,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গুরুত্ব বাড়ছে ইসলামী দলগুলোর

লাইক এবং শেয়ার করুন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কাছে গুরুত্ব বাড়ছে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর। অধিকাংশ সময় ক্ষমতার রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দলগুলো অনেকটা অবহেলিত থাকলেও হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে তারা। তবে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ায় হতাশার কথা শুনালেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট শরিকরা। তারা মনে করেন, সরকারের এমন প্রচেষ্টা ভোটের রাজনীতিতে সুফল বয়ে আনবে না। বরং সাম্পদায়িক শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সর্বত্রই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। হঠাৎ করে কেন হেফজতে ইসলামকে এতো গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্নেষণ চলছে। রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতারা মনে করেন, ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের পক্ষে টানার জন্য ইসলামী দলগুলোকে কাছে চাইছে সরকার। অনেকেই মনে করছেন ইসলামী দলগুলো বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সেই সুযোগে সরকারে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে আগামী নির্বাচনের আগে কাছে টানছেন।

জানা গেছে, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজেনৈতিক দল না হলেও তাদের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দলের নেতারাই জড়িত আছেন। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জড়িত খেলাফত মজলিস ও ইসলামি ঐক্য জোটসহ বেশ কয়েকটি ইসলামিক দললের নেতারা আবার ২০ দলীয় জোটের সঙ্গেও আছেন। ধর্মভিত্তিক ইসলামী দল তরিকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুরানো গাঁটছড়া আছে ইসলামী দল জাকের পার্টি।

এদিকে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিও বসে নেই। জাতীয় পার্টিও নতুন জোট করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে ধর্মভিত্তিক বেশকিছু দল যোগ দেওয়ার কথা আছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট আছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আছে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে কোনো জোট নেই। তাই আমরা নতুন জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি যেহেতু ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করে তাই আমাদের জোটে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ২০টির বেশি রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত হচ্ছে।’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সহিংস তাণ্ডবলীলার হোতা শফি হুজুরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে এনে তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘মঙ্গলবার ( ১১ এপিল) গণভবনে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা শফি হুজুরকে ডেকে এনে কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি এবং হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের পক্ষে মত দেন প্রধানমন্ত্রী। মৌলবাদীরা আস্কারা পেয়ে নববর্ষ কর্মসূচির বিরুদ্ধে বক্তৃতা বিবৃতিসহ নানা ঘৃণ্য ঘটনা ঘটিয়েছেন। এহেনও পরিস্থিতিতে সমাজের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার জন্ম হয়েছে। ক্ষমতার রাজনীতিতে কৌশলের নামে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপোষ-আঁতাত দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে নীতি হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাকে গ্রহণ করার ইতিহাস এ উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিরল নয়। কিন্তু পরম লজ্জার বিষয় এই যে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলের প্রধান নেতার কাছ থেকেই আমরা এ ধরনের একটি ভুল বার্তা পেলাম। আমরা আশা করি অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রী এ ভুল সংশোধন করবেন এবং হাইকোর্ট প্রাঙ্গন থেকে ভাস্কর্য অপসারণ করার ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষাকে প্রশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন।’

১৪ দলের আরেক শরিক তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সরকার যদি কোনো কৌশল থেকে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায়, সেটা ঠিক হবে না। এর মাধ্যমে ১৪ দল বা সরকার কোনো অর্জন করতে পারবে না। আর কওমির স্বীকৃতি শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ডের কথা আমরা কোনোভাবে ভুলিনি। আমাদের মনে আছে। আমরা ১৪ দলের অংশীদার আমাদের সাথে আলাপ করে সরকার কিছু করেনি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী যেহেতু করেছে। তিনি আমাদেরও নেত্রী উনাকে আমরা সমর্থন করি। আমরা তরীকত ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও দাবি করেছি। কওমি মাদ্রাসাকে সনদ দিতে হবে। কিন্তু তাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের সনদ দিতে হবে। উনি বলেছেন ঠিক আছে, উনাকে সম্মান করি। আমাদের দাবি থাকে আলোচনা করে তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে যাতে সনদ দেওয়া হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বেধীন ২০ দলীয় জোটে শরিক জমিয়তে ইসলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এটা এডুকেশনাল ব্যাপার। এটা তো ভিন্ন জিনিস। এখানে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়। এখানে বিভিন্ন ফোরামের লোক আছে। রাজনৈতিক দলের বাইরেও লোক আছে।’

সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হচ্ছে এমন গুঞ্জন সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আজকের লোকেদের কথা বলার কোনো মা-বাপ আছে না কি। একটা কথা বলে দিলেই হলো এর কোনো ব্যাখ্যা দায়-দায়িত্ব নেই। এটা লেখাপড়ার ব্যাপার।’ এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও জানান ওয়াক্কাস।

হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানোর বিষয়ে আন্দোলন শুরু করে হেফাজত। গত মঙ্গলবার হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা (ভাস্কর্য) এখানে থাকা উচিত নয়।’ ওই অনুষ্ঠানেই কওমি মাদ্রাসার সনদের সর্বোচ্চ স্তরের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

হেফাজতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে আলোচনা সমালোচনার জবাবে পরবর্তিতে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের রাজনীতির বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণের অনুভূতি ও আবেগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যারা বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারাই এ দেশের সত্যিকারের প্রগতিশীল। বাস্তবতা থেকে প্রগতি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। আমরা তো হেফাজতের আদর্শের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করিনি।’

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে হেফাজত মূল বিষয় নয়, আমাদের মূল বিষয় কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি। এখানে হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনো জোট হয়নি। তাদের (হেফাজত) চিন্তাধারার সঙ্গে আমাদের চিন্তাধারার একটা মিলমিশ হয়ে গেছে, এমন ধারণা কোথা থেকে এল? আমরা বাংলাদেশের ৭০ হাজার কওমি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের তো অবজ্ঞা করতে পারি না।’

ধর্মভিত্তিক দলগুলো কাছে টানা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ভোটের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ থেকে ইসলামী দলগুলোকে বিভিন্ন দল টানার চেষ্টা করছে এটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘তবে আমি মনে করি, রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়। ধর্ম-ধর্মের জায়গায় রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকা উচিত।’

<

p style=”text-align: right;”>সূত্র : পরিবর্তন ডটকম


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ