,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আ’লীগের নির্বাচনী কৌশলে সামাজিক যোগাযোগ

লাইক এবং শেয়ার করুন

নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা কৌশলের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এ মাধ্যমের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চায় দলটি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মূলধারার গণমাধ্যমে জাতীয় ইস্যুগুলোর আলোচনায় স্থানীয় বিষয়গুলো অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়। ফলে কেন্দ্র থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরতে পুরো দলকে একসাথে কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। আর এক্ষেত্রে সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মত নেটওয়ার্কগুলোর কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা। তাই দলের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাদের এসব মাধ্যমে সক্রিয় করতে নির্বাচনের দেড় বছর আগেই কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার সংসদ সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের তিনদিনের কর্মশালার আয়োজন করে দলটি। সোমবার শেষ হওয়া এ কর্মশালায় ১৩৪ জন সাংসদ অংশ নিয়েছিলেন। মূলত সাংসদদের ব্যক্তি জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে সব এলাকার মানুষের সামনে সরকারের উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, কর্মশালায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ সংসদ সদস্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় নন। কয়েকজন ফেসবুকে সক্রিয় থাকলেও সিংহভাগই টুইটার, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমের ব্যবহার জানেন না। তারা জানান, ফেসবুকে একাউন্ট খুলতে জানেন না এমন সাংসদের সংখ্যাও কম নয়। আবার যারা ফেসবুক ব্যবহার করছেন তারাও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে তেমন সচেতন নয়।

এ বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করা আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের পলিসি এনালিস্ট ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ বলেন, সাংসদদের অনলাইন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে, দলের ওয়েবসাইট, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি যেন তারা সমৃদ্ধ করতে পারেন সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি আমরা। কি করলে এসবের ব্যবহার বাড়বে, কি সুবিধা সেসব হাতে কলমে শিখানো হয়েছে সাংসদদের।

সাংসদদের অনলাইন দক্ষতার বিষয়ে তিনি বলেন, একদিনে তো এসব পাকাপাকি বুঝানো সম্ভব না। বিশেষ করে যারা কম জানে তাদের জন্য, তারা যে একদিনে বুঝে যাবেন তা না। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা তাদের শুরুটা করিয়ে দিতে চেয়েছি। দলের ও সিআরআইএর অনলাইন প্লাটফর্মের সাথে তাদের একটা যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দিতে চেয়েছি, যা তাদের জন্য সহায়ক হবে। বেসিক জ্ঞানটা তাদের দিতে চেয়েছি কর্মশালায়।

শাহ আলী ফরহাদ বলেন, অনেকেই বিশেষ করে যারা প্রবীণ এমপি, তারা নিজের প্রচারে অনীহা প্রকাশ করেন। তারা ভাবেন চুপচাপ ভাল কাজ করবে ভোট পাবেন, প্রচারের কি হল? কিন্তু এখন এমন যুগ যে আপনাকে জানাতে হবে। সাংসদ হিসেবে কি করছেন, সেটা জনগণকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বনেতারা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে তাও সাংসদদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন যে, এ বিষয়টি তাদের শিখতে হবে।

অনলাইন দক্ষতায় পিছিয়ে থাকা সাংসদদের বিষয়ে কর্মশালার পরামর্শের বিষয়ে ফরহাদ বলেন, অনেকের দ্বারাই যে এসব মেইনটেন করা সম্ভব হবে না, সেটা আমরা বুঝতে পারি। তাদেরকে বিশ্বস্তদের দায়িত্ব দিয়ে অন্তত দৈনিক কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

কর্মশালার লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন, এই ৮ বছরে কি সাফল্য আছে তা মাঝে মাঝে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। সাংসদদের নিজ কল্যাণে রাস্তাঘাট, ভাতাসহ কি কি কাজ হয়েছে, কি উন্নয়ন হয়েছে; তা কিভাবে সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরবেন সেসব হাতে কলমে শেখানো হয়েছে। শাহ আলী ফরহাদ বলেন, একেবারে একাউন্টগুলো খুলে দেখানো হয়েছে, যে এভাবে এভাবে কাজগুলো করবেন।

কর্মশালায় শেষ দিন অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি বলেন, যারা জনপ্রতিনিধি তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে আমাদের কথা পৌঁছাতে পারেন। কোথাও কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে সেটা দূর করতে কাজ করতে পারেন। সেই সুযোগটা জনপ্রতিনিধিরা কাজে লাগাতে পারেন। যেন সবাই যথাযথভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারেন সেটাই এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শেখানো হয়েছে।

এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের সফট কপি সাংসদদের প্রদান করা হয়েছে। তবে সাংসদদের অনলাইন দক্ষতায় পিছিয়ে থাকা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অবগত না থাকার বিষয়টি দলকে ভাবাচ্ছে। গত শনিবার দলটির সংসদীয় বোর্ডের সভায় খোদ দলপ্রধান শেখ হাসিনা সাংসদদের নাম ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। যেখানে অধিকাংশ সাংসদই সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। পরে শেখ হাসিনা বলেন, যারা নিজ সরকারের উন্নয়নের কথাই জানে না, তারা সামাজিক মাধ্যমে কি তথ্য তুলে ধরবে।

তবে সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনার বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ওইদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনায় বলেন, সামাজিক মাধ্যমের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, কিন্তু সারাবিশ্বেই বিষয়টি চলে আসছে। আমাদের প্রতিপক্ষরা এসব ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাহলে আমরা এই সুযোগটা কেন নিবো না?

কার্যকরভাবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সাংসদদের মতই পর্যায়ক্রমে ছাত্রলীগসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের ইচ্ছা জানান তিনি। এর আগে কর্মশালার প্রথম দিনে ভোটের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সাংসদদের বলেন, আমাদের তরুণরা কিন্তু এখন খবরের কাগজ পড়েই না। তারা সামাজিক মাধ্যম থেকে তথ্য নিচ্ছে। সেখানে আমাদের উন্নয়নের তথ্যগুলো তুলে ধরতে হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের তৃণমূলকেও সামাজিক মাধ্যম কার্যকরভাবে ব্যবহারে কৌশলী করে তুলতে চায় আওয়ামী লীগ। গণভবনে চলতি মাসের শেষ দিকে এ বিষয়ে তৃণমূলের নেতাদের বার্তা প্রদান করা হতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় দলীয় কার্যালয়ে অত্যাধুনিক কম্পিউটার ও একজন করে বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাদের কর্মকাণ্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ