল্লাহ রায়হান দিয়ে লাকসাম থানা বিএনপি এবং হুমায়ুন কবির পারভেজ ও তাজুল ইসলাম খোকনকে দিয়ে পৌর বিএনপির পকেট কমিটি গঠন করেন আজীম। তখন থেকে নাসির,অলি উল্লাহ চেয়ারম্যান, বাদল,চৈতি গ্রুপের আবুল কালাম সহ মূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা কোনঠাসা হয়ে যায়। জাতীয় পার্টি থেকে আগত নব‍্য বিএনপির লোকজন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন আজীমের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,আনোয়ারুল আজিম রাজনৈতিক ভাবে একেবারেই অসাংগঠনিক লোক।

নেতা-কর্মীদের সাথে তাঁর ন‍্যূনতম যোগাযোগটি পর্যন্ত নেই। দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে যুবদল ও ছাত্রদলের থানা কমিটি নেই। আন্দোলন সংগ্রামে তার নেই কোনো ভূমিকা। সাইফুল ইসলাম হিরু জাতীয় পার্টির সাংসদ ছিলেন বলে তিনি আবারও এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বলে জানা যায়। এই নিয়ে আজীমের সাথে তার মানসিক দূরুত্ব গড়ে উঠছিল। তাই হিরুর গুম হয়ে যাওয়ার পিছনে আজীমের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগের তীর খোদ হিরুর পরিবার থেকেই। অতি সম্প্রতি লাকসাম থানা যুবদল ও ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হয়। এর জেড় ধরেই পদত্যাগ করেন আনোয়ারুল আজিম। তাঁর এই পদত‍্যাগ নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নির্বাহী কমিটির এক সদস‍্য বলেন,-” রাজনীতিতে ক্ষমতার উত্থান-পতন,আপ-ডাউন চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। কোন অভিযোগ বা চাহিদার কথা তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জানাতে পারতেন।

তিনি তা না করে সরকারের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করলেন। তাঁর রাজনৈতিক জ্ঞান একেবারেই শূন‍্য। আসলে বলদ দিয়েতো আর হালচাষ হয় না”। অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেননি। তাই যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি গঠণের প্রক্রিয়া সঠিক সময়ে তিনি জানতে পারেন নি বলে অনেকের ধারণা। এই নিয়ে জানতে চাইলে লাকসাম থানা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম বলেন,-“রাজনৈতিক সকল সিদ্ধান্ত সব সময় সকলের মন মতো হয় না। দলের এই দুঃসময়ে যে দল থেকে পদত্যাগ করতে পারে সে সরকারের দালাল। তাঁর এই পদত্যাগ দলের জন্যে সাপে বর হয়েছে বলে আমি মনে করি। ১/১১ এর দালালদের ম‍্যাডাম ক্ষমা করে ভুল করেছেন”। এই নিয়ে কথা বলতে আনোয়ারুল আজিমের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ